শিরোনাম
✍️ মোঃ তরিকুল ইসলাম (তুহিন খান)
রাষ্ট্র ধর্মঃযুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় গবেষণা সংস্থা পিউ’র তথ্য মতে, ‘বর্তমানে বিশ্বের মোট জনসংখ্যা ৭.৯ বিলিয়ন। গোটা বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে ২০% দেশের রাষ্ট্রধর্ম রয়েছে। মাত্র ৪৩/৪৪ টি দেশে ধর্মকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৮টি দেশে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। ১৩টি দেশের রাষ্ট্রধর্ম খ্রিস্টান। ভুটান ও কম্বোডিয়ায় রাষ্ট্রধর্ম হল বৌদ্ধ এবং ইসরাইলের রাষ্ট্রধর্ম ইহুদি। তবে সারাবিশ্বের কোনো দেশেই হিন্দুধর্ম রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি।
সুতরাং বোঝা যাচ্ছে বিশ্বের বেশ কিছু দেশে জনসংখ্যা অনুপাতে রাষ্ট্র ধর্ম রয়েছে ।
ধর্ম নিরপেক্ষতাঃ
সকল ধর্মের মানুষ তাদের ধর্ম পালনে সমান অধিকার পাবে । হোক সংখ্যা গরিষ্ঠ বা সংখ্যা লঘু এবং রাষ্ট্র ধর্ম নিরপেক্ষ (সেকুলার) থাকবে কারন রাষ্ট্র কোন ব্যক্তি নয়, একটি ভূখণ্ড।
অতএব, একটি ধর্ম সাংবিধানিকভাবে লিপিবদ্ধ থাকলেও সকলে ধর্ম পালনে সমান অধিকার পাবে।
এরপরেও কারো-কারো মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, রাষ্ট্র কোনো ব্যক্তি নয় এবং যদি রাষ্ট্র একটি ভূখণ্ড হয় ও সকল নাগরিক সমানভাবে ধর্ম পালন করতে পারে তাহলে রাষ্ট্র ধর্মের প্রয়োজন কি ?
আমরা জানি আমাদের রাষ্ট্র ভাষা বাংলা এবং বাংলাদেশে মোট ৪১টি ভাষা রয়েছে এবং প্রতিটি জাতী তাদের নিজস্ব ভাষায় কথা বলার অধিকার রয়েছে। এরপরেও কি সংবিধান থেকে রাষ্ট্রভাষা বাংলা তুলে দেওয়া হবে ? না। কারন বেশীর ভাগ মানুষের ভাষা বাংলা তার জন্য রাষ্ট্রভাষা বাংলা। আপনি গণতান্ত্রিক ভাবে ব্যাখ্যা চাইলেও দেখতে পাবেন যে, রাষ্ট্র ধর্ম বা রাষ্ট্র ভাষার প্রয়োজন আছে। কারন, এগুলো রাষ্ট্রীয় প্রতিক যা বেশীর ভাগ মানুষের পরিচয় বহন করে।
সবশেষে এটাই বলবো, দেশে এতো ভাষা রয়েছে কেউ কাউকে ভাষার জন্য আঘাত করেনি তবে কেনো ধর্ম নিয়ে আমাদের বাড়াবাড়ি ? মনে রাখবেন যদি ধর্ম আপনার ভেতরে বিদ্বেষ তৈরি করে তবে আপনি ধার্মিক নন। সুতরাং দেশের মানুষের জন্য কাজ করুন, সকলকে সহযোগীতা করুন এবং কাউকে আঘাত না করুন, এসকল কাজ হলো ধার্মিকতা।