শিরোনাম
রাকিব খান মেহেন্দিগঞ্জ প্রতিনিধি//বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে নাটকীয় ঘটনা ঘটেছে। মাদকসহ আটকের সময় ‘ডাকাত ডাকাত’ বলে চিৎকার করে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে রাতে অভিযান চালিয়ে মূল আসামি ও তার ছেলেকে ফের গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার ১০নং আলীমাবাদ ইউনিয়নের চরমহিষা গ্রামে অভিযান চালায় মেহেন্দিগঞ্জ থানা পুলিশ।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিন উদ্দিনের নির্দেশে এসআই মো. রুবেল খানের নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স ওই গ্রামের মৃত আব্দুর রব তালুকদারের ছেলে কথিত মাদক সম্রাট হাকিম তালুকদার (৪৩) কে তার বসত ঘরের পশ্চিম পাশের বাগান থেকে আটক করে। এসময় তার কাছ থেকে ২০ গ্রাম গাঁজা ও ১০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানায়, আটকের সাথে সাথেই কৌশল হিসেবে হাকিম ‘ডাকাত ডাকাত’ বলে চিৎকার শুরু করে। তার চিৎকারে তার স্ত্রী ও দুই ছেলে লাঠিসোঁটা নিয়ে এসে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। তারা পুলিশকে ডাকাত আখ্যা দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে হাকিমকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
হামলায় গুরুতর আহত হন কনস্টেবল রাসেল। তাকে বরিশালের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া আহত হন এসআই আজাদ, কনস্টেবল ফিরোজ মোল্লা ও কনস্টেবল রায়হান।
হামলাকারীরা হলেন – হাকিমের স্ত্রী, বড় ছেলে মো. সাব্বির হোসেন (২২) এবং ছোট ছেলে সাইফুল ইসলাম তালুকদার (১৫)।
ঘটনার পর পুলিশ পিছু হটেনি। রাত সোয়া ৮টার দিকে পার্শ্ববর্তী চরডাইয়া এলাকায় স্থানীয়দের সহায়তায় ফের অভিযান চালিয়ে মূল আসামি হাকিম তালুকদার ও তার ছেলে সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়।
থানা পুলিশ জানায়, হাকিমের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা রয়েছে এবং সে একাধিকবার গ্রেফতার হয়েছিল।
এ ঘটনায় থানা পুলিশ বাদী হয়ে দুটি মামলা দায়ের করেছে। একটি মাদক আইনে এবং অন্যটি সরকারি কাজে বাধা, পুলিশের ওপর হামলা ও আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে। এতে ৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মেহেন্দিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মমিন উদ্দিন বলেন, “পুলিশকে ডাকাত বলে অপপ্রচার চালিয়ে আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মাদক নিয়ন্ত্রণে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।