শিরোনাম
বিশেষ প্রতিনিধি :: বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলার বড়জালিয়া গ্রামের বাসিন্দা ২০২৪ ছাত্র জনতার”গণ অভ্যুত্থানে” আহত এক জন গেজেট ভুক্ত জুলাই যোদ্ধা। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ইসলামের ইতিহাস সংস্কৃতি বিভাগে। জুলাই আগস্ট “গণ অভ্যুত্থানের সময় থাকতেন ফার্মগেট পূর্ব রাজা বাজার। ২০২০ সালে ও ২০২৩ সালে প্রাইমারি সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ভাইবা দিয়েও চূড়ান্ত রেজাল্ট এ অকৃতকার্য থাকেন কোটা পুনর্বহাল থাকার কারণে।
যে দিন ১৬ জুলাই আবু সাঈদ মারা গেলো সে দিন আর নিজেকে ঘরে ধরে রাখতে পারেন নি। নেমে পড়লেন রাজপথে । আর এ আন্দোলন করতে গিয়েই তার জীবনে নেমে আসে অন্ধকারাচ্ছন্ন এক কালো দিন।
গণ অভ্যুত্থানের দুই বছরেও এখনও তিনি সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি। কারণ ১৮ জুলাই ২০২৪ কম্পিলিট শাটডাউন এর সময় ঢাকা কাওরান বাজার মেট্রোরেল এর নিচে আওয়ামীলীগ, ছাত্র লীগ, যুবলীগ,পুলিশ, আনসার একজোট হয়ে আন্দোলন রত ছাত্র ছাত্রী শিক্ষার্থীদের উপর টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট, সাউন্ড গ্রেনেড, লাঠি চার্জ, রামদা, হকিস্টিক ও গুলি বর্ষন করে আন্দোলন কে ছত্র ভঙ্গ করতে চাইলে। তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে নেতৃত্ব দিয়ে আন্দোলন চাঙ্গা করে তুলেন। এবং হাসিনার পোষা সন্ত্রাসী বাহিনী দ্বারা হকিস্টিক এলোপাতাড়ি বাড়ি তার ডান গলায় লাগে এবং ফুলে ওঠে টিয়ার গ্যাসে তার চোখ ঝলসে ও লাল হয়ে যায় ও জ্বালাপোড়া করে। সে দিন অনেকের এই গায়ে, পিঠে ও পায়ে গুলি খেয়ে ও চোখ হারিয়ে রাস্তায় কাতরাচ্ছিলেন তাদের মধ্য দুই জন কে রিক্সা করে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। ও তিন জন কে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দেন। তিনি আহত হয়ে প্রথমে বিআরবি হাসপাতাল পান্থপথ ডাক্তার দেখান এবং টেস্ট এর মাধ্যমে জানতে পারেন হকিস্টিক এর আঘাতে রগ ছিঁড়ে পানি জমে ফুলে উঠেছে।পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দীর্ঘ দুই মাস ভর্তি থাকেন। তার অপারেশনে ডান গলায় দশ ইঞ্চি পরিমাণ সেলাই দেওয়া হয়। পাঁচ জন ডাক্তার দীর্ঘ সময় ধরে সার্জারি করেন এবং দুই ব্যাগ রক্ত লাগে। গণ অভ্যুত্থানে আহত বলে উন্নত খাবার ফ্রী চিকিৎসা ওষুধ কেবিনের ব্যবস্থা করেন বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু গণ অভ্যুত্থানের দুই বছর হলে ও এখনও তিনি সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন নি।
আহত রিয়াজ উদ্দিন বলেন। আমি ঘুমাইলে উঠতে গেলে গলায় টান লাগে। শোয়া থেকে আরেক জনের সাপোর্ট ছাড়া স্বাভাবিক ভাবে উঠতে পারি না । ঘাড় ঘুরাতে কষ্ট হয়। আমার পক্ষে ভারী কোনো কাজ ও মাথায় ভারী কোনো বোঝা বহন করা সম্ভব না। আন্দোলনে গিয়ে আমি এখনও চোখে ঝাপসা দেখতে পাই চোখ দিয়ে পানি পড়ে। গণ অভ্যুত্থানে আহত হওয়ার কারণে আমার রেস্টুরেন্ট ম্যানেজার চাকরিটা চলে যায়। যার বেতন ছিলো ত্রিশ হাজার টাকা। বর্তমানে আমি অসুস্থ হয়ে পরিবার নিয়ে আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছি এবং গুরুতর আঘাত প্রাপ্ত হওয়ার পরেও আমাকে “সি” ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বরিশাল সিভিল সার্জন অফিসে ক্যাটাগরি চেঙ্গ এর জন্য আবেদন করলে দুই দফায় মেডিকেল বোর্ড যাচাই বাছাই করে, আমাকে আশ্বাস দিয়ে ছিলো। যদি তিন মাসে সুস্থ না হই তা হলে তারা ক্যাটাগরি পরিবর্তনের জন্য পূর্ণ বিবেচনায় নিবে। আজ ২০২৬ সাল আগষ্ট মাস হতে চলল এখনও আমি সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারিনি।২৪ জুলাই গণ অভ্যুত্থানে যেসব ভাইয়েরা শহীদ হয়েছেন তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। আর যেসব আহত ভাইয়েরা এখনো হাসপাতাল বা বাড়িতে অসুস্থ হয়ে জীবন যাপন করছেন তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।