শিরোনাম
জুবায়ের ইসলামঃ ফুটবল যদি কোন শৈল্পিক কারুকার্য হয় তাহলে নান্দনিক সেই শিল্পীর নাম হবে লিওনেল মেসি। আর ফুটবল যদি কোন রূপকথার গল্প হয় তবে অবধারিতভাবে সেই গল্পের রাজপুত্রের নামও হবে ঐ মেসি।
ম্যারাডোনার যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে সব কিছুতেই সমানে সমান এগিয়ে রয়েছে ফুটবলের বরপুত্র ভিনগ্রহের ফুটবলার মেসি।
কি নেই তার ব্যক্তিগত ঝুলিতে টানা ৫ বার বর্ষসেরা ফুটবলারের তকমা, ৭বার ব্যালনডিঅর, ৩ বার গোল্ডেন বুটসহ শত শত অর্জনের পরেও শুধু বিশ্বকাপের ঐ একটা ট্রফিই যেন মেসিকে সেরাদের সেরা হতে দেয় না।
মেসির হাতে সোনালী ট্রফিটা না ওঠা পর্যন্ত অপূর্ণ থেকে যাবে ফুটবলের প্রকৃত সৌন্দর্য।
২০১৪ বিশ্বকাপে খুব কাছে গিয়েও স্বপ্নের ট্রফিটা ছুয়ে দেখা হয়নি সর্বকালের সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসির। সেদিন মারাকানায় মেসিদের বুকফাটা কান্না আর ভিতরের রক্তক্ষরন কাঁদিয়েছে তাদের কোটি কোটি ভক্ত সমার্থকদের।
তবে সর্বশেষ দুটি ট্রফি জিতেছে ১৯৭৮ ও ১৯৮৬ বিশ্বকাপ জয়ী দেশ মেসির আর্জেন্টিনা। ব্রাজিলকে হারিয়ে ২০২১সালে কোপা আমেরিকা এবং ২০২২ সালে ইতালিকে হারিয়ে ফিনালিসিমা কাপ জিতেছে আলবিসেলেস্তেরা।
কোচ লিওনেল স্কালোনির আমলেই পর পর ২টি ট্রফি নিজেদের ঘরে তুলেছে ফুটবল পরাশক্তির দেশ আর্জেন্টিনা। এদিকে ২০১৯ সাল থেকে টানা ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে দেশটি।
জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেই কাতার বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত হাট ফেবারিটের তালিকায় স্কালোনির শিষ্যরা।
কাতারে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখেই ২২নভেম্বর গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে মাঠে নামবে টিম আর্জেন্টিনা।
সেই লক্ষে মেসি, ডি মারিয়া, মার্টিনেস,দিবালাসহ সকল খেলোয়াড়দের নানানভাবে ঝালিয়ে নিয়েছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি।
বিশ্ব জয়ের মিশনে আর্জেন্টিনা শিবিরে সবচেয়ে বড় ধাক্কা ইনজুরি। এই ইনজুরির কারনে ইতোমধ্যে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছে লো-সেলসোসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু খেলোয়াড়।
তারপরেও বিভিন্ন জল্পনা কল্পনার অবশান ঘটিয়ে শক্তিশালী স্কয়াট ঘোষণা করেছে কোচ স্কালোনি। এখন দেখার বিষয় কতটা নিখুঁত খেলার মাধ্যমে সোনালী ট্রফিটা নিজেদের ঘরে নিতে পারে দেশটি।
বিশ্বের কোটি মানুষের প্রিয় খেলোয়াড় লিওনেল মেসি ও তার বাহিনীর দিকে তাকিয়ে থাকবে বাংলাদেশের কোটি ফুটবল প্রেমিসহ পুরো বিশ্ব। শুধু একটাই কামনা মেসির হাতেই যেন শোভা পায় বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফি।