শিরোনাম
রহমত,মাগফিরাত ও নাজাত নিয়ে এলো মাহে রমজান,”রমজান মাস হচ্ছে সেই মাস যে মাসে কুরআন নাজিল হয়েছিল; মানবজাতির জন্য কোরান একটি হেদায়েত এবং হেদায়েতের সুস্পষ্ট প্রমাণ এবং মানদণ্ড (সঠিক ও ভুলের)।
তোমাদের মধ্যে যদি কেউ বেঁচে থাকে তবে এই মাসে রোজা রাখ এবং আর যে লোক অসুস্থ কিংবা মুসাফির অবস্থায় থাকবে সে অন্য দিনে গণনা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য স্বাচ্ছন্দ্য চান; তিনি তোমাদের জন্য কষ্ট না চান; আর এটাই যে, তোমার সময়কাল পূর্ণ হবে এবং তোমাদেরকে সৎপথে পরিচালিত করিবার কারনে আল্লাহকে মহিমান্বিত করতে হবে এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পার।[কুরআন ২:১৮৫]
আরো দেখুণ: এই গরমে সুস্থ এবং প্রানবন্তর রাখবে যেসব ফলমূল!
আরো দেখুণ: চুল পড়া বন্ধ করবে যে ১০ খাবার
প্রিয় নবীজি (সা.) এর প্রিয় সাহাবী হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেছেন, রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, যখন রমজান মাস আসে আসমানের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং দোজখের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়, আর শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয়। (বুখারী, মুসলিম)
অপর হাদিসে এসেছে, হযরত সাহ্ল ইবনে সা’দ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম (সা.) এরশাদ করেছেন, বেহেশতের ৮টি দরজা রয়েছে। এর মধ্যে ১টি দরজার নাম রাইয়ান। রোজাদার ব্যতিত আর কেউ ওই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। (বুখারী, মুসলিম)
বিখ্যাত হাদিস বিশারদ সাহাবী হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেছেন, হুজুর (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের নিয়তে রমজান মাসের রোজা রাখবে তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের নিয়তে রমযান মাসের রাতে এবাদত করে তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের নিয়তে কদরের রাতে ইবাদত করে কাটাবে তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। (বুখারী, মুসলিম)
হাদিসে আরো এসেছে, রাসুল (সা.) বলেন, আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেছেন, রোজা ছাড়া আদম সন্তানের প্রত্যেকটি কাজই তার নিজের জন্য। তবে রোজা আমার জন্য। আমি নিজেই এর পুরস্কার দেব। রোজা (জাহান্নামের আজাব থেকে বাঁচার জন্য) ঢাল স্বরুপ।
তোমাদের কেউ রোজা রেখে অশ্লীল কথাবার্তায় ও ঝগড়া বিবাদে যেন লিপ্ত না হয়।
কেউ তার সঙ্গে গালমন্দ বা ঝগড়া বিবাদ করলে শুধু বলবে, আমি রোজাদার।
সেই মহান সত্তার কসম যার করতলগত মুহাম্মদের জীবন, আল্লাহর কাছে রোজাদারের মুখের গন্ধ কস্তুরীর সুঘ্রানের চেয়েও উওম।
রোজাদারের খুশির বিষয় ২টি- যখন সে ইফতার করে তখন একবার খুশির কারণ হয়। আর একবার যখন সে তার রবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে রোজার বিনিময় লাভ করবে তখন খুশির কারণ হবে। (বুখারী)।
অপর একটি হাদিস হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন, রাসুলে পাক (সা.) বলেছেন, রোজা এবং কোরআন (কেয়ামতের দিন) আল্লাহর কাছে বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোজা বলবে, হে পরওয়ারদিগার! আমি তাকে (রমজানের) দিনে পানাহার ও প্রবৃত্তি থেকে বাধা দিয়েছি। সুতরাং তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। কোরআন বলবে, আমি তাকে রাতের বেলায় নিদ্রা হতে বাধা দিয়েছি।
সুতরাং আমার সুপারিশ তার ব্যাপারে কবুল করুন। অতএব, উভয়ের সুপারিশই কবুল করা হবে (এবং তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে)। (বায়হাকী)
হাদিস শরীফে রোজাদারের জন্য ৫ টি পুরুস্কারের বিষয় বর্ণিত হয়েছেঃ
হজরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্নিত আছে,নবী করিম (সঃ) ইরশাদ করেছন, পবিত্র রমজান উপলক্ষে আমার উম্মাত কে ৫টি বস্তুু দেওয়া হয়েছে যাহা পূর্ববর্তী উম্মাতগনকে দেওয়া হয় নাই।
১/ রোজাদারের মুখের ঘ্রাণ আল্লাহর নিকট মৃগনাভি হইতেও অধিক পছন্দনীয়।
২/ সমুদ্রের মৎস্য ও রোজাদারের জন্য ইফতার পর্যন্ত দোয়া করতে থাকে।
৩/ জান্নতকে প্রতিদিন রোজাদারের জন্য সজ্জিত করা হয় এবং আল্লাহ পাক বলেন, বান্দাগন দুনিয়াবি ক্লেশ যাতনা দূরে নিক্ষেপ করিয়া অতি শীঘ্র আপনার নিকট আসিতেছে।
৪/ রমজানে দুবৃও শয়তান কে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। যার কারনে সে ঐসব পাপ করাইতে পারে না, যাহা অন্য সময় করানো সম্ভব ।
৫/ রমজানের শেষ রাতে রোজাদারের গোনাহ মাফ হইয়া যায়। সাহাবীরা আরজ করলেন, এই ক্ষমা কি শবে ক্বদরে হইয়া থাকে? নবীকরিম( সঃ) বল্লেন না, বরং নিয়ন হইল, মজদুর কাজ শেষ করিবার পরই মজুরী পাইয়া থাকে। ( বায়হাকী)
আল্লাহ আমাদের কে মাহে রমজানের রহমত, বরকত, মাগফিরাত,ও নাজাত লাভ করার তাওফিক দান করুক। আমিন
সুপার
আল-হেরা দাখিল মাদ্রাসা
পটুয়াখালী