শিরোনাম
মোঃ শাহিন আলম পটু্য়াখালী প্রতিনিধি ঃ ইসলামে নারী পুরুষের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য বিয়েই হচ্ছে একমাত্র বৈধ উপায়, একমাত্র বিধিবদ্ধ ব্যবস্হা। ধর্ম কর্ম সম্পাদনের জন্য যেমন মানব দেহের স্হিতির দরকার এবং সে স্থিতি পানাহার ছাড়া সম্ভব নয়। তদ্রূপ ধর্মপথে মানব বংশের স্হায়িত্ব নিতান্ত প্রয়োজনীয় এবং সে স্থায়ীত্ব দার পরিগ্রহ ছাড়া সম্পূর্ণ অসম্ভব।
বিয়ে ছাড়া অন্য কোনো ভাবে নারী পুরুষের মিলন ও সম্পর্ক স্হাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিয়ে হচ্ছে পুরুষ ও নারীর মাঝে সামাজিক পরিবেশে ও সমার্থনে শরীয়ত মুতাবেক অনুষ্ঠিত এমন এক সম্পর্ক স্হাপন, যার ফলে দুজনের একত্রে বসবাস ও পরস্পর যৌন সম্পর্ক স্হাপন সম্পূর্ণরূপে বৈধ হয়ে যায়। এমনকি পরস্পরের ওপর অধিকার আরোপিত হয় এবং পরস্পরের মধ্যে দায়িত্ব ও কর্তব্য অবশ্য পালনীয় হয়ে দাড়ায় । সুতরাং বিবাহ বন্ধন হচ্ছে মানব জাতির অস্তিত্বের মূল কারণ।
কুরআন শরীফে এই বিয়ে ও স্ত্রী গ্রহণের ব্যবস্হাকে নবী ও রাসূলগনের প্রতি আল্লাহ তালার এক বিশেষ দান বলে উল্লেখ করা হয়েছে। “হে নবী! আপনার পূর্বেও আমি অনেক নবী রসূল পাঠিয়েছি এবং তাদের জন্য স্ত্রী ও সন্তানের ব্যবস্হা করে দিয়েছি। (সূরা ‘ আর রায়াদ’)
বিয়ে দাও তোমাদের এমন সব ছেলে মেয়েদের, যাদের স্বামী বা স্ত্রী নেই, বিয়ে দাও তোমাদের দাস দাসীদের মধ্যে যারা বিয়ের যোগ্য হয়েছে। ( সূরা আন্ নূর)
নবী করিম (সঃ) ইরশাদ করেছেনঃ চারটি কাজ নবীগনের সুন্নতের মধ্যে গন্য, আর তা হচ্ছে
১/ সুগন্ধি ব্যবহার করা
২/ বিয়ে করা
৩/ মিস্ওয়াক করা
৪/ খাতনা করা
উদ্বৃত সুরা আন্ নূরের আয়াতের ব্যাখ্যায় আল্লামা জালালুদ্দিন (রঃ) বলেন, যার স্বামী বা স্ত্রী নেই ‘ মানে যাকে আদৌও বিয়ে দেওয়া হয়নি যারা কুমার বা কুমারী, তাদের সকলকেই বিয়ের ব্যবস্তা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তার মানে একবারও যাদের বিয়ে হয়নি তাদের জন্য বিয়ের ব্যবস্হা তো করতেই হবে, তেমনি যাদের একবার বিয়ে হয়েছে, কিন্তুু তালাক বা যেকোনো কারণে এখন জুড়িহারা তাদেরও বিয়ে দেওয়ার ব্যবস্হা করতে হবে। একবার বিয়ে হলে পরে কোন কারনে স্বামীহারা বা স্ত্রীহারা হলে পুনরায় তার বিয়ের ব্যবস্হা না করা কিংবা বিয়ে করতে রাজি না হওয়া আল্লাহর নির্দেশের পরিপন্থি। বিয়ের যোগ্য হয়েও কেউ যাতে অবিবাহিত ও অকৃতদার হয়ে থাকতে না পারে, তার ব্যবস্হা করাই ইসলামের লক্ষ্য। কেননা অকৃতদার জীবন কখনো পরিতৃপ্ত ও পবিত্র জীবন হতে পারে না। তবে যে লোক বিয়ে করতে সমর্থ রাখে না তার কথা স্বতন্ত্র।
একবার কিছু সংখ্যক সাহাবী সারা রাত দিন ধরে ইবাদত করার, সারা রাত জেগে নামাজ পরার, সারা বছর ধরে রোজা রাখার এবং বিয়ে না করার সংকল্প গ্রহন করেন। নবী করিম (সঃ) এসব কথা শুনতে পেয়ে অত্যন্ত অসন্তুষ্ট হন এবং রাগত স্বরে বলেনঃ তোমরা কি এ ধরনের কথাবার্তা বলনি? আল্লাহর কসম, একটা কি সত্যি নয় যে, আমিই তোমাদের তুলনায় আল্লাহকে বেশি ভয় করি, আমিই তোমাদের চেয়ে বেশি আল্লাহর নাফরমানী থেকে বঁচে থাকি? কিন্তু তা সত্ত্বেও আমি রোযা থাকি, রোযা ভঙ্গও করি, নামাজ পড়ি, শুয়ে নিদ্রাও যাই এবং রমণীদের পানিও গ্রহন করি। এটা হচ্ছে আমকর নীতি আদার্শ, আর যে লোক আমার নীতি আদার্শ থেকে বিচ্যুত হবে,সে আমার উম্মতের মধ্যে গণ্য নয়। (বুখারীর শরীফ)
হযরত আনাস (রাঃ) বলেন, নবী করিম (সঃ) আমাদেরকে বিয়ে করতে আদেশ করতেন, আর অবিবাহিত নিঃসঙ্গ জীবন যাপন করা থেকে খুব কঠোর ভাবে নিষেধ করতেন। ( মুসনাদে আহমদ)
বস্তুত বিয়ে স্বভাবের দাবি, মানব প্রকৃতিতে নিহিত প্রবণতার স্বাভাবিক প্রকাশ, মানব সমাজের দৃষ্টিতেও অত্যন্ত জরুরী। এ জন্য নবী করিম (সঃ) সমাজের যুবক যুবতীদের লক্ষ্য করে বলেছেন, হে যুব সমাজ! তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ের সমার্থ্য রাখে, তারা যেন বিবাহ করে, কেননা বিয়ে দৃষ্টির নিয়ন্তণকারী, যৌন অঙ্গের পবিত্রতা রক্ষাকারী।আর যে সমার্থ রাখেনা সে যেন রোযা রাখে, রোযা হবে তার ঢাল স্বরূপ।
কিন্তু বিয়ে করা যে মানুষের সভাবের এক প্রচন্ড দাবি, তা বিশ্বের সকল বিঙ্গানীই স্বীকার করেছেন । গ্রীক বিঙ্গানী জালিনুস বলেছেনঃ প্রজনন ক্ষমতার উপর আগুন ও বায়ুর প্রভাব রয়েছে, তার স্বভাব উষ্ণ ও সিক্ত। এর অধিকাংশই যদি অবরুদ্ধ হয় এবং দীর্ঘদিন পর্যন্ত অবরুদ্ধ থাকে, তাহলে, নানা ধরনের মারাত্মক রোগ জন্মিতে পারে। তবে প্রজনন ক্ষমতার সুস্হ বহিস্কৃত ভালো স্বাস্হের কারন হয়। অনেক প্রকার রোগ থেকেও সুরক্ষিত থাকতে পারে। এজন্য চিকিৎসা বিঙ্গান ভাষায়,শুক্রের প্রজনন ক্ষমতা যখন দেহে খুব বেশি হয়ে যায়, তখন তা বের হতে না পারলে মগজে তার বাম্প উত্থিত হয়, এতে করে নানাধরণের সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে।
তাই সুস্থ, মার্জিত,সুন্দর সমাজ গঠনে প্রাপ্তবয়স্ক যুবক যুবতীদের বিবাহ বন্ধনের মাধ্যমে ধর্ষন মুক্ত বিশ্ব গড়ার সময়ের দাবি।