শিরোনাম
দেশের উত্তরাঞ্চলের বন্যার পানির ঢল, অমাবশ্যার জোয়ারের প্রভাব এবং অতিবৃষ্টির কারণে দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীর পানি গত কয়েকদিন ধরেই বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে নদী তীরবর্তী অঞ্চলসহ নগরের বেশিরভাগ এলাকার বাড়ি-ঘর, সড়ক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে গেছে।
আবার ভাটার সময় পানি দ্রুত নামতে না পাড়ায় অনেক স্থানেই সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতার। এ অবস্থায় বরিশাল নগর ও এর বাসিন্দাদের জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষায় কীর্তনখোলা নদীর সঙ্গে সংযোগ থাকা পাঁচটি খাল পুনঃখনন করার কথা জানিয়েছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কর্ণেল (অবঃ) জাহিদ ফারুক শামিম।
শনিবার (২২ আগস্ট) বরিশাল নগরের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।
ওই সময় তিনি বলেন, বরিশাল শহরের জলবদ্ধতা নিরসন করার জন্য একটি প্রকল্প দ্রুত দেওয়ার জন্য প্রধান প্রকৌশলীকে বলা হয়েছে। যে পাঁচটি খাল দিয়ে নদীর পানি শহরের ভেতরে প্রবেশ করে সেগুলোকে পুনঃখনন করতে হবে এবং স্লুইজ গেট দেওয়া হবে। যার মাধ্যমে পানি শহরের মধ্যে ঢুকতে না পারে কিন্তু শহর থেকে পানি বের হতে পারে। এছাড়া উচু করে ফ্লাট ওয়ালও দেওয়া হবে যেন জোয়ারের সময় পানি এসে শহরে না ঢুকতে পারে। আর এটা হলে বরিশাল শহর নদীর পানিতে প্লাবিত হবে না। বরিশালবাসীকে আগামী ২/৩ বছরের মধ্যে একটি সুন্দর শহর উপহার দিতে পারবো।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আবহাওয়ারও পরিবর্তন হচ্ছে। বৃষ্টিপাতের পরিবর্তন হচ্ছে, শুষ্ক মৌসুমে বৃষ্টি, নদীর তীরের ভাঙন হচ্ছে। আর আমরা ভাটির দেশের মানুষ, আমাদের উজানে ভারত, নেপাল, ভূটান, চীন অবস্থিত। জলবায়ু বৃষ্টির পানি উজানের দেশ থেকে ভাটিতে এসে বঙ্গোপসাগরে চলে যায়। আর সেখান থেকে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে দুই বিলিয়ন মেট্রিকটন পলি মাটি আমাদের দেশে আসছে। পলি আসাতে আমাদের নদীর নাব্যতা নষ্ট হয়। আমরা ড্রেজিং করলেও ছয় মাসের মধ্যে নদীগুলো পূর্বের অবস্থায় থাকে না, পরিবর্তন হয়ে যায়। যার জন্য বর্ষার সময় প্রচুর বৃষ্টিহলে পানিতে পুরো এলাকা প্লাবিত হয়।
এসময় মন্ত্রী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী ডেল্টা প্লান ২১ এর আঙ্গিকে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। বড় বড় নদী যেগুলো ৯-১২ কিলোমিটার প্রস্থ সেগুলোকে আমরা ছোট করে ৫-৭ কিলোমিটারের ভেতরে নিয়ে আসবো। তারপর ড্রেজিং করে তার মাটি দিয়ে দুইপারের জমি রিক্লেম করবো। সেখানে আমরা ফসল উৎপাদন করবো এবং কিছু কিছু জায়গাতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্লট দেওয়া হবে। যেখানে শিল্প কারখানা হবে, এলাকার লোকজনদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। কিন্তু সে সমস্ত এলাকাতে আমরা কোনো বসতি গড়তে দেবো না। আর সেখানে নির্ধারিত জায়গাতে বাঁধ দিয়ে বনায়নও করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, ড্রেজিং করে নদীর প্রস্থ যদি কমিয়ে নিয়ে আসতে পারি, তাহলে আমরা সেগুলোতে নিয়মিতো খনন কাজ চালিয়ে যেতে পারবো। তাহলে এখনকার মতো বন্যা হবে না। তবে মনে রাখতে হবে, আমরা ভাটির দেশের মানুষ। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমাদের ভাটির দেশে এ ধরনের পানি আসবে। তবে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি মানুষের দুঃখ-কষ্ট যতো কমানো যায়।
তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি নদীকে ড্রেজিং করে, শাসন করে, নদীর গতিবিধিটাকে সুন্দর ও সোজা করতে। পলি পড়ার কারণে নদীর ভেতরে ডুবন্ত চর হয়, এটা খালি চোঁখে দেখা যায় না। তখন পানির স্রোতের ধারা পরিবর্তন হয়ে যেদিকে যাবে সেদিকের পার ভাঙতে থাকবে। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস আগামী ৩-৪ বছরের মধ্যে অবস্থানটা সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে।