শিরোনাম
হাসনাইন আহমেদ: ভোলায় নানুর কোলে এক দিনের নবজাতক রেখে পরীক্ষা দিলেন মা।বৃহস্পতিবার (১০নভেম্বর) সকালে ভোলার ইলিশা ইসলামিয়া মডেল কলেজর পরিক্ষা কেন্দ্রে ইংরেজী প্রথমপত্র লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন নবজাতক শিশুর মা মারিয়া ।
মারিয়ার স্বামী কবির জানায়, ৮ আগস্ট ২০২০ সালে পারিবারিক ভাবে কবির ও মারিয়ার বিয়ে হয়।
চলতি বছরের ৯ নভেম্বর রাতে ভোলা শহরের যুঘিরঘোল ইউনাইটেড ক্লিনিকে সেমি সিজারে মারিয়া ছেলে সন্তান জন্ম দেন। এটা মারিয়া দম্পতির প্রথম সন্তান বলেও জানান তিনি।
তৃতীয় দিনের পরীক্ষা শেষে কথা হয় পরীক্ষার্থী মারিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন,পরীক্ষা ভালোই দিচ্ছি। এখানে স্যারদের সহযোগিতা পাচ্ছি। কিন্তু অনেকক্ষণ বসে থেকে পরীক্ষা দিতে হয় বলে শারীরিক কিছু সমস্যা হয় মাঝেমধ্যে।’
তিনি বলেন, ‘আমার মা পরীক্ষার সময় আমার ছেলের দেখভাল করছেন। আমার ইচ্ছা পড়াশোনাটা শেষ করবো। এজন্যই শারীরিক কষ্ট সত্ত্বেও পরীক্ষা দিচ্ছি।’
নবজাতকের নানু সিমা বেগম বলেন, ‘আমার মেয়ে মারিয়া খুবই ভালো ও মেধাবী শিক্ষার্থী। তার ইচ্ছাশক্তিও প্রবল।তার সাহসেই আমরা সাহস পেয়েছি। তার শশুর শাশুড়ী আত্মীয় স্বজনেরা তাকে সাহস দিচ্ছি সবসময়। সে যে পর্যন্ত পড়াশোনা করতে চায় আমরা তার পাশে থাকবো।’
তিনি বলেন, ‘সে যখন পরীক্ষা দেয় তখন আমি পরীক্ষা কেন্দ্রেই নাতি নিয়ে বসে থাকি। আমাকেও কেন্দ্রে আগত অন্যান্য অভিভাবক ও শিক্ষকরা সহযোগিতা করছেন। বাচ্চা মাঝেমধ্যে কান্নাকাটি করলেও মায়ের পরীক্ষায় কোনো সমস্যা হচ্ছে না।’
ইলিশা ইসলামিয়া মডেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজহারুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষার্থী মারিয়ার মায়ের কাছে বাচ্চা রেখে পরীক্ষা দেওয়ানোর ব্যবস্থা করেছি। তার পরীক্ষা দেওয়ায় যাতে কোনো সমস্যা না হয় আমরা সেদিকে খেয়াল রাখছি।