শিরোনাম
জনি আলমগীর কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে প্রায় ৫৬ ফুট দীর্ঘ একটি বিশালাকৃতির মৃত বেলিন তিমি ভেসে এসেছে। সোমবার (২৯ জুন) দুপুর ১২টার দিকে কাউয়ার চর বসুধা আইল্যান্ড-সংলগ্ন সৈকতে তিমিটির সন্ধান পান উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন (উপরা)-এর সদস্যরা। খবর ছড়িয়ে পড়লে তিমিটিকে একনজর দেখতে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের ভিড় জমে।
বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশন (বিবিসিএফ)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপরার আহ্বায়ক কেএম বাচ্চু জানান, সকালে স্থানীয় ট্যুর গাইড তরিকুল ইসলাম প্রথম তিমিটিকে দেখতে পেয়ে তাদের খবর দেন। পরে বিষয়টি বন বিভাগকে অবহিত করা হয়।
তিনি জানান, মৃত তিমিটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৬ ফুট এবং প্রস্থ প্রায় ১৬ ফুট। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় এক সপ্তাহ আগে তিমিটির মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
উপকূল ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, কুয়াকাটা উপকূলে এর আগে ২০১৮ ও ২০২২ সালে একটি করে তিমি এবং চলতি বছরের ৩ জুন আরও একটি মৃত তিমি ভেসে এসেছিল। অল্প সময়ের ব্যবধানে তিমি, ডলফিন ও সামুদ্রিক কচ্ছপের মৃতদেহ উপকূলে ভেসে আসার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এসব মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সমন্বিত বৈজ্ঞানিক গবেষণার দাবি জানান তিনি।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স এবং মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক রাজীব সরকার বলেন, বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণে প্রাথমিকভাবে এটি একটি বেলিন তিমি বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ধরনের তিমি সমুদ্রের প্ল্যাঙ্কটন ও ক্ষুদ্র সামুদ্রিক প্রাণী ছেঁকে খাদ্য গ্রহণ করে।
তিনি আরও বলেন, সমুদ্রের পরিবেশগত পরিবর্তন, খাদ্যসংকট, বিভিন্ন রোগ, জাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষ কিংবা সমুদ্রস্রোতের প্রভাবে এ ধরনের বৃহৎ সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী উপকূলে ভেসে আসতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ গবেষণার স্বার্থে তিমিটির নমুনা সংগ্রহ, প্রজাতি শনাক্তকরণ এবং কঙ্কাল সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি।
মহিপুর বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান, খবর পাওয়ার পর বন বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। দুর্গন্ধ ছড়ানো ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে তিমিটিকে দ্রুত মাটি চাপা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ইয়াসীন সাদেক বলেন, উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন দীর্ঘদিন ধরে উপকূলের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কাজ করে আসছে। তিমিটি পচাগলা অবস্থায় থাকায় বন বিভাগ ও পৌরসভার সমন্বয়ে দ্রুত মাটি চাপা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কোনো ধরনের ভোগান্তি না হয়।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কুয়াকাটা উপকূলে বারবার তিমি, ডলফিন ও সামুদ্রিক কচ্ছপের মৃতদেহ ভেসে আসার ঘটনা সংশ্লিষ্টদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা ও কার্যকর সংরক্ষণ উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।
#####
জনি আলমগীর
কুয়াকাটা পটুয়াখালী প্রতিনিধি
২৯ জুন ২০২৬