শিরোনাম

| |

সাইবার দুনিয়া বনাম গণমাধ্যম: সম্ভাবনা নাকি ঝুঁকি?

ডেইলি বরিশাল সংবাদ সংবাদ সংগ্রহে সারাক্ষন

প্রকাশিত: September 24, 2021 2:03 PM
Print Friendly and PDF

বরিশাল  সংবাদ ডেস্ক ।। রিয়েল লাইফ কোনটি? যেটি ফিকশন নয়, গল্প নয়, বাস্তব জীবনযাপনের অনুষঙ্গ; আমাদের চারপাশ হলো রিয়েল লাইফ। যেমন— মানুষেরা রিয়েল লাইফে ঢাকায় বাস করেন। এটি হলো— কথিত রিয়েল লাইফ। অফলাইন।

আবার মানসুরা যদি সেলিব্রিটি হন, তবে তিনি তার গল্পের চরিত্রে হলিউড, বলিউড কিংবা দুবাইয়ের আন্ডারওয়ার্ল্ডে বাস করতে পারেন। এটি হলো সেলুলয়েড থেকে পরিবর্তন হয়ে আজকের সাইবার দুনিয়া। অনলাইন।

ইন্টারনেট আসার পর সাইবার সংস্কৃতি এতটাই বিস্তৃত হয়েছে যে, কেউ কেউ সাইবার দুনিয়াকেও রিয়েল লাইফের অংশ বলে মনে করেন।

ইন্টারনেট আমাদের জীবনধারায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন করে তাকে অনেক সহজ করে তুলেছে। বিদেশে থাকা বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন কিংবা যে কাউকে টেলিফোন করতে একদা অনেক খরচ করার প্রয়োজন ছিল। বিদেশে উড়ে যাওয়াও ব্যয়বহুল কাজ।

এখন হোয়াটসঅ্যাপ, ম্যাসেঞ্জার, ইমোসহ নানা ধরনের ইন্টারনেটভিত্তিক টুলস বের হয়েছে। ফলে দুনিয়াটা এখন হাতের মুঠোয়, মোবাইল ফোনের মধ্যে। মহামারিকালে জুমের মাধ্যমে মিটিং ও ওয়েবিনার হয়েছে, যা অনেক বেশি সহজে সবার অংশ নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল যে, ইন্টারনেট হলো প্রাপ্তবয়স্কদের ব্যবহারের একটি মাধ্যম। কারণ এর মধ্যে অনেক ক্ষতিকর বিষয় থাকে, যা শিশুদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে তারা নেশার কবলে পড়তে হতে পারে।

পর্নো কিংবা গেমের কোনো কোনো কন্টেন্ট শিশুদের নিষিদ্ধ জীবনে হাতছানি দিতে পারে। কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারি সেই ধারণাকে উল্টে-পাল্টে দিয়েছে।

মহামারিকালে আমাদের শিশুদের শ্রেণিকক্ষের বদলে অনলাইনে ক্লাস করতে হয়েছে। শিশুরাও অনলাইন জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। কিন্তু তাদের জীবনে মুখোমুখি ক্লাস যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটি দেড় বছর পর স্কুল খোলা হলে তা দেখেছি। শিশুরা আনন্দে আত্মহারা।

খোলা মাঠে দৌড়ঝাঁপ। বাতাস থেকে এভাবে সরাসরি অক্সিজেন পেয়ে জীবনের উচ্ছ্বাস বাড়িয়ে দেওয়া সাইবার দুনিয়ার পক্ষে সম্ভব নয়।

রিয়েল লাইফে পারিবারিক জীবনের যে ছোঁয়া পাওয়া যায়, সাইবার লাইফে তা সম্ভব নয়। খেলাধুলা, গান-বাজনা, কর্মক্ষম শরীর গঠন রিয়েল লাইফে সম্ভব।

সাইবার লাইফে সম্ভব নয়। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আসায় মানুষের অনুভূতিগুলো দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে।

ফেসবুকে কারও মৃত্যু সংবাদে আমরা দুঃখপ্রকাশের পর পরই একজনের জন্মদিনের ছবিতে শুভেচ্ছা জানাই। জীবনধারার এই পরিবর্তন ইতিবাচক নাকি নেতিবাচক সেই বিচার বিশ্লেষণের আগেই নতুন নতুন প্রযুক্তি হয়তো আরেক নতুন বাস্তবতার মুখে ফেলে দিচ্ছে।

সাইবার দুনিয়ার অনেক ভালো দিক আছে। কিন্তু মন্দ দিকও কম নয়। সাইবার বুলিং কিংবা সাইবার রোমান্সের বিষয়টি বিবেচ্য।

সেখান থেকে ধর্ষণের ঘটনাও ঘটে থাকে। তাই সাইবার স্পেসকেও নিয়ম-কানুনের মধ্যে রাখা, জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সুরক্ষা করা, শিশুদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করার প্রয়োজনীয়তা দিনের পর দিন স্পষ্ট হচ্ছে। এসব না করা হলে সরল বিশ্বাসী মানুষ ডিজিটাল দুনিয়ায় পরিবর্তনের ধারায় অপরাধের শিকার হতে পারেন।

গণমাধ্যমের ওপর সাইবার পৃথিবীর প্রভাব ব্যাপক। আমরা পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছি। একটা সময় ছিল যখন সিসার তৈরি অক্ষর পাশাপাশি বসিয়ে সংবাদপত্র মুদ্রণ হয়েছে। কম্পিউটার আসার পর হাজার হাজার মুদ্রণশিল্পী বেকার হয়ে পড়েন। সংবাদপত্রে কম্পিউটার কম্পোজ প্রযুক্তি প্রতিস্থাপনের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন হয়েছে। প্রযুক্তি ঠেকানো যায়নি।

মিডিয়ায় এখন পরিবর্তন এত দ্রুত হচ্ছে, যা অনেক মিডিয়াকর্মী নিতে পারছেন না। প্রথাগত মিডিয়াগুলো এখন সাইবার মিডিয়ায় রূপান্তর হচ্ছে।

পরিবর্তনের বর্তমান ধারা চলমান থাকলে প্রথাগত সংবাদপত্র কিংবা টেলিভিশনের মধ্যে নানাবিধ অনুষঙ্গ বদল তথা যোগ-বিয়োগ অস্বাভাবিক নয়।

ফলে সাংবাদিকতার ধারাতেও নতুন নতুন স্টাইলের পুনঃ পুনঃসংযোগের বিষয়গুলোতে অভ্যস্ত হতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে লক্ষণীয় যে, সব পত্রিকা ও টিভি তাদের অনলাইন সংস্করণ প্রকাশ করছে। কেউ কেউ অনলাইনে বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন সংযুক্ত করেছে।

মহামারিকালে সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন থেকে আয় মারাত্মক কমে যাওয়ায় বিশ্বের অনেক দেশেই পত্রিকাগুলো মুদ্রণ সংস্করণ বন্ধ করে দিয়েছে। অনলাইন সংস্করণের প্রতি জোর দিচ্ছেন তারা। ট্যাবলয়েড সাইজের পত্রিকা যেগুলো মেট্রো স্টেশনে বিক্রি হয়; ওই সব পত্রিকায় মুদ্রণ সংস্করণ আছে।

মেট্রোতে থাকাকালে পত্রিকা পড়ে সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টার মধ্যে ট্যাবলয়েড দৈনিক অধিকাংশ ক্ষেত্রে ডাস্টবিনে চলে যায়। বাংলাদেশে মুদ্রিত পত্রিকার ভবিষ্যৎ কী হবে সেটিও সহজে অনুমেয়।

আপাতত পাঠক কিংবা দর্শকের মনোযোগ মাল্টিমিডিয়ার প্রতি। মহামারির সময়ে মুদ্রিত পত্রিকার সার্কুলেশন অনেক নেমে গিয়েছিল।

সেই সঙ্গে রাজস্বও কমে যায়। ওই সময়ে টিভির পর্দায় খবর দেখেছে মানুষ। এখন দেখা যাচ্ছে, টিভির দশাও একই হয়ে যাচ্ছে। সাইবার জগতে মানুষের ঝোঁক দেখে টিভিগুলো সংবাদ ওয়েবসাইট খুলেছে।

ফেসবুক, গুগল, ইউটিউবে সংবাদ কিংবা ফুটেজ শেয়ার দিচ্ছে। সংবাদপত্রে আমরা যেমন বলি নিউজ রুম, মাল্টিমিডিয়ায় এটাকে বলে কম্পাইল রুম। মিডিয়ার প্রতিনিধি সংবাদ পাঠালে ওখানে একটা ক্যামেরাম্যানও পাঠানো হয়। কিংবা প্রতিনিধি নিজেই মোবাইল ফোন দিয়ে একটু ভিডিও পাঠান।

সংবাদের সঙ্গে তা জুড়ে দেওয়া হয়। তার সঙ্গে অডিও কিংবা সাউন্ডবাইট কিংবা স্থিরচিত্র সংযুক্ত করা হয়। এভাবে একটা কম্পাইল রুমের মাধ্যমে যে স্টোরিটা উপস্থাপিত হয় তাতে কোনও ব্যস্ত মানুষ পুরো স্টোরি না পড়েও ভিডিওতে ক্লিক করে একটু দেখে আন্দাজ করতে পারেন। মিডিয়ায় উপস্থাপনের ঢং আপাতত এই পর্যায়ে ঠেকেছে।

সাইবার মাধ্যমে সাংবাদিকতাকে কেউ কেউ বলেন ইনফোটেইনমেন্ট। এই ধরনের সাংবাদিকতায় তথ্যের পাশাপাশি বিনোদনও থাকতে হয়। পৃথিবীতে নানা ধরনের মানুষ আছে যাদের নানা ধরনের শখ কিংবা নেশা আছে। কেউ হয়তো সারাদিন বসে বসে মাছ ধরার ভিডিও দেখছে। এটা তার বিনোদন।

কেউ হয়তো ছাদে বাগান করার ভিডিও দেখে। এসব ভিডিওতে তথ্য সন্নিবেশিত করে এটাকে সংবাদ আকারে পরিবেশন করা যায়। এটাই হলো ইনফোটেইনমেন্ট। ফলে ডিজিটাল মাধ্যমে সাংবাদিকতা

শেয়ার করুন :

বরিশাল সংবাদ ২৪

বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন।

বরিশাল সংবাদ ২৪

Call

নামাজের সময়সূচি
August 26, 2026
Fajr 12:00 am
Sunrise 12:00 am
Zuhr 12:00 am
Asr 12:00 am
Maghrib 12:00 am
Isha 12:00 am
,
August 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

সংবাদ সংগ্রহে সারাক্ষণ