শিরোনাম

| |

আমরা মেধা শূন্যের পথে হাটছি না তো!

ডেইলি বরিশাল সংবাদ সংবাদ সংগ্রহে সারাক্ষন

প্রকাশিত: June 10, 2022 1:00 PM
Print Friendly and PDF

যে কোন পরীক্ষায় নবম দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিষয়গুলোর আগে অন্তত এক দিন করে বন্ধ রাখলে পরীক্ষার্থীদের সকল অধ্যায় রিভিশন দিয়ে পরীক্ষার হলে যাওয়ার সুযোগ থাকে। বিজ্ঞান বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে অনুমানের উপর কোন উত্তর প্রদানের সুযোগ নেই। যতই ভালো ছাত্র কিংবা তাদের জ্ঞানার্জনের জন্য সঠিক চর্চা থাকুক না কেন; যদি পরীক্ষার পূর্বে রিভিশন দিয়ে পরীক্ষার হলে যেতে না পারে তবে তারা উত্তরপত্রে কাঙ্খিত উত্তর প্রদান করতে পারবে না।

বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যতদিন বিজ্ঞান মনস্ক, আধুনিক ও বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষকগণ প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক দায়িত্বে না আসবেন ততদিন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানাগারগুলো শুধু পরীক্ষার আগের দিনই খুলে দেয়া হবে এবং পরীক্ষার নামে শিক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্রই সরবরাহ করা যাবে!

প্রতিনিয়ত আমি নিজের কাছেই নিজে প্রশ্ন করি, আমরা কি আগের দিনের মত মেধাবী ইঞ্জিনিয়ার, মেধাবী ডাক্তার, মেধাবী পাইলট, মেধাবী শিক্ষক সর্বোপরি মেধাবী মানুষ উপহার দিতে পারবো? নাকি দিন দিন মেধা শূণ্য জাতি গড়ার পথেই হেটে যাবো!

তার ওপর আরো কঠোর বাস্তবতা হলো, ইদানিংকালে বাস্তবতারই নিরিখে সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করায় দুই তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী লেখাপড়াটাকে শর্টকাট করে ফেলেছে। তারা রাতজেগে মোবাইল ফোন, গেইম এবং বন্ধুদের সাথে আড্ডাকে আবিশ্যিক ও রীতিমতো লেখাপড়াটাকে ঐচ্ছিক করে ফেলেছে।

করোনা কালীন অতিমারী পরিস্থিতে শিক্ষাব্যবস্থার জরুরি ঘোষণা গুলোকে বর্তমান শিক্ষার্থীরাও কামনা করে শিথিল হয়ে থাকে ।এটা আমাদের জন্য দূর্ভাগ্য! এটা আমাদের জন্য অশনিসংকেত।

শিক্ষক এবং অভিভাবকগণ সন্তানদের পড়াশোনার জোয়ারে কিংবা পড়াশোনাটাকে আনন্দের মধ্যে এখনো নিয়ে আসতে পারি নি। আজগের দিনে সন্তানদের শাসন করাও মারাত্মক ঝুকিপূর্ণ। শাসন করলে তারা ভাত খাবে না, পড়তে বসবে না, না বলে চলে যাবে ; খুজে পাওয়া যাবে না, থানায় জিডি করতে হয়, সুইসাইডের আশংকা ইত্যাদি… কোথায় যাবো আমরা!

এর চেয়েও আরো কঠোর বাস্তবতা হলো ছাত্র ছাত্রী স্কুলে যাবে না, স্কুলের স্যারদের অনুসারী হবে না। বরং ভাইদের কিংবা ভাইয়াদের অনুসারী হবে। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরবে।

প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা থাকলেও তারা বাহিরের ভাইয়াদের কাছে বিশেষ কারণে ছোটাছুটি করে!

আমার জানামতে, বরিশাল জিলা স্কুল ও সদর গার্লসের মত স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক ভাবিরা ভাইয়াদের ভালোবাসায় প্রতিষ্ঠানের বাহিরে নিজেদের অজান্তেই কোচিং সেন্টার তৈরি করে ফেলেন। আর এর মাশুল দিয়ে হয় সন্তানদের!

রসায়ন, পদার্থ, উচ্চতর গণিত, জীববিজ্ঞানের মত বিষয়গুলো যদি প্রতিষ্ঠানের এক্সপার্ট শিক্ষকদের রেখে ইউনিভার্সিটির কমার্স ও আর্টসের ছাত্রদের কাছে পড়ানো হয় তাহলে শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞানের কি শিখবে তা আমার বোধগম্য নয়।

আমার জানামতে বরিশালের কতিপয় ছাত্র যারা কোন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নন এবং যারা বিজ্ঞান বিষয়ে নিজেরা ছাত্রদের সাথে পরীক্ষা দিলেও পাশ করবে না; তারা ইউনিভার্সিটি ও কলেজ পড়ুয়া আর্টস কমার্সের ছাত্র। যাদের বিজ্ঞানের ন্যুনতম জ্ঞানটুকু নেই। তারা একটা সাম্প্রদায়িক সিন্ডিকেটের আশির্বাদে এই মেধাবী শিক্ষার্থীদের শটকার্ট পরিস্থিতি ও শর্টকাট সিলেবাসের বদৌলতে শটকার্ট রাস্তায় নিয়ে যাচ্ছে। মৌলিক ধারণা ছাড়া শিট মুখস্ত করাচ্ছে!

আর এই পরিস্থিতিতে জিম্মি মেধাবী শিক্ষার্থীদের অন্তত বইটাকে রিভিশন দেওয়ার জন্য আমাদের শিক্ষকদেরও সহনশীল হতে হবে।

লেখকঃ আমিনুর রহমান শামীম
সহকারি অধ্যাপক, রসায়ন
চাঁদপাশা স্কুল এন্ড কলেজ, বাবুগঞ্জ, বরিশাল।

শেয়ার করুন :

বরিশাল সংবাদ ২৪

বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন।

বরিশাল সংবাদ ২৪

Call

নামাজের সময়সূচি
September 4, 2026
Fajr 12:00 am
Sunrise 12:00 am
Zuhr 12:00 am
Asr 12:00 am
Maghrib 12:00 am
Isha 12:00 am
,
September 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  

সংবাদ সংগ্রহে সারাক্ষণ