শিরোনাম
আমতলী, (বরগুনা)প্রতিনিধি : বরগুনার আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিন তক্তাাবুনিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প নানা সমস্যায় জর্জরিত। সংস্কার না করায় টিন ফুটো ও মরিচা ধরে খসে পড়ছে। চালের ওপর পলেথিন, ইট, কাঠ, মাটি দিয়ে কোনো রকম বৃষ্টির পানি থামানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ বসবাসকারীরা। বৃষ্টি হলেই ঘরে পানি পড়ে। ঝড়ে খসে পড়ছে চালের পচা কাঠও।
দিনে-রাতে যখনই বৃষ্টিওঝড় হচ্ছে, তখনই বিছানাপত্র গুটিয়ে বসে থাকতে হচ্ছে তাদের।এছাড়াও নানা সমস্যা থাকলেও মিলছে না সমাধান। বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে আশ্রয়ণ প্রকল্প। ফলে বসবাসকারীরা আশ্রয়ণ ছেড়ে চলে গেছেন অন্যত্র। অতি দ্রæত সংস্কারের দাবি এখানকার বসবাসকারীদের ।
জানা যায়,২০০২ সালে উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের বাশবুনিয়া নদীর পশ্চিম পাড়ে সরকারী খাস জমি (চরে )আশ্রয়ণ প্রকল্পটি নির্মান করা হয় । আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৫টি ব্যারাকে ১৫০টি ঘর রয়েছে। ১৫০টি পরিবারের বসবাসের জন্য নির্মিত হলেও বর্তমানে ২০-২৫টি পরিবারের শতাধিক মানুষ বসবাস করছেন।
২০০২ সালে আশ্রয়ন প্রকল্প নির্মানের পর গরীব ভূমিহীন অসহায়রা খুব সুন্দর ভাবে বসবাস করলেও আশ্রয়ন প্রকল্প নির্মনের ৪/৫ বছর পরে প্রকল্পের ব্যারাকগুলো বসবাসের অনুপউপযোগী হয়ে পড়ায় গরীব অসহায় ভূমিহীনরা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ১৫টি ব্যারাকে ৮ গভীর নলকুপের মধ্যে ৬টি নস্ট হয়ে গেছে। দুটি সমিতি ঘর ভাঙ্গা চুড়া তাতে বসার মত কোন অবস্থা নাই।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘ ১৫-১৬ বছরে এসব আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রায় প্রতিটি ঘরের টিনের চাল ফুটো ও মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে খসে খসে পড়ছে। চালের ওপর পলেথিন দিয়ে তার ওপর ইট, কাঠ, মাটি দিয়ে কোনো রকম বৃষ্টির পানি থামানোর চেষ্টা করে থাকতে হয় বসবাসকারীদের । কিন্তু যখনই বৃষ্টি হচ্ছে তখনই ঘরের ভেতরে পানি পড়ছে। বৃষ্টির সঙ্গে ঝড় হলে ঘরের চাল ও বেড়ার পচে নষ্ট হওয়া কাঠও খসে নিচে পড়ছে।
এছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় পানি সংকট,ভাঙাচোরা নাজুক স্যানিটেশন ব্যবস্থা, বেহাল যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবার কমিউনিটি সেন্টারে চালের টিন ও বেড়া ভাঙাচোরাসহ রয়েছে নানা সমস্যা। সবমিলিয়ে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৫টি ব্যারাক।
এলাকার লোকজনের অভিযোগ, এসব ঘর নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। এসব ঘর মেরামত বা রক্ষণাবেক্ষণের কোনো উদ্যোগও নেওয়া হয়নি। ফলে কয়েক বছর যেতে না-যেতেই ঘরের চাল ছিদ্র হয়ে বৃষ্টির পানি পড়তে শুরু করে। ঘরের মেঝেতে ফাটল ধরে। ফলে বেশির ভাগ ঘর বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
আশ্রয়নের বাসিন্ধা হামিদা বেগম(৪৫) বলেন, আমরা গরীব মানুষ আমাগো সরকার থাকার একটা ঘর দিছে তা দিয়া পানি পড়ে ঝড় বৃষ্টি হলে পোলা মাইয়া লইয়া বইয়া থাহি।আরেকজন জয়নাল মিয়া (৫০) বলেন মোগো কষ্ট দেখার কে নাই। অনেক কষ্টের মধ্যে দিয়ে কোন রকম থাকি।
আশ্রয়ন প্রকল্পে বসবাসকারীদের সংগঠনের সভাপতি মো. সুলতান মৃধা জানান, আমাদের প্রধান সমস্যা হচ্ছে মাথাগোঁজার ভাঙ্গাচোরা ঘর,বাথরুম,কল। এগুলো অনেক আগেই নষ্ট হয়ে গেছে। সংস্কারের অভাবে অনেক ঘরে থাকার মতো অবস্থা নেই। একারণে আশ্রয়নের অনেক বাসিন্দা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আসাদুজ্জামান মিন্টু মল্লিক মুঠোফোনে বলেন, আশ্রয় প্রকল্পে বসবাসকারীরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন, বাসিন্ধাদের উন্নত জীবন যাপনের জন্য জরুরী ভাবে আশ্রয়নের ব্যারাকগুলো সংস্কার করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃর্ষ্টি আকর্ষন করছি।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা টাস্কফোর্সের সভাপতি মো. কাওসার হোসেন মুঠোফোনে বলেন, সরেজমিন পরিদর্শন করে জরুরী ভাবে সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হবে।