শিরোনাম
অনলাইন প্রতিনিধি :: স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ২৬ মার্চ ঢাকায় আসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে তার আগমনকে প্রত্যাখান করে লাল কার্ড প্রদর্শন করেছেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন।
শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এক সমাবেশ থেকে নরেন্দ্র মোদিকে এই লাল কার্ড প্রদর্শন করে তারা।
তাদের দাবি, ভারতজুড়ে সাম্প্রদায়িক হত্যাকাণ্ডের হোতা ফ্যাসিস্ট নরেন্দ্র মোদি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে আসতে পারেন না।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জাহিদ সুজন এবং সঞ্চালনা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান রিচার্ড।
জাহিদ সুজন বলেন, ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে ফ্যাসিস্ট নরন্দ্রে মোদির আগমন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক। আমরা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সম্মানকে অক্ষুণ্ণ রাখতে আমাদের সাধ্যের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে তার আগমনকে রুখে দেয়ার চেষ্টা করবো। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে কাদের অতিথি করা হবে, তা রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনার মাধ্যমেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
জাহিদ সুজন আরো বলেন, ‘গত ১৫ বছরে সীমান্তে পাখির মতো গুলি করে সহস্রাধিক বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যা করছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী। সীমান্তে ফেলানী হত্যাসহ সব ধরণের হত্যাকাণ্ডের বিচার ও সীমান্ত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে হবে।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে ইতিমধ্যেই নিশ্চিত করেছেন আসছে সফরে আমাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট তিস্তা চুক্তিসহ আমাদের নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো চুক্তি নিয়েই কথা বলবেন না। এই জনসমর্থনহীন সরকার তার গদি টিকিয়ে রাখতে ভারতের কাছে দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিচ্ছে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আমরা দেশের মানুষের কাছে আহ্বান জানাই, এই স্বৈরাচারী সরকারের পতনের দাবিতে আপনারা রাস্তায় নেমে আসুন। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আমরা পালন করবো মুক্ত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে।’
মশিউর রহমান রিচার্ড বলেন, ‘ব্যক্তি বিভাজন সৃষ্টিকারী, সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টকারী গুজরাটের কসাই খ্যাত নরেন্দ্র মোদিকে বাংলাদেশে প্রত্যাখ্যান করছি। বর্তমান ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক আমাদের মর্যাদার উপর দাঁড়িয়ে নেই। আমাদের মাথার উপর ফেলানীর লাশ ঝুলছে। আমাদের নদী শুকিয়ে আছে। এই অবস্থায় লাশের উপর দাঁড়িয়ে আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে নরেন্দ্র মোদিকে স্বাগত জানাতে পারি না।’
ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় শাখার সংগঠক সজীব ওয়াফি বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদি ফ্যাসিস্ট সরকার। যার আসল উদ্দেশ্য হিন্দুত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করা। যাদের হাতে মানুষের রক্ত, মুসলমানদের রক্ত। কৃষকদের উপর তারা অত্যাচার করছে। তারা চাচ্ছেন কীভাবে বাংলাদেশকে কাশ্মীরে রূপান্তর করা যায়। কাশ্মীরের অবস্থা যদি বাংলাদেশে পরিণত হয়, তাহলে আমাদের পায়ের তলায় মাটি থাকবে না। তাই সকল কৃষক-শ্রমিক ভাইদের আহ্বান করছি, আপনারা এই মোদীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন।’
সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির ঢাবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সজীব, ঢাকা মহানগর শাখার আহ্বায়ক সৈকত আরিফ প্রমুখ।