শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক ::: সময় মেনে হাসপাতালে আসেনা বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের গাইনী বিভাগের প্রধান চিকিৎসক ডাঃ রেহেনা ফেরদৌস। এতে করে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অনিয়মের অভিযোগ।
রোগীদের অভিযোগ, বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে গাইনী বিভাগের প্রধান চিকিৎসক ডাঃ রেহেনা ফেরদৌস নিয়মিত রোগী দেখেন না। নানা অযুহাতে প্রায়শই হাসপাতালে আসেন না। আসেন নিজেদের খেয়াল খুশিমতো। এছাড়া রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিকের টেস্ট রিপোর্ট ছাড়া তারা রোগী দেখেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার সরেজমিন দেখা যায়, দুুপুর দেড়টার দিকে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় ২০২ নম্বর কক্ষের সামনে বেশকিছু রোগী দাড়িয়ে আছেন। কিন্তু গাইনী বিভাগের প্রধান চিকিৎসক ডাঃ রেহেনা ফেরদৌস চেম্বারে নেই। রোগীরা বাইরে দাড়িয়ে হইচই করছে। এরপর সংবাদকর্মীরা ছুটে যায় নগরীর বরিশাল কলেজ সংলগ্ন একটি ঝুকিপূর্ণ ভবনের তার ব্যক্তিগত চেম্বারে তিনি রোগীদের রিপোর্ট দেখছেন। চেম্বারের সামনেই একটা ব্যানারে লেখা রোগীদের রিপোর্ট দেখার সময় ১.৩০ মিনিট থেকে ২ টা পর্যন্ত। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সকাল আটটা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত হাসপাতালে থাকা বাধ্যতামূলক হলেও নিয়ম মানছেনা এ চিকিৎসক। তার চেম্বারের পাশেই দৃশ্যমান একটি ফার্মেসি, কিন্তু সেখানে নেই কোন ফার্মাসিস্ট। এমনকি ওই ফার্মেসির ড্রাক লাইসেন্স নেই বলে স্বীকার করেছেন ডাঃ রেহেনা ফেরদৌস নিজেই। চেম্বারের পাশাপাশি তিনি সেলাই‚ রক্ত দেওয়া, ইনজেকশন পুশ করাসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে থাকেন। সেখানেও এসব সেবা প্রদানের জন্য একটি রেটচার্ট ঝোলানো রয়েছে। তার পাশেই ক্লিনিকের মতো করে বেশ কিছু বেড সাজানো, যেখানে অনেকগুলো অক্সিজেনের সিলিন্ডারও রয়েছে। সায়লা আক্তার শারমিন নামের এক তরুণীকে দিয়ে ব্যক্তিগত সহকারী ও ক্লিনিকের সকল কার্যক্রম পরিচালনা করান। যিনি নিজেকে ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল ফ্যাকাল্টি পাশ বলে দাবি করলেও কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। সেখানে নাসরিন আক্তার নামের এক (রান্নার কাজে নিয়োজিত) গৃহপরিচারিকাকে আয়ার কাজ করান। সংবাদকর্মীদের দেখেই তরিঘড়ি করে অ্যাপ্রোন পড়তে ব্যস্ত হয়ে যান তিনি।
এ বিষয়ে ডাঃ রেহেনা ফেরদৌস বলেন- নিয়মিত হাসপাতালে যাওয়ার ক্ষেত্রে আমার কোন গাফিলতি নেই। ফার্মেসির ড্রাক লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছি, ঔষুধ বাইরে বিক্রি করা হয় না, জরুরি কিছু ঔষুধ রেখেছি রোগীদের জন্য। একজন ফার্মাসিস্টও নিয়োগ দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে ক্লিনিক বানানোর চিন্তা রয়েছে তাই বেড এনে রেখেছি।
ঝুকিপূর্ণ ভবনের ব্যক্তিগত চেম্বার পরিচালনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন- এটা আমার শ্বশুড় বাড়ি। টাকার অভাবে ভবনটি সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে খুব শীঘ্রই ভবনটি সংস্কার করা হবে।
এসব বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডাঃ মলয় কৃষ্ণ বড়াল।
বরিশাল সিভিল সার্জন ও জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ এস.এম মনজুর-এ-এলাহী বলেন- সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সকাল আটটা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত হাসপাতালে থাকা বাধ্যতামূলক। এ নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিয়ম-নীতি সিভিল সার্জন অফিস জিরো টলারেন্স।