শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশালে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক পিএলসি এখনো আওয়ামী সিন্ডিকেটের কব্জায় জিম্মি। গত বছর ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর দেশজুড়ে এক ধরনের আশার আবহ তৈরি হলেও, বরিশাল সোনালী ব্যাংকে সেই পরিবর্তনের ছোঁয়া পৌঁছায়নি। বরং, নতুন মুখোশে পুরনো সিন্ডিকেট ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে—এই সিন্ডিকেট চক্রের মূল হোতা হচ্ছেন বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতা দেবাশীষ কুন্ড।
এই সিন্ডিকেট বরিশাল বিভাগ জুড়ে, বদলি বাণিজ্য, বিশেষ সুবিধার বিনিময়ে নিয়ম বহির্ভূতভাবে লোন অনুমোদন সহ নানা উপায়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সিন্ডিকেট চক্রটি।
এই সিন্ডিকেটের বিপক্ষে গেলেই নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের বদলি করে দূরবর্তী ও নিম্নক্ষমতা সম্পন্ন শাখায় পাঠানো হয়। বিশেষ করে যারা জুলাই আন্দোলনের সমর্থন জানিয়েছিলেন বা ছাত্র-জনতার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তাদেরকে নানা কৌশলে হয়রানি করা হচ্ছে। বরিশাল সোনালী ব্যাংকের অফিসগুলোতে আওয়ামী সমর্থকরা এখনো একক আধিপত্য চালাচ্ছে।
এসব সিন্ডিকেট সদস্যরা সরাসরি সোনালী ব্যাংক বরিশাল অঞ্চলের জিএম গোপাল চন্দ্র গোলদারের আশির্বাদপুষ্ট হওয়ায় তারা এখন অনেকটাই অপ্রতিরোধ্য।
জানা গেছে, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের সহ সভাপতি দেবাশিষ চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। সিন্ডিকেট চক্রটি জিএম অফিসের আওতায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শাখায় বদলি ও পদায়েন জন্য তাদের সাথে আগেই উৎকোচের বন্দোবস্ত করে নিতে হয়। নির্ধারিত উৎকোচ পরিশোধ না হলে বদলি হয় না।
এই চক্রের অন্যান্য সদস্যরা হলেন বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি মাইনুল ইসলাম, সালমা নাছরিন, মাসুদ পারভেজ, ইফতেখার মাহমুদ সোহেল, অসীম ও অমল।
চক্রের হাতে অতিসম্প্রতি যাদের পদায়ন হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, প্রনয় কর্মকার বরিশাল করপোরেট, সরবানী দাশ ও বাপ্পি কুমার সিএন্ডবি রোড শাখায়, উজ্জল উজিরপুর, সুজন সাহা ক্যাডেট কলেজ, দেবশিষ চৌধুরী জিএম অফিস, বিকাশ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা, মনদ্বীপ ব্যাপারী, গৌরনদী শাখা ব্যবস্থাপক।
সোনালী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার শোয়েব চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, ফ্যাসিস্টের বিচার চেয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় আমার সাথে চরম খারাপ আচরণ করেছেন বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতা এসপিও দেবাশিষ চৌধুরী। এমনকি জিয়া পরিষদের সকলকে শায়েস্তা করার হুমকি প্রদান করেন। যারা যারা জিয়া পরিষদে যুক্ত হয়েছে তাদের সবাইকে দেখে নেওয়া কথা বলেন।
জিয়া পরিষদের নেতারা অভিযোগ করেন বলেন, এই ফ্যাসিস্ট দেবাশিষ চৌধুরী জিএম গোপালের নির্দেশে বর্তমান সময়ে ব্যাংকের জাতীয়তাবাদী আদর্শের বিশ্বাসীদেরকে সরাসরি হুমকি প্রদান করে বলেছেন, জিয়া পরিষদ করে কোন লাভ হবে, আপনি কি নিশ্চিত যে বিএনপি ক্ষমতায় আসবে? আসবে না, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে জিয়া পরিষদের সকলে কে দেখে নেওয়া হবে।
বরিশাল জিএম অফিস, প্রিন্সিপাল অফিস ইস্ট এবং প্রিন্সিপাল অফিস ওয়েস্ট সহ শহর অঞ্চলের শাখা গুলোতে দীর্ঘ ১০ বছর যাবত চাকরী করছে এই চক্রের অনুসারী কিছু কর্মকর্তা। তাদেরকে জামাই আদরে এসব শাখাগুলো দীর্ঘ বছর রেখেছে এই সিন্ডিকেট। এর মধ্যে মারুফ মোরশেদ কলেজ রোড, সুমন দাশ, আব্দুলাহ আল জাবের, দীপান্বিতা মিত্র, পিনাকী প্রসাদ রয়, সিএন্ড বি রোড, আসাদুজ্জামান সাগরদী শাখা, জাহিদ হাসান, অমল চন্দ্র , সাইদুর রহমান রনি, কাজী মনির বরিশাল করপোরেট শাখায়,উজ্জল দেবনাথ প্রিন্সিপাল অফিস ওয়েস্ট, জাহিদ প্রিন্সিপাল অফিস ওয়েস্ট, হান্নান হোসেন প্রিন্সিপাল অফিস, শর্মিষ্ঠা ধর জিএম অফিস, বিপুল পাল জিএম অফিস, নিজামুল কবির জিএম অফিস, মেহেদী হাসান জিএম অফিস, আব্দুল্লাহ আল মামুন মুরাদ চরামদ্দী ম্যানেজার, মোল্লা মোঃ আসাদুজ্জামান চক বাজার।
বঙ্গবন্ধু পরিষদের সহ-সভাপতি এসপিও দেবাশিষ চৌধুরী বলেন, আমি জিএম অফিসে লাইন ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে কাজ করি। সে কারনে বদলীগুলো উর্ধতনের নির্দেশমতই আমি করে থাকি। এখানে কোন দুর্নীতি স্বজনপ্রীতির সুযোগ নেই। তাছাড়া জিয়া পরিষদের কাউকে আমি হুমকি দেইনি। বঙ্গবন্ধু পরিষদের সহ সভাপতি হিসেবে কমিটিতে আমার কোন স্বাক্ষর ছিলনা। তবে কিছু ব্যক্তিদের ১০ বছর ধরে একই জায়গায় পোস্টিং থাকার বিষয়ে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারননি।
বরিশাল সোনালী ব্যাংক পিএলসি’র জিএম গোপাল চন্দ্র গোলদার বলেন, বদলীগুলো ব্যাংকের নিয়মানুযায়ী হয়ে থাকে। এখানে দুর্নীতির কোন সুযোগ নেই। দুই একজন দীর্ঘ সময় একই কর্মস্থলে আছেন সেটার কিছু ব্যাখ্যা আছে। তাছাড়া দেবাশিষ চৌধুরী জিয়া পরিষদকে কটাক্ষ করেছেন কিনা তা আমার জানা নেই।