শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু মামুনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুনীতির অভিযোগ উঠেছে।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের তোপের মুখে ১৪ নভেম্বরে সাবেক অধ্যক্ষ এহতেশাম উল হকের বদলি হয়। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দ্বায়িত্ব পায় আবু মামুন।
দায়িত্ব পেয়েই তিনি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অস্বচ্ছতা, দুর্নীতি, অনিয়ম, কর্তব্যে অবহেলা, সরকারি অর্থ আত্মসাতে সহযোগীতা, স্বেচ্ছাচারিতা, নিয়োগ বানিজ্য ও শিক্ষার্থীদের টিফিনের টাকা নয়ছয় সহ নানা অনিয়মে জড়িয়ে পরেন।
শিক্ষার মানোন্নয়নে নজর না দিয়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে ভুয়া বিল-ভাউচার করে দু’হাতে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটিতে ঘটছে অর্থ তছরুপের ঘটনা। অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে। বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজটি সরকারি হলেও শিক্ষার মান বাড়েনি । স্কুলের শিক্ষক দিয়ে কলেজে পাঠদান করানো হচ্ছে
অভিযোগ রয়েছে, অধ্যক্ষের দ্বায়িত্ব নেয়ার পরেই আবু মামুন পছন্দের কয়েকজন শিক্ষকদের নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। এই সিন্ডিকেট সদস্যদের দেয়া হয় বিধি বহির্ভুত সুযোগ-সুবিধা। এমনকি পরীক্ষার ডিউটি আদায় না করলেও শিক্ষক ওয়াহিদুজ্জামানকে দেয়া হয় পরীক্ষা ডিউটির সম্মানী। আর্থিক অনিয়মের পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলা, প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্ব করেন।
অভিভাবকরা অভিযোগ করেন বলেন, গাইড ও নোট বই ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকলেও আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রকাশ্যেই নোট ও গাইড বইয়ের ব্যবহারের জন্য শিক্ষার্থীদেরপাঞ্জেরী প্রকাশনীর গাইডবই কিনতে ক্লাসে চাপ প্রয়োগ করেন। এ বিষয়ে প্রকাশনার কাছ থেকে মোটা অংকের ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে।
কলেজের স্টাফ কাউন্সিলের তহবিল থেকে ৪৬ হাজার টাকা উত্তোলন করে তার সিন্ডিকেট শিক্ষকদের নিয়ে তিনি কক্সবাজার ভ্রমন করেন। শিক্ষার্থীদের টিফিনের টাকা দিয়ে বাৎষরিক পরীক্ষায় বিরিয়ানী খাওয়ানোর রেওয়াজ থাকলেও শিক্ষার্থীদের বিরিয়ানী খাইয়ে টিফিনের ১ লাখ ৮০ হাজার টাতা আত্মসাৎ করেছেন।বাৎষরিক কেনা কাটা বাবদ প্রায় ৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে। সাবেক অধ্যক্ষ এহতেশাম উল হক চলে যাওয়ার পরেই ছোট ছোট ৩৫ টি প্রকল্প বানিয়ে প্রতিষ্ঠানের অর্থ লোপাট ও অর্থ তসরুপের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৮ লাখ টাকার ফ্লোর মোজাইকের কাজ সম্পন্ন না হওয়ার আগে অধ্যক্ষের যোগসাজশে সকল টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
সরকারি নিয়ম কানুন ও বিধি বিধান অমান্য করে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে অতি গোপনে ইলেকট্রিশিয়ান পদে ইউসুফ, কম্পিউটার অপারেটর পদে শামিম ও অফিস সহকারি পদে ওলিকে নিয়োগ প্রদান করেন।
অধ্যক্ষের সীমাহীন দুর্নীতির কারণে কলেজের সার্বিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে বিরুপ মন্তব্য করেছেন শিক্ষক পরিষদ।
এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানটির হিসাব রক্ষক আমির হোসেন বলেন, ২০২৪ সালে শিক্ষার্থীদের বিরিয়ানী খাওয়ানো হয়নি তবে এবছর বিরিয়ানী খাওয়াবো। আর্থিক অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ, অনিয়ম ও দুর্নীতির ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি অধ্যক্ষের কাছ থেকে জানার পরামর্শ প্রদান করেন।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ আবু মামুন বলেন, যে সব প্রশ্ন করেছেন তা সবই মিথ্যা। যা করেছি স্টাফ কাউন্সিলের অনুমোদন নিয়েই করেছি। এছাড়া সব জানতে কলেজে চায়ের আমন্ত্রন জানান।