শিরোনাম
পটুয়াখালী প্রতিনিধি পটুয়াখালীর বড় বিঘাই ইউনিয়নের তিত কাটা নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সকিনা খানম ও তিত কাটা দারুস সুন্নত সিনিয়র মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আবুল কালাম আজাদকে নতুন এডহক কমিটি ভেঙে দিতে সাত দিনের আল্টিমেটাম দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বড় বিঘাই ইউনিয়ন বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে। গতকাল তিত কাটা নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ও তিত কাটা দারুস সুন্নত সিনিয়র মাদ্রাসায় ৫০/৬০ জন মানুষ নিয়ে উপস্থিত হন বড় বিঘাই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুস সাত্তার গাজী, বড় বিঘাই ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আসলাম হাওলাদার, ৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি কুদ্দুস গাজী ও যুবদল নেতা খলিল হাওলাদার। এসময় আব্দুস সাত্তার গাজী তিত কাটা নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সকিনা খানমকে নবগঠিত এডহক কমিটি ভেঙে নতুনভাবে কমিটি করতে বলেন। তখন নিয়ম অনুযায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানালে ক্ষিপ্ত হন আব্দুস সাত্তার গাজী, আসলাম হাওলাদার, কুদ্দুস গাজী ও খলিল হাওলাদারসহ আরো কয়েকজন। এসময় নবগঠিত এডহক কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গঠন না করলে দেখিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে স্কুল ত্যাগ করেন তারা। এর পরপরই তারা উপস্থিত হন তিত কাটা দারুস সুন্নত সিনিয়র মাদ্রাসায়। সেখানেও একই হুমকি, এডহক কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গঠন করার সাত দিনের আল্টিমেটাম দেন তারা। সে সময় তিত কাটা দারুস সুন্নত সিনিয়র মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আবুল কালাম আজাদ নিয়ম অনুযায়ী কমিটি গঠন হয়েছে বলে জানালে যুবদল নেতা খলিল হাওলাদার তার দিকে তেরে যান। এ বিষয়ে তিত কাটা নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সকিনা খানম বলেন- আব্দুস সাত্তার গাজী, আসলাম হাওলাদার, কুদ্দুস গাজী ও খলিল হাওলাদার সহ ৫০/৬০ জন লোক বিদ্যালয়ে এসে অনেক উচ্চ বাচ্য কথা বলেন। আমাকে হুমকির সুরে বলে গেছেন যদি এডহক কমিটি ভেঙ্গে তাদের ইচ্ছে মতো কমিটি না করি তাহলে আমার ক্ষতি হয়ে যাবে। এ বিষয়ে তিত কাটা দারুস সুন্নত সিনিয়র মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আবুল কালাম আজাদ বলেন- বড় বিঘাই ইউনিয়নের বিএনপি নেতা আব্দুস সাত্তার গাজী ও তার ভাই কুদ্দুস গাজীসহ ৫০/৬০ জন লোক হঠাৎ মাদ্রাসায় এসে শোরগোল করেন। তাদেরকে অফিসঘরে বসিয়ে শোরগোলের কারন জানতে চাইলে তারা বলেন, এডহক কমিটি করা হয়েছে তা আমাদের পছন্দ নয়। এ কমিটি ৭ দিনের মধ্যে ভেঙে দিতে হবে না হয় আমি বিপদে পরে যাবো বলে শাষান তারা। কমিটি নিয়ম অনুযায়ী হয়েছে বলে তাদেরকে জানালে আমার দিকে তেরে আসেন যুবদল নেতা খলিল হাওলাদার। এসময় আশপাশের লোকজন তাকে থামিয়ে দেন এবং সেসময় আমাকে ৭ দিনের আল্টিমেটাম দিয়ে স্থান ত্যাগ করেন। আমি তাদের যাওয়ার পরপরই পটুয়াখালীর শিক্ষা অফিসারকে ঘটনার বিষয় বিস্তারিত জানাই। তিনি এ বিষয়টি দেখবে বলে আমাকে আশ্বাসও দেন। অভিযুক্ত বড় বিঘাই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুস সাত্তার গাজী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা এমনিতেই স্কুল ও মাদ্রাসায় গিয়েছিলাম। তাদেরকে কোনো হুমকি দেয়নি। কেউ তাদেরকে লাঞ্ছিত করতে যায়নি। তবে কমিটি সঠিক নয় বলে আমার মনে হয়েছে তাই নতুনভাবে কমিটি করতে বলেছি।