শিরোনাম
স্টাফ রিপোর্টার :বরিশাল নগরীতে প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রতারণা ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ চাম্পা রানী শীলের বিরুদ্ধে। চারটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে পলাতক রয়েছে। অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এর প্রতিকার চেয়ে গত ২০ ফেব্রুয়ারি ভুক্তভোগী হেলাল উদ্দিন ফারুক বরগুনা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ সূত্রে জানাজায় চাম্পা রানী শীল একজন প্রতারক সে বিভিন্ন পুরুষের সাথে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করে ব্ল্যাকমেইলিং করে বিবাহ ও প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া নেশা ও পেশা।
ভুক্তভোগী হেলাল উদ্দিন ফারুক বলেন ২০২১ সালে চাম্পা রানী শীলের সাথে পরিচয়ের পরে ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়। একটা পর্যায়ে তার সমস্যার কথা বলে আমার কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে টাকা ধার নেয়। পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে তাদের সাথে প্রায় মনমালিন্য হয়। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে চাম্পা রানীর বরগুনা বাসায় ডেকে নিয়ে আমাকে শারীরিক ভাবে টর্চার করে লোকজন দিয়ে। আমার উপরে লোকজন দিয়ে চাপ তৈরি করে আমার মতের বিরুদ্ধে গিয়ে ১০ লক্ষ টাকা কাবিনে চাম্পা রানী শীলের সাথে বিবাহ পরিয়ে দেয়। আমি টাকাও পেলাম না উল্টো বিবাহ পরিয়ে আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে।
বরগুনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল কাসেম মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী হেলাল উদ্দিন ফারুক থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
চাম্পা রানী শীলের কাছ থেকে প্রতারণার স্বীকার যত মানুষ ::
মানুষের সাথে ভালো সম্পর্ক তৈরি করে নিজের ব্যবসায়ীক প্রয়োজন দেখিয়ে টাকা ধার নিতেন চাম্পা রানী শীল। বিভিন্ন ব্যক্তি, ব্যাংক এবং এনজিও মিলে অন্তত অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। চারটি চেক ডিজঅনার মামলায় তার নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে বরিশাল যুগ্ম দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক। চাম্পা রানী শীল বর্তমানে পলাতক আসামি।
পাওনা টাকা না দেওয়ায় ভুক্তভোগী আবির বাদী হয়ে বরিশাল যুগ্ম দায়রা জজ প্রথম আদালতে চাম্পা রানী শীলের বিরুদ্ধে ৫ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকার চেক ডিজঅনার মামলা করেন। মামলা নাং ১১৮০/২০২২। উক্ত মামলায় চম্পা রানীর পাঁচ মাস সাজা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পাওনা টাকা ফেরত না পেয়ে চাম্পা রানী শীলের বিরুদ্ধে বরিশাল যুগ্ম দায়রা জজ প্রথম আদালতে ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকার চেক ডিজঅনার মামলা করেন। মামলা নাং ১১৯৩/২০২২। উক্ত মামলায় চম্পা রানী শীলের ৩ মাসের সাজা হয়েছে।
নগরীর হাসপাতাল রোডের বাসিন্দা রাকিব হাওলাদার ৩০ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা ফেরত না পাওয়ায় বরিশাল যুগ্ম দায়রা জজ প্রথম আদালতে চম্পা রানীর বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনার মামলা করেন। মামলা নাং ২০১৭/২০২৩।
আমিনুল ইসলাম নামে আরএক ব্যক্তি পাওয়া টাকা ফেরত না পেয়ে বাদী হয়ে ১৫/০৫/২০২২ সালে বরিশাল যুগ্ম দায়রা জজ প্রথম আদালতে চম্পা রানী শীলের বিরুদ্ধে ১২ লক্ষ টাকার চেক ডিজঅনার মামলা করেন। উক্ত মামলায় চম্পা রানী শীলের পাঁচ মাস সাজা হয়েছে।
পপুলার মাল্টিপারপাস সভাপতি ফরিদ উদ্দিন জানান চাম্পা রানী শীলের বিরুদ্ধে পিরোজপুর ১ম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে ১ লক্ষ টাকার ঋণ খেলাপির মামলা চলমান রয়েছে। শক্তি এনজিও থেকে ঋণ খেলাপির অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে চাম্পা রানী শীল তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়ে স্বীকার করেন। অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার বিষয় টা তিনি অস্বীকার করে বলেন আমি চক্রান্তের স্বীকার।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ আরিচুর হক বলেন চাম্পা রানী শীল নামের এক আসামীর নামে কোতোয়ালি মডেল থানায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য কার্যক্রম চলমান রয়েছে।