শিরোনাম

| |

থানায় ঢুকে ফেসবুক লাইভে এসে ছাত্রলীগ নেতার বিষপান

ডেইলি বরিশাল সংবাদ সংবাদ সংগ্রহে সারাক্ষন

প্রকাশিত: October 21, 2021 7:54 AM
Print Friendly and PDF

নিউজ ডেস্ক :: চট্টগ্রামের বাঁশখালী থানায় ঢুকে বিষপান করে আত্নহত্যার চেষ্টা করেছেন জেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক রাসেল ইকবাল। এ সময় তিনি থানায় ঢুকে ফেসবুক লাইভে এসে বিষপান করেন। এ ঘটনায় দ্রুত তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বাঁশখালী উপজেলার শীলকূপ ইউনিয়নের মনছুরিয়া বাজার এলাকায় বসতবাড়ির সীমানায় পানি নিষ্কাশনের পাইপ বসানো নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষে দুজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহত হয় আরও দুপক্ষের তিনজন।

কিন্তু এই হতাহতের কোনো তদন্ত ছাড়াই ছাত্রলীগ নেতা রাসেল ইকবালের বাবা আবু সিদ্দিককে পুলিশ আটক করায় ক্ষোভে তিনি কাজটি করেন বলে লাইভে এসে জানান তিনি।

বুধবার (২০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাঁশখালী থানায় এ ঘটনা ঘটে। বিষপানকালে রাসেলকে বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করেন পুলিশ সদস্যরা। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাঁশখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজিজুল ইসলাম বলেন, পানি নিষ্কাশনের পাইপ বসানো নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষে দুজনের মৃত্যুর ঘটনায় আটক দুজনের একজন রাসেলের বাবা।

তাকে নির্দোষ দাবি করে লাইভে থাকা অবস্থায় থানায় ঢুকে বিষপান করেন রাসেল ইকবাল। রাসেল দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক। তাকে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

রাসেল লাইভে বলেন, আমার নাম রাসেল ইকবাল। আমি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক। আমার বাড়ি বাঁশখালী উপজেলার শীলকূপ ইউনিয়নের মনছুরিয়া বাজার এলাকায়। এর আগেও তিনবার আমাকে পুলিশের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমার বাবা নিরপরাধ একজন মানুষ। আমিও কোনো অপরাধ করি নাই। আমাদের এলাকায় মারামারির ঘটনায় নাকি একজন মানুষ মারা গেছে। ওই ঘটনায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে, কোনো প্রমাণ ছাড়া কালা শুক্কুর ও ডাকাত পাগলা শাহ আলমের ছেলে মাহমুদুল ইসলামরা বিভিন্নভাবে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করে মামলায়। আজকে আমার বাবাকে ধরে নিয়ে আসছেন এসআই হাবিব।

রাসেল বলেন, এসআই হাবিবের উচিত ছিল ওখানে গিয়ে তদন্ত করা, এলাকায় ঘটনাস্থলে গিয়ে সবার তথ্য প্রমাণ নেওয়া। কে ঘটনার সাথে ছিল, কে ছিল না সেটা তদন্ত করা। এই ওসি কামাল সাহেব।

উনার সাথে কালা শুক্কুরের ভালো সম্পর্ক। কালা শুক্কুর বলছে, সে জন্য এখন আমার বাবাকে ধরে নিয়ে গেছে। এখন আমাকেও নাকি পুলিশ খুঁজছে।

তিনি বলেন, এখন আমি ভাই, একজন ছাত্রলীগের কর্মী হয়ে যদি আমার এ অবস্থা হয়, আমার পরিবারের যদি এ অবস্থা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কিভাবে ভালো থাকবে বলেন? এর আগেও আমার বন্ধুর সাথে একটা মেয়ের সম্পর্ক ছিল, এখন আমার বন্ধু আর ঐ মেয়েটা ওরা পালিয়ে বিয়ে করছে। ওই মামলায় কালা শুক্কুর আমাকে ফাঁসায় দিছে।

তারপর আমার বন্ধু একজনের কাছ থেকে টাকা পাচ্ছে, এখন আমি যখন রাজনীতি করি, আমাকে ডাকছে। ঐ ছেলেটাকে ডাকছে। আমি কথা বলছি। এখন আমি নাকি তাকে অপহরণ করেছি, তখন ওসি সালাউদ্দিন হীরা ছিল, তারপর এসআই রফিক ছিল, তদন্ত ওসি শরীফ ছিল।

উনারা যায় আমার বাবাকে বাড়িতে মারতেছে। তারপর আমার বাবার কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা নিছে। আজকে আমি বেঁচে থাকার মত কোনো ইয়া..দেখছিনা।

ফেসবুক লাইভের এক পর্যায়ে রাসেল ইকবাল বিষের বোতল হাতে নিয়ে বলেন, আজকে আমি থানার সামনে এগুলা (বিষ) খাবো। আমার মৃত্যুর জন্য একমাত্র দায়ী থাকবে পুলিশ প্রশাসন। যারা আমার বাবাকে ধরে আনছে ওরা আর এলাকার থানার দালালগুলো।

আমার জীবনে আমার বাবাকে কখনো কোন মানুষের সাথে অন্যায় করতে দেখি নাই, খারাপ করতে দেখি নাই। আজকে আমি আসছি থানায়। আজকে আমি মরবো, না হয় আমার বাবাকে..।

এ কথা বলে সিএনজি অটোরিকশা থেকে নেমে লাইভের এক পর্যায়ে থানার মূল ফটকে বিষপান করেন রাসেল ইকবাল। থানার মূল ফটকে থাকা পুলিশ সদস্যরা এ সময় তাকে থামানোর চেষ্টা করেন।

বিষপান করার পর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সেখান থেকে তাকে চমেক হাসপাতালে রেফার করা হয়।

চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আলাউদ্দিন বলেন, বিষপান করা রাসেলকে সন্ধ্যার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। এখন সে চমেকের ১৪নং ওয়ার্ডে আছে। তার শরীর ওয়াস করা হচ্ছে। এখনো জ্ঞান ফিরেনি তার।

রাসেল ইকবালের সাথে চমেক হসপাতালে অবস্থান করা চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামনুর রহমান চৌধুরী বলেন, রাসেল ইকবাল ছাত্রলীগের একজন ত্যাগী কর্মী।

রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে সে অনেকবার মামলার শিকার হয়েছে। তার ভাষ্য, তার কারণে মা-বাবা অপমানিত হবে কেন? এই বলে সে বিষপান করে।

উল্লেখ্য, বুধবার দুপক্ষের সংঘর্ষে নিহত হন-মোহাম্মদ আবদুল খালেক (৩০) ও সুলতান মাহমুদ চৌধুরী টিপু (২৫)। আহত হন-মঞ্জুর আলম (৪০), বাহাদূর (৩২) ও কামাল হোসেন (৫০)। নিহত আবদুল খালেক ও টিপু আহত কামালের পক্ষের লোক।

শেয়ার করুন :

বরিশাল সংবাদ ২৪

বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন।

বরিশাল সংবাদ ২৪

Call

নামাজের সময়সূচি
October 23, 2026
Fajr 4:43 am
Sunrise 5:55 am
Zuhr 11:42 am
Asr 3:49 pm
Maghrib 5:29 pm
Isha 6:42 pm
Dhaka, Bangladesh
October 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031  

সংবাদ সংগ্রহে সারাক্ষণ