শিরোনাম
ঢাবি প্রতিনিধি :: চলছে ভাষার মাস। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শহীদ মিনারকে সাজানো হয়েছে চেতনার সাজে। আশেপাশের দেয়ালগুলোতে রং-তুলির আঁচড়ে আঁকা হচ্ছে শহীদদের প্রতিচ্ছবি। দেয়ালে দেয়ালে বাংলা বর্ণ, প্রভাতফেরীর গান, শহীদ মিনারের বেদিতে আঁকা হচ্ছে আলপনা।
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের চৌহদ্দীতে বাঁশের বেড়া দিয়ে তৈরি করা হয়েছে সীমানা প্রাচীর। মূলবেদিতে করা হয়েছে চুনকাম। শহীদ মিনারের পূর্ব দিকে পুলিশ কন্ট্রোল রুম। শহীদ মিনারে লাগানো হয়েছে দৃষ্টিনন্দন লাল গোলাকার বৃত্ত। নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য লাগানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা।
একুশে ফেব্রুয়ারির কদিন আগে থেকেই শহীদ মিনার প্রাঙ্গণের পরিবেশ বদলে যায়। চারপাশে শুধু নিরাপত্তা আর সাজসজ্জার কাজ। শহীদ মিনারের এই সাজসজ্জার কাজ করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। কেউ আলপনা আঁকছেন, কেউ দেয়ালিকা, আর কেউবা বিভিন্ন আঁকাআঁকিতে সাজিয়ে তুলছেন আশেপাশের রাস্তাগুলো।
আলপনা আঁকছেন চারুকলা অনুষদের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী প্রভা। তিনি বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, আমরা ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থেকেই এ আলপনার কাজ করছি। আমরা অনেকেই দূরবর্তী অঞ্চল থেকে এসেছি শুধুমাত্র ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধায় এই আলপনা আঁকতে।
চারুকলা অনুষদের আরেক শিক্ষার্থী ইসরাত আবু তৈমুর বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, আমি প্রথম বর্ষ থেকেই ২১ শে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে আলপনা এঁকে আসছি। এ বছরও একই উদ্দীপনা নিয়ে কাজটা করছি৷ সবাই মিলে যেহেতু কাজ করছি ব্যাপারটা বেশ মজাদার৷ আগের বছরগুলোতে সংখ্যাটা বেশি ছিল এজন্য আরও বেশি মজা হত। আগে যেটা করা হতো, অনেক বড় করে করা হতো, রাস্তায় বড় আকারে আলপনা আঁকা হতো দোয়েল চত্বর হয়ে শহীদ মিনার পর্যন্ত। এখন মানুষ যেহেতু কম, আমাদের অনেকের বাসা দূরবর্তী অঞ্চলে হওয়াতে আসতে পারছে না। তাই এ বছর শুধু শহীদ মিনারের সামনের রাস্তাটায় আলপনা আঁকা হচ্ছে। দেয়ালগুলোতে দেয়ালচিত্র করা হচ্ছে। সীমিত সংখ্যক শিক্ষার্থী মিলে এ বছর আমরা কাজটা করছি৷
করোনাভাইরাসের কারণে এবারে বাড়তি সতর্কতা :
প্রতিবছর শহীদ মিনারের প্রভাতফেরিতে সামিল হয় লাখো মানুষ। তবে এবছর কোভিড-১৯ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জনসমাগম এড়াতে সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৫ জন এবং ব্যক্তি পর্যায়ে সর্বোচ্চ ২ জন একসঙ্গে শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে পারবেন। এক্ষেত্রে সকলকে অবশ্যই যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ ও মাস্ক পরিধান করতে হবে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।
এছাড়া সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে পলাশী মোড় থেকে শহীদ মিনার পর্যন্ত রাস্তায় ৩ ফুট পর পর চিহ্ন থাকবে। এই চিহ্ন অনুসরণ করে সবাই পর্যায়ক্রমে শহীদ মিনারে যাবেন এবং পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এক্ষেত্রে যথাযথভাবে রোডম্যাপ অনুসরণ করতে হবে। এছাড়া, বিভিন্ন প্রবেশপথে স্বেচ্ছাসেবকগণ হ্যান্ড মাইক দিয়ে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ব্যাপারে প্রচারণা চালাবেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টিও তারা মনিটর করবেন।
শহীদ মিনারে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, রাষ্ট্রাচার অনুযায়ী একুশের প্রথম প্রহরে পুস্পার্ঘ্য অর্পণের উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদিমূল প্রস্তুত করা হয়েছে। এরপরও আমরা আজ রাত এবং আগামীকালকে লাইটিং এবং সাউন্ড সিস্টেম দেখব, সেটি কেমন কাজ করছে। এছাড়া পুরো এলাকাটি সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে।
আলপনা এবং এর সমূদয় কার্য আগামী কাল দুপুরের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। তাই নিরাপত্তা ও নান্দনিকতা কোনটার ঘাটতি হবে না আশা করছি। প্রতি বছরের মতোই সকলেই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের সুযোগ পাবেন তবে এক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি বিষয়টি মানতে হবে।
উপাচার্য বলেন, একুশের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর পুষ্প অর্পণের মাধ্যমে পুষ্প অর্পণ শুরু হবে। এরপর রাষ্ট্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পর যথাযথ প্রক্রিয়ার সকলকে সুযোগ দেয়া হবে।