শিরোনাম

| |

কুয়াকাটার সৈকত প্লাস্টিক বর্জ্য আর পলিথিনের দখলে!

ডেইলি বরিশাল সংবাদ সংবাদ সংগ্রহে সারাক্ষন

প্রকাশিত: January 16, 2021 8:06 AM
Print Friendly and PDF

 

জনি আলমগীর ,কুয়াকাটা প্রতিনিধিঃ
সূর্যোদয় সূর্যাস্তের বেলাভূমি সাগরকন্যা কুয়াকাটার সৈকতটি আজ প্লাস্টিক বর্জ্য আর পলিথিনের দখলে। একই স্থানে দাড়িয়ে সূযের্যদয় আর সূর্যাস্ত উপভোগ করা যায় বলে সারাবছর কমবেশি পর্যটকদের আনগোনা লেগেই থাকে । বিশেষ দিনে পর্যটকের পদচারনায় মূখর থাকে সৈকত। সৈকতে হৈ হুল্লর, মোবাইলে সেলফি তোলা আর খেলায় মত্ত থাকে কুয়াকাটায় আগত পর্যটকরা। কিন্তু কুয়াকাটার সৈকতের বেশিরভাগ স্থানে প্লাস্টিক বর্জ্য আর পলিথিনের স্তুপ। সৈকতের বিভিন্ন যায়গায় কোমল পানীয় বোতল থেকে শুরু করে অনটাইম প্লাস্টিকের থালা, চায়ের কাপ, প্লাস্টিকের বক্স, চিপসথর খোসা, নারিকেল ও ডাবের খোসা সহ নানান প্লাস্টিক বর্জ্য আর পলিথিনের স্তুপ ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে কুয়াকাটা সৈকতের জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু করে পূর্ব ও পশ্চিমে প্রায় ১ কিঃমিঃ জুড়ে সৈকত এলাকায় এসব প্লাস্টিকের বর্জ্যরের স্তুপ লক্ষ করা যায়।এবং কুয়াকাটার এক মাত্র ট্যুরিজম পার্ক যেখানে শত শত পিকনিকের গাড়ি আসে এবং পিকনিক করে সরকারকে রাজর্স দিচ্ছে কিন্তু ওই পিকনিক স্পটটি সবসময় নোংরা থাকে এবং নেই কোন পানির ব্যাবস্থা পর্যটক পিকনিকে এসে বিপাকে পরে, কখনো কখনো ফ্রাই পল্লীর ব্যবসায়ীরা মরা মাছের অংশও সৈকতে ফেলে রাখে। কুয়াকাটায় আগত পর্যটকরা বেশিরভাগ সময়ই প্লাস্টিকের বস্তু ব্যবহার করে। সেগুলো রাখার নিদির্ষ্ট ডাস্টবিন না থাকা ও তদারকির অভাবে সৈকতের বিভিন্ন যায়গায় যত্রতত্র পড়ে থাকে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বস্তু। পরবর্তীতে সেগুলোই সমুদ্র সৈকতে গিয়ে পড়ার ফলে নোংরা হয়ে পড়ে কুয়াকাটার সৈকতটি।

সম্প্রতি আরো লক্ষ করা যায়, সৈকত ঘেষা চা ও কফির দোকানেও ব্যপকহারে প্লাস্টিক ওয়ানটাইম কাপের ব্যবহার বেড়েছে। চা খাওয়ার পরে পর্যটকসহ স্থানীয়রা এসব কাপ দোকানের আশেপাশেই ফেলছেন। এসব কাপের কারনে সৈকত নোংরা হওয়াসহ নগরীর বর্জ্যর ব্যবস্থাপনায় ভয়াবহ সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়াও পরিবেশের জন্য মারাত্বক হুমকিস্বরুপ। চা ও কফি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জানা যায়, সচেতনতার কারনেই অনেক পর্যটক আমাদের কাছে প্লাস্টিকের কাপে চা কিংবা কফিখেতে চায় ফলে বাধ্য হয়েই আমরা প্লাস্টিকের কাপে চা কফি খেতে দেই। সচেতন নাগরিকরা এসব প্লাস্টিক বস্তুর ব্যবহার দেখে বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই বলেছেন যে, আগত পর্যটকরা সচেতন হয়ে কাচের কাপ বর্জন করে অসচেতন হয়ে প্লাস্টিকের কাপ ব্যবহার করে পরিবেশ নষ্ট করার পাশাপাশি স্বাস্থের ক্ষতি করছেন।

ঢাকা থেকে কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা পর্যটক মো. জাহাঙ্গির হোসাইন(৩৫) জানান, সুন্দর সৈকতটি ময়লা আবর্জনায় সয়লাব। স্বাছন্দে ঘুরতে না পেরে অস্বস্থি লাগছে। সেভ দ্য নেচার এন্ড এনভায়রনমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনথর সমন্বয়কারী মো. সাইদুর রহমান বলেন, প্লাস্টিকের বর্য্য পরিবেশে দির্ঘস্থায়ী ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টি করে। সাধারনত উদ্ভিদকূল,জলজ প্রাণীরা প্লাস্টিক বর্য্যের জন্য মারাত্বক ক্ষতির সম্মুখিন হয়।

ট্যুরিস্ট বোট মালিক সমিতির সেক্রেটারি জাকারিয়া জাহিদ বলেন, সৈকতটি অবহেলায় আর অযত্নে পড়ে থাকে। বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির কোন কার্যক্রম আমাদের চোখে পড়েনা। তিনি আরো জানান, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বিচ কমিটিতে যুক্ত না করায় বিচ কমিটি সুফল পাচ্ছেনা।‘
হোটেল মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের সেক্রেটারি মোতালেব শরীফ বলেন, আমরা বিভিন্ন সময়ই সৈকত পরিছন্নতার অভিযান করে থাকি কিন্ত পেীরসভা কিংবা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি কার্যত ভূমিকা পালন করেনা।
কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনথর সিনিয়র এ এসপি মো. সোহরাব হোসেন বলেন, আমরা পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের সচেতন করছি যাতে তারা ময়লা আবর্জনা যততত্র না ফেলে। এবং নিজেদের উদ্দ্যেগেও সৈকতাট পরিস্কার পরিছন্ন রাখি।
কুয়াকাটা পেীর সভার নবগঠিত মেয়র মো. আনোয়ার হাওলাদার বলেন, কুয়াকাটা সৈকতটি পরিস্কার রাখার জন্য বিভিন্ন যায়গায় ডাস্টবিন দেয়া আছে সেখানে সচেতনতার অভাবে কেউ ময়লা রাখছেনা। আমাদের সবার সচেতনতাই পারে সৈকতআবর্জনা ও প্লাস্টিকমুক্ত রাখতে।
বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা প্রশাসক আবু হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সৈকটি সবার দায়িত্বে পরিস্কার পরিছন্ন রাখা দরকার। সৈকতে ডাস্টবিন রাখা আছে আমরা চাইলে সেখানে ময়লা আবর্জনা রাখতে পারি কিন্তু আমরা সেটা না করার ফলে সৈকটি নোংরা হচ্ছে

শেয়ার করুন :

বরিশাল সংবাদ ২৪

বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন।

বরিশাল সংবাদ ২৪

Call

নামাজের সময়সূচি
November 4, 2026
Fajr 4:48 am
Sunrise 6:01 am
Zuhr 11:41 am
Asr 3:42 pm
Maghrib 5:22 pm
Isha 6:35 pm
Dhaka, Bangladesh
November 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30  

সংবাদ সংগ্রহে সারাক্ষণ