শিরোনাম

| |

শিশুর মাদকাসক্ত হওয়ার পিছনে দায়ী পরিবার !

ডেইলি বরিশাল সংবাদ সংবাদ সংগ্রহে সারাক্ষন

প্রকাশিত: December 15, 2020 5:44 PM
Print Friendly and PDF

 

মাদক! আমরা জানি মাদক একটি মরণ নেশা। বড় বড় সেমিনার কিংবা আলোচনা সভায় বলি ‘মাদক কে না বলুন’ মাদক মুক্ত সমাজ গড়তে হবে। মাদকের অবাধ বিস্তার প্রতিরোধে সরকারসহ বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠন উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে। তারপরও দিন দিন মাদকাসক্ত ব্যক্তি, পরিবারের সংখ্যা কমার থেকে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর প্রধান কারন হচ্ছে মাদকের সহজলভ্যতা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপের অভাব। এখন শহর থেকে গ্রাম সব জায়গায় ইয়াবা, মদ, গাঁজাসহ বিভিন্ন নেশা জাতীয় দ্রব্য খুব সহজেই পাওয়া যায়।এ-সব মাদকের জন্য যুবক/যুবতীরা ও কিশোর/কিশোরীরা চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে পরেছে। বাংলাদেশে মাদক হিসেবে মদ,গাঁজা, হিরোইন এবং আফিমের কথা শোনা গেলেও। বর্তমানে মাদকসেবীদের একটা বড় অংশ হচ্ছে ইয়াবা আসক্ত। তবে একটি শিশু মাদকাসক্ত হওয়ার পিছনে সব থেকে বড় দায়টা থাকে তার পরিবারের। একটা শিশু মাদকাসক্ত হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে পারিবারিক অসচেতনতা। শিশু কিশোরদের বন্ধু বান্ধব নির্বাচন, তারপর তারা কাদের সাথে মেলামেশা করে, কোন পরিবেশে বেড়ে উঠছে এসব দেখার দায়-দায়িত্ব হচ্ছে পরিবারের। পরিবারের নিঃসঙ্গতাও একটি শিশুকে অপরাধের জগতের দিকে ঠেলে দেয়। নিঃসঙ্গতার কারনে শিশু কিশোররা বাজে সঙ্গ বেছে নিতে শুরু করে। তারপর ধীরে ধীরে তারা মাদককের দিকে ঝুকে পড়ে। তখন আর পরিবারের কিছু করার থাকে না। এভাবে পারিবারিক ঝগড়াঝাটি সহ বিভিন্ন কারনে শিশু কিশোরা মাদকের কবলে হারি যায়। সাধারণত প্রথম দিকে একটি শিশু সিগারেট খাওয়া শুরু করে।এরপর বন্ধু বান্ধবদের কথা শুনে কৌতুহল বসত গাঁজা, মদ, ইয়াবাসহ বিভিন্ন নেশা সামগ্রী সেবন করে। তারপর আস্তে আস্তে নিজেদেরকে হারিয়ে ফেলে নিজের জগতে। এভাবেই হারিয়ে যাচ্ছে অসংখ্য শিশু কিশোরদের জীবন!! অসংখ্য পরিবার প্রতিনিয়ত হারাচ্ছে তাদের আদরের প্রিয় সন্তানদের। একটা মাদকাসক্ত পরিবার-ই বুঝতে পারে তাদের প্রিয়ো সন্তানের ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাওয়ার যন্ত্রণা কতো ভয়াবহ এবং কষ্টের। এছাড়াও সামাজিকভাবেও ঐ পরিবারকে সহ্য করতে হয়ে অনেক কটূকথা। অনেক সময় এসব কথা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথও বেছে নেয় কেউ কেউ। মাদকাসক্ত থেকে খুব কম লোক সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে। বাংলাদেশে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইন ২০১৮ অনুযায়ী, ৪শ গ্রামের বেশি ইয়াবা দ্রব্য সামগ্রী পরিবহন ও বিপনণ করলে সর্বোচ্চ শাস্তি হবে মৃত্যুদন্ড এবং সর্বনিম্ন যাবজ্জীবন কারাদন্ড। এমন বাস্তবতায় মাদক দ্রব্যের তালিকায় ইয়াবাকে কসরিনীর অন্তর্ভূক্ত করে ৪শ গ্রামের বেশি পরিমান ইয়াবা বহন ও বিক্রি এবং চোরা চালানের সঙ্গে যুক্ত থাকলে সর্বোচ্চ শান্তি হবে মৃত্যুদন্ড এবং সর্বোনিম্ন যাবজ্জীবন কারাদন্ড। আর ৪শ গ্রামের নিচে পরিবহন করলে শান্তি হবে ৫ থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদন্ড এবং অর্থদন্ড। এছাড়া সর্বোচ্চ ২শ গ্রাম ইয়াবা পরিবহন করলে শাস্তি হবে ১ থেকে ৫ বছরের কারাদন্ড এবং অর্থদন্ড। অন্যান্য মাদকের ক্ষেত্রে ৫ গ্রামের কম পরিবহন করলে শাস্তি হবে ১ থেকে ৫ বছর এবং ২৫ গ্রামের কম বহনে ২ থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কাররাদন্ডের বিধান রেখে আইন পাস হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন এতো কঠোর করার পরও মাদক বিক্রি ও সেবনকারীর সংখ্যা কমছে না বরং বৃদ্ধি পাচ্ছে সমাজে। প্রতিদিন আমাদের সুস্থ সমাজ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে অসংখ্য যুবক, যুবতী, কিশোর কিশোরীরা মরণ নেশা মাদকের কবলে পড়ে । এ-সব যুবক/যুবতী ও কিশোর/কিশোরীদের মরণ নেশা মাদকের কবল থেকে মুক্ত করা না গেলে সমাজ একসময় হয়ে উঠবে অপরাধের অভয়ারণ্যে। এসব মরণ নেশা মাদকের বিস্তার ঠেকাতে দরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সামজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চেকপোস্ট গুলোতে আরও কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা। যাতে করে কোন অবস্থায় মাদকের বিস্তার লাভ করতে না পারে। মাদক মুক্ত সমাজই পারে অপরাধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করতে।

শেয়ার করুন :

বরিশাল সংবাদ ২৪

বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন।

বরিশাল সংবাদ ২৪

Call

নামাজের সময়সূচি
August 24, 2026
Fajr 12:00 am
Sunrise 12:00 am
Zuhr 12:00 am
Asr 12:00 am
Maghrib 12:00 am
Isha 12:00 am
,
August 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

সংবাদ সংগ্রহে সারাক্ষণ