শিরোনাম
জনি আলমগীর কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত টুরিস্ট পুলিশের ব্যবহৃত বিচ বাইক ও ওয়াটার বাইক দীর্ঘদিন ধরে অযত্নে পড়ে থাকলেও, এসব যানবাহনের নামে নিয়মিত বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, অকেজো যানগুলোর নামে প্রতি মাসেই জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে খরচ দেখানো হচ্ছে। এমনকি সংস্কারের নামেও বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন টুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হাবিবুর রহমান।
সরেজমিনে দেখা যায়, সৈকতসংলগ্ন টুরিস্ট পুলিশ বক্সের পাশে পড়ে আছে মরিচাধরা কয়েকটি বিচ বাইক। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় এগুলোর অধিকাংশই প্রায় অকেজো হয়ে পড়েছে। দেখে বোঝার উপায় নেই, একসময় এগুলো সমুদ্রের ঢেউয়ে ভেসে যাওয়া পর্যটকদের উদ্ধারে ব্যবহৃত হতো। অথচ স্থানীয়দের অভিযোগ, কাগজে-কলমে যানবাহনগুলো সচল দেখিয়ে নিয়মিত খরচ উত্তোলন করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, পর্যটন হলিডে হোমস মাঠে পড়ে থাকতে দেখা যায় কয়েকটি ওয়াটার বাইকবও একটি স্পীড বোট। কার্যত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টুরিস্ট পুলিশের নিজস্ব সচল উদ্ধারযান নেই বললেই চলে। ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে কার্যকর উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনা নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় এসব বিচ বাইক ও ওয়াটার বাইক ব্যবহার করে সমুদ্রে নামা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হতো। গভীর সমুদ্রে ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে যাওয়া পর্যটকদের দ্রুত উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত এসব যান। কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ যান অচল হয়ে পড়ে থাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে কুয়াকাটা সমুদ্র উত্তাল হয়ে ওঠে। অতীতে এ সময়ে একাধিক পর্যটক নিখোঁজ ও মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। অথচ টুরিস্ট পুলিশের নিজস্ব উদ্ধারযান সচল না থাকায় যেকোনো দুর্ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
কুয়াকাটা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি কাজী সাঈদ বলেন,
টুরিস্ট পুলিশ পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য দায়িত্ব পালন করলেও বাস্তবে তার কার্যকর উপস্থিতি খুব একটা চোখে পড়ে না। বৈশাখ মাস থেকেই সমুদ্র ভয়ংকর রূপ নিতে শুরু করে। এ সময় উদ্ধার সরঞ্জাম সচল রাখা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু বর্তমানে যে অবস্থা দেখা যাচ্ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
কুয়াকাটা ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হোসাইন আমির বলেন,
সমুদ্রে দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিচ বাইক ও ওয়াটার বাইক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বছরের পর বছর এগুলো অচল হয়ে পড়ে আছে। যদি সত্যিই এসব যানবাহনের নামে নিয়মিত বিল উত্তোলন হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
খুলনার খালিশপুর থেকে কুয়াকাটায় ঘুরতে আসা পর্যটক রাজিব দেবনাথ অভিযোগ করে বলেন,
এখানে দৃশ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুবই দুর্বল। টুরিস্ট পুলিশ থাকলেও তাদের তৎপরতা চোখে পড়ে না। বরং সৈকতে ইজিবাইক, অটো, মোটরসাইকেল ও হকারদের উৎপাতেই বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন,
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত বছরগুলোতে এসব বাইক সংস্কারের জন্য লাখ লাখ টাকা ব্যয়ের হিসাব দেখানো হলেও বাস্তবে তার কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি। এতে জনমনে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে টুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হাবিবুর রহমান বলেন,
বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। কিছু যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে পড়েছে। সেগুলো মেরামত কিংবা প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ট্যুরিস্ট পুলিশ নিয়মিত কাজ করছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি (বরিশাল বিভাগ) অনির্বাণ চাকমা বলেন,
বিচ বাইক ও অন্যান্য অকেজো যানবাহনের বিষয়ে আমরা একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি। তবে এখনো কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি। জ্বালানি বাবদ যে খরচ দেখানো হয়, তা লেম্বুর বন ও গঙ্গামতি এলাকায় ডিউটির কাজে ব্যয় করা হয়।
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
####
জনি আলমগীর
কুয়াকাটা পটুয়াখালী প্রতিনিধি
১১/০৫/২০২৬ ইং
মোবাইল ০১৭৩৪৭৭৩৫৮০