শিরোনাম
মো. মুশফিক হাওলাদার লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি:নিজের সাফল্যে মানুষ যতটা গর্বিত হয়, তার চেয়ে অনেক বেশি গর্ব হয় সন্তানদের সাফল্যে। এই গর্বই অনুভব করছেন ভোলার লালমোহন উপজেলার কালমা ইউনিয়ন ৫নং ওয়ার্ড ঐতিহ্যবাহী বিশ্বাস বাড়ির বাসিন্দা মো. আল- আমিন বিশ্বাস। পেশায় তিনি একজন শিক্ষক। এক ছেলে ও দুই মেয়ের গর্বিত বাবা তিনি। সন্তানদের প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে তাদের পড়ালেখার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। এতে সফলও হয়েছেন সুপার আল-আমিন বিশ্বাস। তিনি চরছকিনা দাখিল মাদরাসার সুপার। তার বড় ছেলে মো.তাহসিন বিশ্বাস বর্তমানে বরিশাল শের-ই- বাংলা মেডিকেল কলেজে (বিডিএস-১০) পড়াশুনা করছেন। মেঝো মেয়ে হাবিবা আফরিন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এগ্রিকালচার বিভাগে এ বছর ভর্তি হয়েছেন। ছোট মেয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে লালমোহন হা-মীম রেসিডেন্সিয়াল স্কুল এন্ড কলেজে অধ্যয়ন করছেন।
সন্তানদের এমন সাফল্যে বাবা হিসেবে গর্বিত আল- আমিন বিশ্বাস।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, তার বড় ছেলে মো. তাহসিন ও মেঝো মেয়ে হাবিবা আফরিন লালমোহন উপজেলার যুগোপযোগী বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হা-মীম রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ছিল।
এই প্রতিষ্ঠান থেকে মো. তাহসিন ১ম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে থেকে এসএসসি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষাজীবনের মাধ্যমিক স্তর শেষ করেন। হাবিবা আফরিন ১ম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে হা-মীম রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন। তারা ২ জনই পঞ্চম, অষ্টম, এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ সহ স্কালারশিপ অর্জন করেন। বিভিন্ন সময় নিজেদের কৃতিত্বের জন্য ভূষিত হয়েছেন নানান পুরস্কারে। তাহসিন বর্তমানে বরিশাল শের-ই- বাংলা মেডিকেল কলেজে (বিডিএস-১০) অধ্যয়ন করলেও ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে। হাবিবা আফরিন বর্তমানে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছেন। তবে তিনিও এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ছাড়াও আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন। সন্তানের এমন সাফল্যে বাবা আল- আমিনসহ পুরো পরিবারের মাঝে আনন্দ বিরাজ করছে। সুপার মাওলানা আল- আমিন বিশ্বাস জানান, এই তিন সন্তানকে নিয়ে আমার স্বপ্ন; কেবল তারা পড়ালেখা করে প্রকৃত মানুষ হবে। তাদের এ পর্যন্ত আসতে সবচেয়ে বেশি অবদান রয়েছে তাদের মায়ের। আমি শুধু আর্থিক এবং মানসিকভাবে সাপোর্ট দিয়েছি। একইসঙ্গে এই সফলতার জন্য ওদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং লালমোহন হা-মীম রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মো. রুহুল আমিনসহ অন্যান্য শিক্ষকদের অবদান অতুলনীয়। লালমোহনে ‘হা-মীম ‘ আমাদের ভোলা বাসীর জন্য একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান। পড়ালেখার পাশাপাশি বিভিন্ন খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও এগিয়ে থাকে হা-মীমের শিক্ষার্থীরা। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের লক্ষ্য নির্ধারণ করে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নিয়মিত তদারকি করে এ প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা। আমি লালমোহন হা-মীম রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একজন অভিভাবক হিসেবে সবসময় এই প্রতিষ্ঠানটির সাফল্য কামনা করবো। কারণ তারা আমার সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যতের পথ দেখিয়েছেন।
এ বিষয়ে লালমোহন হা-মীম রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মো. রুহুল আমিন বলেন, আল- আমিন বিশ্বাসের তিন সন্তান এক ছেলে ও দুই মেয়ে। তার ছেলে আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি ও মেঝো মেয়ে এসএসসি ও এইচএসসি পর্যন্ত লেখাপড়া করে গেছেন। ছোট মেয়ে আমাদের এখানে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত আছে। তারা সত্যিই অনেক মেধাবী। আমরা কেবল তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছি। তা মেনে চলে এখন সুন্দর একটি ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাচ্ছে তারা। এ ছাড়া আমরা প্রতিটি শিক্ষার্থীকেই পড়ালেখার পাশাপাশি প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ক্লান্তিহীনভাবে শ্রম দিচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য; এখানের শিক্ষার্থীরা প্রকৃত শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে একজন সুশিক্ষিত মানুষ হয়ে উঠবে। ভবিষ্যতে তারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসে দায়িত্ব পালন করবে, ইনশাআল্লাহ্।