শিরোনাম
এস এল টি তুহিন : নৌ পথের যাত্রীদের জানমাল নিরাপত্তাহীন। নির্বিঘঘ্ন হত্যাকান্ডের জন্য বিলাসবহুল নৌযানকে বেঁছে নিচ্ছেন অপরাধীরা। গত ৩ মাসে ঢাকা থেকে বরিশালগামী ২টি লঞ্চে এক নারী সহ ২জনকে নির্মমভাবে হত্যা করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এছাড়া যাত্রীদের নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়া, ঠেলে ফেলে দেয়া এবং লঞ্চে চুরি, টানা পার্টি, মলম পার্টি ও ছিনতাইকারী প্রতিরোধেও বিলাসবহুল যাত্রীবাহি নৌযানগুলোতে নেই কোন নিরাপত্তার ব্যবস্থা। এ কারনে সাম্প্রতিক সময় বরিশাল ঢাকা নৌ রুটের যাত্রীবাহি জাহাজগুলো পরিনত হয়েছে অপরাধীদের অভয়ারন্যে। যদিও যাত্রী সাধারনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নানামুখি পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলেন বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর গোলোম সাদেক। গত ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে বরিশালগামী এমভি পারাবাত-১১ লঞ্চের বানিজ্যিক কেবিন থেকে জান্নাতুল ফেরদৌস লাবনী (২৯) নামে এক যাত্রীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই যাত্রীকে চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে বরিশাল নিয়ে আসছিলো তার বন্ধু মনিরুজ্জামান। মধ্য রাতে লঞ্চের কেবিনে মতের অমিল হলে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে সে। লঞ্চটি বরিশাল নদী বন্দরে নোঙ্গর করার পর মনিরুজ্জামান পালিয়ে যায়। একদিন পর ১৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার মিরপুর থেকে গাজীপুরের কাপাসিয়ার টোক গ্রামের বাসিন্দা মনিরুজ্জামানকে গ্রেফতার করে পিবিআই। পরে মনিরুজ্জামান লাবনী হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেয়। গত ১৪ নভেম্বর রাতে বরিশাল থেকে ঢাকাগামী একটি লঞ্চ থেকে কীতনখোলা নদীর চরমোনাই পয়েন্টে ঝাঁপিয়ে পড়েন ফাল্গুনী আক্তার নামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক। ওই রাতেই নদীতে মাছ শিকাররত জেলেরা তাকে অর্ধমৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন। সব শেষ মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) সকালে ঢাকা থেকে বরিশাল নদী বন্দরে আসা এমভি সুন্দরবন-১১ নামে একটি লঞ্চের ছাদের ইঞ্জিনের ধোয়ার চিমনীর আড়াল থেকে এক যুবকের রক্তাত্ব লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঝালকাঠির নলছিটির শামীম হাওলাদার নামে ওই যুবকের পেটে সহ সারা শরীরে ধারালো অস্ত্রের ৬টি কোপের চিহ্ন রয়েছে। একাধিক ব্যক্তি তার হত্যা মিশনে অংশ নেয়। নিস্তেজ হওয়ার আগে হত্যাকারীদের সাথে ওই যুবকের দির্ঘক্ষন ধস্তাধস্তি হয় বলে জানিয়েছেন বরিশাল নৌ পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার আহসান হাবিব নিউজজিকে জানান,এর আগেও একই রুটের এমভি পারাবত-১১ নামে একটি লঞ্চের স্টাফ কেবিন থেকে এক নারীর এবং এর আগে এমভি সুরভী-৮ নামে আরেকটি লঞ্চের আনসার কেবিন থেকে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এছাড়া প্রায়ই বিভিন্ন লঞ্চের কেবিন থেকে যাত্রীদের মুঠোফোন ও স্বর্নালংকার সহ মূল্যবান মালামাল চুরির অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব অপরাধ প্রতিরোধে লঞ্চগুলোর নিজস্ব কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। হত্যাকান্ড সংঘটিত হওয়া সুন্দরবন-১১ লঞ্চে কোন আনসার নেই। ৩ জন নিরাপত্তা কর্মী পালাক্রমে ২৪ ঘন্টা ডিউটি করেন। ওই নিরাপত্তা কর্মীরা যাত্রীদের নিরাপত্তা নয়, মালিকের স্বার্থ রক্ষায় টিকেট বিহীন যাত্রীদের প্রতিরোধ করে বলে জানান বরিশাল নৌ পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার আহসান হাবিব।
সুন্দরবন-১১ লঞ্চের সুপারভাইজার মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, তাদের লঞ্চে তো ৩জন নিরাপত্তা কর্মী আছে। অন্য অনেক লঞ্চে তো একজন নেই। বরিশাল লঞ্চ যাত্রী সংস্থার সদস্য সচিব অধ্যাপক মহসিন-উল ইসলাম হাবুল বলেন, লঞ্চ মালিকরা শুধু ব্যবসা নিয়ে ভাবেন। যাত্রী সেবা বা যাত্রীর সুবিধা-অসুবিধার দিকে মালিকদের নজর নেই। বরিশাল-ঢাকা রুটের লঞ্চগুলো দুর্বৃত্তদের অভয়ারন্যে পরিনত হয়েছে। কেবিনগুলোতে প্রচুর অপকর্ম হয়, খুন হয়, দেখার কেউ নেই। যাত্রীদের জানমালের নিরাপত্তার জন্য শুধু আনসার নয়, আনসারের চেয়েও কোন শক্তিশালী আইন শৃঙ্খলা বাহিনী দেয়া প্রয়োজন। বিআইডব্লিউটিএ এবং প্রশাসনের উচিত বিষয়টি কঠোর নজরদারী করা।
বরিশাল নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক (যাত্রী ও পরিবহন) মোস্তাফিজুর রহমান নিউজজিকে বলেন, অনেক আগে সব যাত্রীবাহি লঞ্চে আনসার বাধ্যতামূলক ছিলো। লঞ্চ মালিকদের চাপে কর্তৃপক্ষ এই নিয়ম শিথিল করে। বিষয়টি নৌ পরিবহন অধিদপ্তর দেখভাল করে বলে দায় এড়ানোর চেস্টা করেন তিনি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক নিউজজিকে বলেন, লঞ্চগুলোতে যাত্রীদের জান-মালের নিরাপত্তায় আনসার নিয়োগে তারা একমত। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ডিজি শিপিংয়ের। তারা অনুমোদন দিলে কোন লঞ্চ যাতে আনসার ব্যতিত অরক্ষিত অবস্থায় এবং পরিচয় বিহীন কোন যাত্রী নিয়ে গন্তব্যে ছেড়ে যেতে না পারে সে বিষয়টি নিশ্চিত করবে বিআইডব্লিউটিএ।
| নামাজের সময়সূচি | |
|---|---|
| March 6, 2026 | |
| Fajr | 5:01 am |
| Sunrise | 6:12 am |
| Zuhr | 12:09 pm |
| Asr | 4:24 pm |
| Maghrib | 6:06 pm |
| Isha | 7:18 pm |
| Dhaka, Bangladesh | |