শিরোনাম
রিপন রানা,বরিশাল /// টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে বন্যায় প্লাবিত দেশের আট জেলা ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ।
জলে ভাসা দুর্বিষহ দিন পার করছে লাখ লাখ মানুষ। সরকারের পাশাপাশি তাদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক যুগ্ন সাধারন সম্পাদক বরগুনা জেলা বিএনপি ১১০ বরগুনা (২) সংসদীয় আসনের কৃতি সন্তান মাওলানা শামীম আহমেদ।
গত রবিবার (২৫ আগষ্ট) মাওলানা শামীম আহমেদের নিজ্ব উদ্যোগে একটি সংগঠনের কাছে,বন্যায় প্লাবিত বানভাসিদের জন্য আট লাখ টাকা হস্তান্তর করেন। এছাড়াও বরগুনা বাসিকে সতর্কে থাকার আহবান জানান।
তিনি বলেন, ৩৬শে জুলাই (৫ আগস্ট) স্বৈরাচারী দানবের বিদায়ের পর এই রাজনৈতিক বন্যাও মোকাবেলা করা হবে। সাময়িক বিপর্যয়ও কেটে যাবে, তারপর ভেসে উঠবে ক্লেদমুক্ত নতুন বাংলাদেশ।
জনপ্রশাসন রাষ্ট্র চালাবে,পরাজিত শক্তি যেন বন্যার সুযোগে দেশে অশান্তি সৃষ্টি করতে না পারে। এই কঠিন সময়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা গাদ্দার চিনে রাখতে হবে।
আসুন সবাই সাধ্যমতো এগিয়ে আসি বন্যার্তদের পাশে, না পারলে দোয়া করি, যেন জাতি এই আজাব থেকে দ্রুত নিষ্কৃতি পায়।
দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, মানুষ বাঁচলে ক্ষতি আমরা পুষিয়ে নেব, পানির হিস্যা অবশ্যই বুঝে নেব, কখন কে গেট ছেড়েছে, সব মনে রেখে অধিকার ঠিকই কড়ায়ণ্ডায় আদায় করা হবে। শুধু এই মুহূর্তে দরকার মানুষগুলোকে বাঁচানো। নতুন জোয়ারে সব সংস্কার করে ফেলা যাবে। কিন্তু এই বন্যার পানির জোয়ারে আগে মানুষগুলোকে বাঁচানো দরকার।
এই মানুষগুলোই দেশ গড়বে। ইতিমধ্যে উদ্ধার কাজে সাড়া দিছে দেশের ছাত্রজনতা, বুদ্ধিজীবী, উপদেষ্টা, নাগরিকসমাজ, শিক্ষিতসমাজ আর সব সাধারণ মানুষ, আমরা যুদ্ধ করতে জানি, হোক সেটা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে বা অমানুষসৃষ্ট বন্যা অথবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমরা যে পারি, আরেকবার দেখাবো। বন্যার পানির জোয়ারে প্লাবিত জেলার মানুষ কখনো না খেয়ে কষ্টে জীবন যাপন করবে না ইনশাআল্লাহ।
মাওলানা শামীম বলেন, বন্যা দুর্গতরা আমাদের ভাই, বোন। আমরা তাদের পাশে ছিলাম,আছি,থাকবো ইনশাআল্লাহ।
এবং তিনি উল্লেখ করে বলেন,বন্যার শুরু থেকেই বিএনপি নেতাকর্মীরা স্থানীয়ভাবে বন্যা দুর্গতদের পাশে আছে। পরবর্তী পুনর্বাসন কাজেও বিএনপি দুর্গত মানুষের পাশে থাকবে। এছাড়াও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পাশে থেকে আমরা তাদেরকেও সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত আছি।
তিনি মহান আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করে বলেন, যারা বন্যায় নিহত হয়েছেন তাদের যেন মহান আল্লাহ শহিদী মর্যাদা দান করেন।
আরো বলেন, কোনো সতর্কীকরণ ছাড়া ভারত বাঁধ খুলে দেওয়ার কারণে বাংলাদেশে এই ভয়াবহ বন্যা।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী উজানের কোনো রাষ্ট্র যদি নদীর গেট খুলে দেয় তাহলে অবশ্যই ভাটির দেশগুলোকে আগাম জানিয়ে দেওয়ার বিধান রয়েছে। অথচ রাতের আঁধারে গেট খুলে দেওয়ার আগে ভারত সরকার বাংলাদেশকে কোনো রকম সতর্ক করেনি। আমি ভারতের এমন কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানাচ্ছি।