শিরোনাম

| |

করোনা চিকিৎসায় ঝুঁকিতে স্বাস্থ্যকর্মীরা

ডেইলি বরিশাল সংবাদ সংবাদ সংগ্রহে সারাক্ষন

প্রকাশিত: April 17, 2020 7:57 PM
Print Friendly and PDF

জীবন বাজি রেখে করোনাযুদ্ধে সামনের সারিতে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। কিন্তু যুদ্ধের মাঠে তাদের প্রয়োজনমতো সুরক্ষা সরঞ্জাম দেয়া হচ্ছে না। যথাযথ নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই তাদের চিকিৎসা ও সেবা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে কাজ করতে গিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের প্রায় ৬৭ চিকিৎসক ও ৫২ জন নার্সসহ দেড় শতাধিক স্বাস্থ্যকর্মী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া অনেক রোগী কোভিড-১৯ বাহক হলেও শনাক্ত না হওয়ায় তারা চিকিৎসা নিতে গিয়ে সেবাকর্মীদের সংক্রমিত করছেন।

হাসপাতালগুলোতে এখনও হয়নি ট্রায়জ (বিশেষ ব্যবস্থা যেখানে সব রোগীকে পৃথক করে চিকিৎসা দেয়া হয়) ব্যবস্থা। অনেক রোগী তথ্য গোপন করে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এসব কারণে ভয়াবহ রোগটি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে।

এভাবে চলতে থাকলে স্বল্প সময়ে দেশের স্বাস্থ্যকর্মীদের একটি বড় অংশ কোভিড আক্রান্ত হয়ে পড়তে পারেন। সেটি হলে অন্য রোগীরাও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হবেন- এমন আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

তারা বলেন, কোভিড-১৯ আক্রান্ত একজন রোগীকে চিকিৎসা দিতে গিয়েই সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. মঈনউদ্দিন করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। উন্নত চিকিৎসায় ঢাকা আনার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্স চেয়েও তার জন্য পাওয়া যায়নি। এখনও হাসপাতালগুলোতে যারা সরাসরি চিকিৎসাসেবায় যুক্ত তাদের উপযুক্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম দেয়া হচ্ছে না।

হাসপাতালগুলোতে করা হয়নি ট্রায়জের ব্যবস্থা। অবৈজ্ঞানিকভাবে সেবা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে চিকিৎসকদের। করোনা ওয়ার্ডের বাইরে কর্মরত নার্সদের সুরক্ষা পোশাক দেয়া হয় না। পিপিই অপ্রতুল, মাস্ক, গ্লাভস কম। চিকিৎসকরা বলেন আমরা নিরাপত্তাসহ সেবা দিতে চাই।জানা গেছে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের সপ্তাহে একটি করে সার্জিক্যাল মাস্ক দেয়া হচ্ছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি ও অবস্ বিভাগের একজন চিকিৎসক কোভিড পজেটিভ ধরা পড়ার পরও তার সঙ্গে কাজ করেছেন অন্য ডাক্তারকে কোয়ারেন্টিনে নেয়া হয়নি। অনেক বেসরকারি হাসপাতালে একাধিক চিকিৎসক আক্রান্ত হলেও হাসপাতালগুলো লকডাউন করা হচ্ছে না।

এভাবেই চিকিৎসক ও রোগীর মাঝে রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। দায়িত্বপালনের সময় ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের রোগটিতে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা থাকে। সেক্ষেত্রে সবার আগে তাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।

করোনা আক্রান্ত ৬৭ চিকিৎসক : করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৬৭ চিকিৎসক। এর মধ্যে দুজনের শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দেয়ায় তাদের আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) দফতর সম্পাদক অধ্যাপক ডা. শেখ মো. শাহীদ উল্লাহ যুগান্তরকে এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, তিনটি কারণে চিকিৎসকরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন। এক. চিকিৎসকদের মানসম্পন্ন এন ৯৫ মাস্ক ও সুরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়নি। দুই. কোভিড ১৯ চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত হাসপাতালগুলোতে ট্রায়স ব্যবস্থা না করা এবং তিন. সবাইকে একসঙ্গে করোনা চিকিৎসায় অন্তর্ভুক্ত করা।

তিনি বলেন, করোনায় যুক্ত চিকিৎসকদের তিন ভাগে ভাগ করে দায়িত্ব দিতে হবে। প্রতি গ্রুপ ৭ দিন করে কাজ করবে আর ৭ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকবে। নয়তো চিকিৎসকদের সুস্থ রাখা সম্ভব হবে না।আক্রান্ত ৫২ নার্স : দেশে এ পর্যন্ত ৫২ নার্স করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। শুক্রবার বিকালে স্বাধীনতা নার্সেস পরিষদের মহাসচিব মো. ইকবাল হাসান সবুজ যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে কর্মরত ৫২ জন নার্স করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ২৪ জনই বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত। এছাড়া আরও ২৫০ জন নার্স বর্তমানে কোয়ারেন্টিনে আছেন।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বর্তমানে সেবা দিচ্ছেন নার্সরা। কুর্মিটোলা হাসপাতালে ওয়ার্ড ও কেবিনে প্রায় দুইশ’র মতো করোনা রোগী চিকিৎসাধীন। এছাড়া আইসোলেশন ওয়ার্ডেও রোগী রয়েছে। অথচ সেখানেই নার্সদের পিপিই দেয়া হচ্ছে না।

কর্তৃপক্ষ বলছে, শুধুমাত্র যারা করোনা রোগীদের ওয়ার্ডে ডিউটি করবে তারাই পিপিই পরবে। তবে এ মুহূর্তে সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সব নার্সেরই পিপিই প্রয়োজনে বলে মনে করেন তারা।

তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, করোনা রোগীদের চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত নার্সদের সমস্যা দেখার জন্য নার্সিং অধিদফতর থেকে করোনা সেল গঠিত হলেও, সেলের কেউ তাদের খোঁজ নেন না। তাদেরকে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায় না।

ঢাকা মেডিকেল ও ঢাকার বাইরে মেডিকেল টেকনোলস্টি, ফার্মাসিস্ট ও হাসপাতালে কর্মরত বিভিন্ন স্তরের সেবাকর্মী মিলিয়ে আরও প্রায় অর্ধশত সেবাকর্মী কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়েছেন। করোনা রোগীর নমুনা সংগ্রহ করতে গিয়েই আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ১০ থেকে ১২ জন টেকনোলজিস্ট।এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্তন মহাসচিব মেলিম মোল্লা যুগান্তরকে বলেন, নমুনা সংগ্রহে টেকনোলজিস্টদের যেভাবে কাজে লাগানো হয় সেটি সঠিক নয় প্রতিদিন অফিসে হাজির করিয়ে নতুন জুটি করে পাঠানো হয়। এতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি। একটি জুটিকে টানা ৫ থেকে ৭ দিন কাজে লাগানো হতো তাহলে সংক্রমণের ঝুঁকি কমত।

পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য অধিদফতরের কয়েকজন চিকিৎসক যুগান্তরকে বলেন, এখনও চিকিৎসাক্ষেত্রে বেশ কিছু ঘাটতি রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হল এন ৯৫ মাস্ক। যেসব চিকিৎসক কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত আছেন তাদের নিরাপত্তার জন্য অবশ্যই এন ৯৫ মাস্ক দিতে হবে। কিন্তু রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মতো বড় হাসপাতালে চিকিৎসকদের সপ্তাহে একটি সার্জিক্যাল মাস্ক দেয়া হচ্ছে।

মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা ইউনিট করা হলেও সেখানে সাধারণ মাস্ক দিয়ে কাজ করছেন ডাক্তাররা। দ্বিতীয়ত যেসব চিকিৎসক করোনার জন্য নির্ধারিত হাসপাতালে কাজ করছেন তাদের যথাযথ পার্সোনাল প্রটেকশন ইকুপমেন্ট (পিপিই) দেয়া হচ্ছে না। যা দেয়া হচ্ছে সেটি পরিপূর্ণ নয়।

এছাড়া এগুলো ব্যবহারের জন্য প্রশিক্ষণও দেয়া হয়নি। ফলে অনেক স্বাস্থ্যকমী সঠিকভাবে সেগুলো ব্যবহার করতে পারছেন না।

তৃতীয়ত অনেক রোগী নিজেদের লক্ষণ, উপসর্গ গোপন করে চিকিৎসকের কাছে যান।

এসব কারণে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা ঝুঁকিতে পড়ছেন। তাছাড়া অনেক জায়গায় সিনিয়র চিকিৎসকরা হাসপাতালে যাচ্ছেন না। সিনিয়ররা না গেলে জুনিয়ররা ভরসা পান না। এমনকি কোন কাজ কীভাবে করতে হবে সেটিও অনেকে বুঝতে পারেন না। এক্ষেত্রে সেটিও একটি ঘাটতি।

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)-এর সাধারণ সম্পাদক কমরেড মুবিনুল হায়দার চৌধুরী এক বিবৃতিতে বলেছেন, দেশে ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সামগ্রী দেয়া হচ্ছে না। তাদের বিনা নিরাপত্তায় চিকিৎসা দিতে একরকম বাধ্য করা হচ্ছে। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা কোনো ছাড় চাইছেন না, কিন্তু তাদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সাধারণ প্রটোকলও মানা হচ্ছে না।

প্রত্যন্ত অঞ্চল, মফস্বল শহর এমনকি বিভাগীয় শহরে ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রায় নিরাপত্তা ছাড়াই এই সংকটের দিনে কাজ করে যাচ্ছেন। কোনো নিরাপত্তাই শতভাগ নিশ্চয়তা দেয় না। সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করলেও ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের এতে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা থাকে। কাজেই আগে তাদের জন্য সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ তারা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠলে আরও অনেক লোকের সহায় হতে পারবেন। কিন্তু তা না করে সরকার বরং ডাক্তারদের ক্রমশ হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছেন।

রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজের নাক-কান-গলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মনিলাল আইচ লিটু যুগান্তরকে বলেন, ডাক্তাররা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছেন। কারণ অনেক রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে আসছেন, যারা করোনাভাইরাসের বাহক। কিন্তু শনাক্ত না হওয়ায় তাকে চিকিৎসা দিতে গিয়ে চিকিৎসক আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন। যেহেতু সামাজিক সংক্রমণ চলছে তাই কে রোগী কে রোগী নয় সেটা শনাক্ত না হওয়া পর্যন্ত বোঝা যাবে না। তাই কোন চিকিৎসক কোথায় কাজ করছেন সেটা বিষয় নয়। সব চিকিৎসককেই পযাপ্ত মানসম্মত সুরক্ষা সরঞ্জাম দিতে হবে। পায়ের সু কভার থেকে মাথার সুরক্ষা সবই দিকে হবে। তা না হলে একজন চিকিৎসক ইতোমধ্যে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন, আরও চিকিৎসকেরও একই পরিণতি হতে পারে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, প্রথম দিকে চিকিৎসকদের সুরক্ষা সরঞ্জাম দেয়ার বিষয়টি ঢিলেঢালা ছিল, এখন সারাদেশে সুরক্ষা সরঞ্জাম পৌঁছে গেছে। তবে মনে রাখতে হবে, এটা মহামারী পরিস্থিতি। এই পরিস্থিতিতে যারা সরসরি চিকিৎসা প্রদান করবে, যারা ল্যাবে কাজ করবে তারই উপযুক্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করবে।

তিনি বলেন, বিদেশে সমস্ত সুরক্ষা নিয়েও অনেক ডাক্তার আক্রান্ত হয়েছেন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যকর্মীরা আক্রান্ত হবে স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে সেবাকর্মীদের আরও সচেতন হতে হবে। একজন রোগী কোভিড-১৯ শনাক্ত না হলেও তাকে নিরাপত্তার সঙ্গে চিকিৎসা দিতে হবে। এজন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের দরকার।

শেয়ার করুন :

বরিশাল সংবাদ ২৪

বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন।

বরিশাল সংবাদ ২৪

Call

নামাজের সময়সূচি
September 11, 2026
Fajr 12:00 am
Sunrise 12:00 am
Zuhr 12:00 am
Asr 12:00 am
Maghrib 12:00 am
Isha 12:00 am
,
September 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  

সংবাদ সংগ্রহে সারাক্ষণ