শিরোনাম
প্রতিনিধি বাউফল ::পটুয়াখালী বাউফলের সেই আলোচিত সেবা ক্লিনিকে অবশ ইকজেকশন পুশের পর অপারেশন শেষে ১ মাসেও স্বাভাবিক জিবনে ফিরে আসেনি এক প্রসূতি। ঘটনা গোপন রাখতে রোগীর স্বজনদের ভয়ভীতিও প্রদর্শণ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কযেকদফা চিকিৎসা শেষে অর্থাভাবে বাড়ির বিছানায় জিবনাবসানের পথযাত্রী ওই সদ্য প্রসূতি।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের চুন্নু সিকদারের স্ত্রী ফারজানা আক্তার (২০) গর্ভকালীন সেবা নিতে ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। ওই সময়ে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা: সাইদ আহম্মেদ ও ডা: নুপুর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন। হাসপাতাল থেকে বেড়িয়ে আসলে স্বেচ্ছায় প্রনোদিত ৭/৮ জনের নারী-পুরুষ ভিন্নভিন্নভাবে ফরজানাকে ক্লিনিকে ভর্তি হওয়ার বিষয়ে উদ্ভুদ্ধ করতে থাকেন। ওই স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে হাসপাতাল থেকে ক্লিনিকের দ্বিতলে অফিসকক্ষে চলে যান তিনি। নিজেই ভর্তি হওয়ার যোগাড়যান্ত সেড়ে বাড়িতে খবর দেন। পরদিন শুক্রবার রাতে ডা: সাঈদ হোসেন ও অপর ডা: নুপুর আক্তার তাকে ক্লিনিকে দেখতে আসেন। গর্ভবতীর শারীরিক অবস্থায় ভয়াবহতা আবিষ্কার করে তাৎক্ষণিক ডা: সাঈদ হোসেন এনেসথেসিয়া পুশ করেন। অবশ ফারজানাকে রাত ৯টায় ডা: নুপুর আক্তার সিজার করান। ১ ঘন্টার অপারেশনে একটি কন্যা সন্তান প্রসব করেন ফারজানা আক্তার। কিন্তু অবশ ইনজেকশন নেয়া প্রসূতি মায়ের আর হুশ ফিরে আসেনি। অতিগোপনীয়তা বজায় রেখে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ৫দিন ক্লিনিক সেবা শেষে মুমূর্ষু প্রসূতিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বাড়িতে নিয়ে যেতে বলেন। এর আগে ক্লিনিক পরিচালক মিলন মুন্সি ও ডা: সাঈদ হোসেন প্রসূতির স্বামী চুন্ন সিকদারকে নিয়ে আলোচনায় বসেন। তারা স্বজনদের জানান, ফারজানার শরীরে মৎস্য পেতিœ, বদজি¦নের আছর ছাড়াও উপরি সমস্যা আছে। ভুত পেতিœর আছর দূরে গিয়ে সাড়ানো ভালো। এলাকায় জানাজানি করলে তোমার ক্ষতি হবে। এরপর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা: শাহ আলম ও ডা: অমিতাভ সরকারের পরামর্শে বিচ্ছিন্ন কযেক দফা প্রসূতির চিকিৎসা করানো হয়। ভুলবশত এনেসথেসিয়া অন্য একটি শিরায় দেয়া হয়েছে বলে প্রসূতির স্বামী চুন্নু সিকদারকে জানায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদ্বয়। নিজে হেটে ক্লিনিকে প্রবেশ করে ভুল চিকিস্যার বলি প্রসূতি ফারজানা অর্থাভাবে চিকিৎসা ক্ষান্ত করে বাড়ির বিছানায় পরে আছে। বহু টাকার চিকিৎসা ব্যয় যোগাড় করতে না পেরে মুমূর্ষু প্রসূতি মা বাড়ির বিছানায় মৃত্যুর সাথে এখন পাঞ্জা লড়ছেন। ভুক্তভোগীর স্বজনরা আরও জানায়, বাউফল সরকারি হাসপাতালে আগত রোগী টার্গেট করে প্রবেশদ্বারে গড়ে উঠা ক্লিনিকটিতে একাধিক মৃত্যুর ঘটনায় এড়িয়ে চলছে মালিকপক্ষ, জেলা সিভিলসার্জন ও উপজেলা স্বাস্ব্য কমপ্লেক্সের ডাক্তাদের সখ্যতার জোরে। স্বজনহারানো পরিবার মৃত্যু কিংবা দূর্ঘটনার ন্যায় বিচার পাচ্ছেনা। এ বিষয় বাউফল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা: সাইদ আহম্মেদ জানান, তার ইনকম্পিলিট ট্্রান্সভারস মাইলিটিস সমস্যা রয়েছে। এই রোগটি অপরেশনের পরেই হয়তো হয়েছে; যেকোন সময়ই হতে পারে। তবে অবশ ইনজেকশ (অ্যানেশথেশিয়া) দেওয়ায় হয়েছে কথাটা সঠিক না। পরিচালক মিলন জানান, তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে সেটা সঠিক না; তবে আমাদের চিকিৎস্যায় সন্তেষ্ট না হলে অন্যত্র চিকিৎস্যা দেওয়ার জন্য বলেছি। বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: পি.কে সাহা বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসাররা অফিস পরবর্তী সময়ে ক্লিনিকে গিয়ে চিকিৎস্যা সেবা দিতে পারেন। তবে প্রসূতি ফারজানা অটোইমুন রোগে আক্রান্ত। উন্নত চিকিৎস্যা পেলে তিন থেকে ৬ মাসের মধ্যে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে।