শিরোনাম
আরিফ হোসেন : মহামারী করোনা রোগের পাশাপাশি সম্প্রতি ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী নিয়ে বিভাগের জেলা ও উপজেলা শহর গুলোতে আতংক ছড়িয়ে পড়লেও এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু মুক্ত রয়েছে ঘনবসতিপূর্ন বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকা। এডিস মশার বংশ বিস্তার প্রতিরাধে সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে বর্ষা মৌসুমের আগে এপ্রিল-মে মাসে ৩০টি ওয়ার্ডের খাল-ড্রেন-ডোবা-নালা পরিস্কার করা, মশা ক্রাশ প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন এবং লার্ভা নিধনে হ্যান্ড স্প্রে কার্যক্রম অব্যাহত রাখায় মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়নি বলে মত প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা: বাসুদেব কুমার দাস জানান, রবিবার ৩ সেপ্টেম্বও -২০২১ইং পর্যন্ত এডিস মশার কামড়ে আক্রান্ত ১৮ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। এর মধ্যে ১ জন রোগী আগৈলঝাড়া উপজেলার। অন্য সবাই পিরোজপুর,পটুয়াখালীসহ বিভিন্ন উপজেলার বসবাসরত বাসিন্দা এবং ঢাকা থেকে আগত। স্বাস্থ্য বিভাগের প্রচার প্রচারনা ও ঘনবসতিপূর্ন সিটি কর্পোরেশন এলাকা পরিস্কার পরিছন্ন রাখার বিষয়ে মেয়রের সু-দৃষ্টি থাকায় এ বছর এখন পর্যন্ত সিটি এলাকায় বসবাসরত কেউ ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
যার দরুন, বরিশালের হাসপাতালগুলো ও ডাক্তারা অনেকটা চাপ মুক্ত রয়েছেন। বরিশাল সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, সিটি এলাকায় ৩০টি ওয়ার্ডে বসবাসরত ৬ লক্ষাধিক নাগরিকের স্বাস্থ্য সেবার দিক বিবেচনায় রেখে মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ ডেঙ্গু মশা নিধনে হতে নিয়েছেন নানামুখী পরিকল্পনা ও উদ্যোগ।
একদিকে জন-সচেতনাতা মুলক প্রচারভিযান ও বর্ষা মৌসুমের আগেই মাস ব্যাপী সিটি এলাকার বাড়ীর আঙ্গিনা, খাল-ড্রেন-ডোবা নালা পরিস্কার পরিছন্নতা অভিযান। অন্যদিকে চালানো হয় মশা ক্রাশ প্রোগ্রাম । এর আওতায় বাড়ির আঙ্গিনাসহ ড্রেন নালা ডোবায় ফগ মেশিন এবং হ্যান্ড স্প্রে দিয়ে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস করা হয়।
সিটি কর্পোরেশনের সহকারী পরিস্কার পরিছন্নতা কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, এডিস মশা প্রতিরোধ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে দুটি টিম গঠন করা হয়েছে। সেন্ট্রাল টিম নামে একটি দল নব নির্মিত ভবনে কোন এডিস লার্ভা জন্মাচ্ছে কিনা তা নিয়ন্ত্রনে কাজ করে । অন্যদিকে ড্রেন ডোবা নালা ও বাড়ির আঙ্গিনায় প্রতিদিন ফগ মেশিনের মাধ্যমে স্প্রে করে যাচ্ছেন। আর যেখানে এডিস লার্ভার সন্ধান পাওয়া যায় সেখানে ভিন্ন একটি কেমিক্যাল হ্যান্ড স্প্রে করা হয়। মেয়র স্যারের নির্দেশে আমরা কর্মিরা নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছি। নগরীর ২০ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবির হোসেন জানান,২ বছর আগে আমি ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছিলাম। তখন সুস্থ্য হতে অনেক সময় লেগেছিল।
যা আমার স্বাভাবিক জীবনে অনেক প্রভাব ফেলেছে। এখন আর নগর এলাকায় ডেঙ্গু রোগি দেখছি না। এটা আমাদের জন্য ভালো খবর। কারন এ রোগ যার হয়েছে সেই একমাত্র এই রোগের কষ্টটা অনুভব করে। সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দাস বলেন, এডিস মশা দমনে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত আছে।
ঝুঁকি সময়কালীন পর্যন্ত আমাদের এ কার্যক্রম চলবে। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ জানান, করোনার মধ্যে নগরবাসীর স্বাস্থ্য বিবেচনায় এডিস মশা নিধন কার্যক্রম আমার জন্য একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয় ছিলো। তাই আগে থেকেই ড্রেন-খাল-আঙ্গিনা পরিস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়ে ছিলাম। তাই আল্লাহর রহমতে সবাইকে ডেঙ্গু মুক্ত রাখা সম্ভব হয়েছে। আর এর সুফল এখন নগরবাসী ভোগ করছে।