শিরোনাম
ভোলা, জেলা প্রতিনিধি,ভয়ানক প্রাণঘাতীর বৈশ্বিক ভয়াবহ অতিমারির অজানা ও অদৃশ্য প্রানী নভেল করোনা ভাইরাসের আক্রমনের কারনে আরোপিত স্বাস্থ্য বিধি না মানার কারনে বাংলাদেশের অন্যান্য জেলার মত ভোলা জেলায়ও ধেয়ে আসছে লাশের মিছিল। ইতিমধ্যেই ভোলা জেলার বহু লোক করোনা ভাইরাসের দ্বারা আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও বাইরে ছুটাছুটি ও ঘুরাঘুরি করছে। অন্যদিকে নিজেকে ভাইরাস মুক্ত বলে পেশী শক্তিবলে দাবী করে। যারা যারা আক্রান্ত হয়ে করোনা জীবানুর ধারনা পেয়ে হাসপাতালগুলো থেকে অন্য রোগে আক্রান্তের নামে ছাড়পত্র নিয়ে বেরিয়ে এসেছে তারাও লকডাউন হওয়ার ভয়ে করোনা জীবাণু ছড়াচ্ছে। আর নিজের করোনা আক্রান্তির কথা গোপন রেখে কোয়ারেন্টাইনে থাকছে না। অন্যদিকে কঠোর লকডাউনের ঘোষনা থাকলেও শুধু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে লকডাউন মানছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সরে গেলে যেই কচুরিপানা সেই কচুরিপানা ভাবে লকডাউনের স্বাস্থ্য বিধি অমান্য করে। সমগ্র ভোলা জেলা জুড়েই লকডাউনের চোরাই অমান্য দশা বিরাজমান। ভোলা জেলার গ্রামে-গঞ্জে, হাটে-বাজারে, অলিতে-গলিতে সর্বত্রই লকডাউন স্বাস্থ্য বিধি অমান্য কান্ড চলছে। এক শ্রেণীর বিএনপি-জামায়াতপন্থী লোকজন লকডাউনকে সরকারের দ্বারা তাদের পলিটক্যাল ডাউন বলে সমগ্র ভোলা জেলাকে জীবানু ঝুঁকিপূর্ণ করে মৃত্যু মুখে ঠেলে দিতে চাচ্ছে। সমূদয় পরিস্থিতি এক সময় সারা ভোলা জেলায় লাশের মিছিল তৈরি করবে। বাংলাদেশের ইতিহাসে করোনায় গত এক দিনের সর্বোচ্চ মৃত্যু ১৫৩ জনের। মহামারি করোনা সংক্রমণ যা দেশে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড-এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৬৫ জনে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা পজিটিভ হয়েছেন ৮ হাজার ৬৬১ জন। এ নিয়ে দেশে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৯ লাখ ৪৪ হাজার ৯১৭ জন।
গত রবিবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে গতকাল শনিবার করোনায় ১৩৪ জনের মৃত্যু হয়। শনাক্ত ৬ হাজার ২১৪ জন। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছে ৪ হাজার ৬৯৮ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন ৮ লাখ ৩৩ হাজার ৮৯৭ জন। বরিশাল বিভাগের মৃত্যুর সংখ্যা মাত্র দুই জন দেখানো হয়েছে। তাই ভোলা জেলায় সঠিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাও প্রয়োগ হচ্ছে না। এতে সারা ভোলা জেলা জুড়ে লাশের মিছিল সৃষ্টি হবে। তাতে কোন সন্দেহ নাই। কঠোর লকডাউনের সময়ে প্রশাসনকে করোনায় মৃত: ও মাঠ পর্যায়ে নজরদারিতে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। ভোলায় স্বাস্থ্য বিধি না মানা ও লকডাউনের বিধিনিষেধ ভঙ্গ করায় গত তিনদিনে ৪৩৮ জনকে ৩ লাখ ৯২ হাজার ৮০০ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে শহরের প্রবেশ দ্বার বাংলা স্কুল মোড়, বরিশাল দালান মোড়, কালিনাথ রায়ের বাজার, বয়েজ স্কুল মোড়, ইলিশা বাস স্ট্যান্ড, নতুন বাজার, তিনখাম্বা মোড়, সদর রোড, যুগীর ঘোল মোড়, কালীবাড়ি সড়ক মোড়, ঘোষ পট্টি, মহাজন পট্টি, জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের বাস ভবন এলাকা, গাজীপুরা রোড, বাংলা বাজার ও বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাস স্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে রাস্তায় বের হওয়া লোকজন ও যানবাহন আটকে ঘর থেকে বের হওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করেন তারা। সদুত্তর না পেয়ে যাত্রীদেরকে জামাই আদরেই ফিরিয়ে দেয়া হয়। রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক কারো বিরুদ্ধেই ২৫৯ ধারায় মামলা দায়ের করা হয় নাই। এ ছাড়া বিধি নিষেধ অমান্যকারীদের গুণতে হয়েছে জরিমানা। তৃতীয় দিন শনিবারে ও ৭৮ জনকে ৬০ হাজার ২০০ টাকা অর্থ দণ্ড করা হয়। ভোলার লকডাউনের কিছু ছবি তুলে ধরা হলো।