শিরোনাম
এস এল টি তুহিন ঃঃ বাংলার শস্য ভান্ডারখ্যাত বৃহত্তর বরিশাল বিভাগে কৃষি ব্যবস্থাসহ ফসল আবাদ ও উৎপাদনে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণে কৃষকদের সাথে এ অঞ্চলের আর্থ সামাজিক ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। বিভাগের ছয় জেলায় অতীতে কৃষি ব্যবস্থা বলতে শুধু ধানকেই বোঝাত। ওইসময় উপ-মহাদেশজুড়ে ছিলো বরিশালের বালাম চালেরখ্যাতি। সময়ের সাথে সাথে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অতীত সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঠিক মনিটরিংয়ের অভাবে বিলুপ্ত হয়ে যায় বালাম চালের সুখ্যাতি। সেই বৃহত্তর বরিশালের কৃষি ব্যবস্থায় বর্তমান সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণে গত কয়েক বছরে ফসলসহ মরুভূমির নানা দুর্লভ ফল উৎপাদনে বৈচিত্র এসেছে। ফিরে আসতে শুরু করেছে বিলুপ্ত বালাম চালের সুখ্যাতি। ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের সঠিক মনিটরিংয়ের কারণে মাচান পদ্ধতি, সারজন পদ্ধতিসহ নানা আধুনিক ও লাগসই প্রযুক্তিতে বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলে শাক-সবজি, ফলসহ ধানের চারা (বীজ) পর্যন্ত উৎপাদিত হতে শুরু করেছে। সরকারিভাবে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও উন্নতমানের বীজ বিতরণের পাশাপাশি বাজারে সঠিক মূল্য পাওয়ায় প্রান্তিক চাষীরা আজ কৃষি কাজের ওপর অনেকটা নির্ভরশীল হয়ে পরেছেন। বরিশাল কৃষি সস্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ অর্থবছরে বরিশালের ১০ উপজেলায় বালাম জাতের ধান চাষ হয়েছে ৯ হাজার হেক্টরেরও অধিক জমিতে। আর এতে উৎপাদন হয়েছে ১৪ হাজার ৭৭ টন ধান। এরমধ্যে বরিশাল সদরে ১ হাজার ২১২ হেক্টরে ১ হাজার ৮৯১ টন, বাবুগঞ্জে ১৩২ হেক্টরে ২০২, উজিরপুরে ৪১০ হেক্টরে ৬৯০, বাকেরগঞ্জে ১ হাজার ৭১০ হেক্টরে ২ হাজার ৪৫৫, গৌরনদীতে ১৫০ হেক্টরে ২৪৮, আগৈলঝাড়ায় ১০৮ হেক্টরে ১৭৮, মুলাদীতে ৪৯০ হেক্টরে ৮৬৫, হিজলা উপজেলায় ৩৮০ হেক্টরে ৬৩১, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় ৩ হাজার ৫২০ হেক্টরে ৫ হাজার ৫৫১, বানারীপাড়ায় ৮৭৫ হেক্টরে ১ হাজার ২৯৩ ও বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকার ৪৬ হেক্টরে ৭৩ টন বালাম ধান উৎপাদন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ধানের পাশাপাশি সবজিসহ অন্যান্য চাষেও দক্ষিণাঞ্চলের সুনাম রয়েছে। এরমধ্যে সারাদেশে উৎপাদিত মিষ্টি আলুর প্রায় ৬০ ভাগই আবাদ ও উৎপাদন হয় দক্ষিণাঞ্চলে। মুগ ডালেরও সিংহভাগই এ অঞ্চলে আবাদ হয়। এমনকি গম আবাদেও দক্ষিণাঞ্চল ক্রমেই সমৃদ্ধ হচ্ছে। তবে সাম্প্রতিককালে তরমুজ আবাদে দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকদের ভাগ্যের চাকা ঘুরতে শুরু করেছে।চলতি মৌসুমে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার কৃষকদের উদ্ভুদ্ধ করনের মাধ্যমে প্রায় ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে সাড়ে তিন লাখ টনের মতো তরমুজ উৎপাদনের লক্ষ্যে মাঠে কাজ শুরু করেছেন কৃষি বিভাগ। এছাড়া বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট-বারি’র উদ্ভাবিত ‘বারি আম ‘১১’ নামের বারোমাসী নুতন জাতের আমের আবাদ ক্রমশ বাড়ছে দক্ষিণাঞ্চলে। বিভাগের আটঘর, কুড়িআনাসহ ভিমরুলী এলাকার প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে প্রতিবছর কমপক্ষে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টন পেয়ারা উৎপাদন হচ্ছে। এসব পেয়ারা দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে পাশ্ববর্তী দেশের পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরাতেও রপ্তানি হচ্ছে। এ অঞ্চলের অমড়ার সুখ্যাতিও দীর্ঘদিনের। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ‘বরিশালের আমড়া’র সুখ্যাতি রয়েছে সাম্প্রতিককালে বিভাগের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় সুমিষ্ট মাল্টার চাষ ও উৎপাদন হতে শুরু হয়েছে। যার চারা ও কলম সরবরাহ হচ্ছে বরিশালের বানরীপাড়া ও পিরোজপুরের নেছারাবাদ থেকে। এমনকি দক্ষিণাঞ্চলে দুর্লভ স্ট্রোবেরি, মরুভূমির সাম্মাম ও ননী ফলের সফল আবাদ হতে শুরু করেছে। বিভাগীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় সাড়ে সাত লাখ হেক্টর জমিতে ডাল, তেলবীজ ও মসলা জাতীয় ফসলসহ বিভিন্ন ধরনের রবি ফসল আবাদের লক্ষ্যে কাজ শুরু করছে কৃষিযোদ্ধারা। সোয়া ছয় লাখ টন চাল উৎপদনের লক্ষ্য নিয়ে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৪৪ হেক্টরে বোরো আবাদের বীজতলা তৈরী করা হয়েছে। বিদায়ী খরিপ-২ মৌসুমে এ অঞ্চলে আবাদকৃত প্রায় ৭ লাখ ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে আমন আবাদের মাধ্যমে ১৮ লাখ টন চাল উৎপাদনের আশায় বুক বেঁধেছেন চাষীরা। সূত্রে আরও জানা গেছে, প্রায় ৫২ হাজার হেক্টর জমিতে শীতকালীন শাক-সবজী, ৩৫ হাজার হেক্টরে তরমুজ, ৭ হাজার হেক্টরে গম, ১৩ হাজার ৫১ হেক্টরে মিষ্টি আলু, ৯ হাজার ৫১ হেক্টরে গোল আলু, ১০ হাজার হেক্টরে ভুট্টা, আড়াই হাজার হেক্টরে আখ, ৬ হাজার ১২৯ হেক্টরে শসা, ক্ষিরা ও মর্মা ছাড়াও প্রায় দেড় হাজার হেক্টর জমিতে ফুট আবাদের লক্ষ্য অর্জনে কাজ শুরু করেছেন দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকরা।
এমনকি তেলবীজ আবাদ ও উৎপাদনেও দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকদের অবদান যথেষ্ঠ। এ অঞ্চলে উৎপাদিত সয়াবিন তেলবীজ দেশের পোল্ট্রি ফিড উৎপাদনেও বিশেষ অবদান রাখছে। এছাড়া প্রায় ৩ লাখ ৫৪ হাজার হেক্টরে বিভিন্ন ধরনের ডাল জাতীয় ফসলের আবাদ হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলে। এরমধ্যে এবার ২ লাখ ১ হাজার হেক্টর জমিতে মুগডাল আবাদ হচ্ছে। যা দেশে মোট মুগ আবাদের প্রায় ৬০ ভাগ। এছাড়া ১ লাখ ৫ হাজার হেক্টরে খেশারী, ২৩ হাজার হেক্টরে ফেলন, প্রায় ৪ হাজার হেক্টরে মসুর, ১ হাজার হেক্টরে ছোলা ও প্রায় ৫০ হেক্টরে মাসকালাই ও মটর ডালের আবাদ হচ্ছে। এমনকি দক্ষিণাঞ্চলে এবার প্রায় ৪৬ হাজার হেক্টরে মসলা জাতীয় ফসলেরও আবাদ হচ্ছে। যারমধ্যে মরিচ আবাদ হচ্ছে প্রায় ৪০ হাজার হেক্টরে। এছাড়া সাড়ে ৬ হাজার হেক্টরেরও বেশী জমিতে পেয়াঁজ ও রসুন ছাড়াও ধনিয়া, আদা, কালোজিরা ও হলুদের আবাদ হচ্ছে। তবে মাঠপর্যায়ের কৃষিবীদগণ দক্ষিণাঞ্চলে পেয়াঁজ ও রসুনের আবাদ সম্প্রসারনের সুযোগকে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর তাগিদ দিয়েছেন।পাশাপাশি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট-বারি উদ্ভাবিত উন্নতজাত ও উচ্চ ফলনশীল বীজ ব্যবহারের মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলে সবধরনের কৃষি পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধির সুযোগকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন কৃষিবীদগণ এলক্ষ্যে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর জেলা থেকে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের যথাযথ দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট আঞ্চলিক কার্যালয় বরিশালের উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান কবির নিউজজি কে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নানামুখী পদক্ষেপের কারণে গত কয়েক বছরে এমন পদ্ধতি ব্যবহার করে নান রকমের ফসল উৎপাদন করা হয়।
| নামাজের সময়সূচি | |
|---|---|
| November 4, 2026 | |
| Fajr | 4:48 am |
| Sunrise | 6:01 am |
| Zuhr | 11:41 am |
| Asr | 3:42 pm |
| Maghrib | 5:22 pm |
| Isha | 6:35 pm |
| Dhaka, Bangladesh | |
| M | T | W | T | F | S | S |
|---|---|---|---|---|---|---|
| 1 | ||||||
| 2 | 3 | 4 | 5 | 6 | 7 | 8 |
| 9 | 10 | 11 | 12 | 13 | 14 | 15 |
| 16 | 17 | 18 | 19 | 20 | 21 | 22 |
| 23 | 24 | 25 | 26 | 27 | 28 | 29 |
| 30 | ||||||