শিরোনাম
বরিশাল সংবাদ ::রাজনৈতিক দল নিবন্ধন আইন ২০২০ বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা এবং রাজনৈতিক দলের সব পর্যায়ে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে সংবাদ সম্মেলন করেছে বেসরকারি সংস্থা রুপান্তর।
রোববার (৩১ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১ টায় নগরীর বিডিএস মিলনায়তনে নারী উন্নয়ন ফোরাম ও অপরাজিতা নেটওয়ার্কের আয়োজন এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
নেছারাবাদ উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান নারগিস জাহানের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, উন্নয়ন সংগঠক আনোয়ার জাহিদ, সনাক সভাপতি প্রফেসর শাহ সাজেদা, কাউন্সিল কহিনুর বেগম, রুপান্তরের অপরাজিতা প্রকল্পের প্রধান সমন্বয়কারী রাবেয়া বসরী, উন্নয়নকর্মী সঞ্জয় চক্রবর্তী সহ জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, এনজিওকর্মীরা।
এসময় বক্তরা বলেন, ২০০৯ সালে নির্বাচন কমিশন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ অনুচ্ছেদ ৯০ (খ) তে বলা হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলির কেন্দ্রীয় কমিটিসহ সকল কমিটিতে ৩৩% নারী প্রতিনিধিত্ব ২০২০ সালের মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে।
কিন্তু বিগত বছরগুলােতে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলাে তাদের জাতীয় সম্মেলন প্রতি বছর করলেও ২০২০ সাল পর্যন্ত এই লক্ষ্যমাত্রা কোন কমিটিতে পূরণ করতে সক্ষম হয়নি।
আরো জানান, , বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে (প্রেসিডিয়াম, স্থায়ী কমিটি,সম্পাদকীয় এবং নিবার্হী সদস্য) ইসিতে পাঠানাে তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল গণফ্রন্ট জানিয়েছে,
তাদের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ প্রতিনিধি রাখা হয়েছে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ২৪ শতাংশ নারী নেতৃত্ব রয়েছে। বিএনপির সব পর্যায়ের কমিটিতে ১৫ ভাগ নারী সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জাপায় নারী নেতৃত্ব মাত্র ২০ শতাংশ।
আনােয়ার হােসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন
জাতীয় পার্টি-জেপিতে নারী নেতৃত্ব ১৬ শতাংশ।
এছাড়া অন্যান্য দলের মধ্যে সিপিবিতে ১৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ ও জাসদে ১১ দশমিক ৯২ শতাংশ নারী নেতৃত্ব রয়েছে। এনপিপির
২০ শতাংশ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ৬ শতাংশ, গণতন্ত্রী পার্টিতে ১৫ শতাংশ ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টে ১ শতাংশ নারী নেতৃত্ব রয়েছে।
কর্নেল অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমােক্রেটিক পার্টি (এলিডিপির) কমিটিতে নারী নেতৃত্ব রয়েছে ২২ শতাংশ।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলাের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য কার্যকরের বিষয়টি ক্রমশই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ২০২০ সালের মধ্যে এই শর্ত পূরণের অঙ্গীকার করে নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে নিবন্ধন নিয়েছিল দলগুলাে।
দেড় বছর আগে ওই সময় পেরিয়ে গেলেও এই শর্ত পূরণে কারও কোনাে তৎপরতা নেই। ২০২০ সালের সময়সীমা চলে গেলেও হাতে গােনা দু-একটি দল ছাড়া কেউ ২০ শতাংশেরও বেশি নারী নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে৷ পারেনি।
এ অবস্থায় কমিশন রাজনৈতিক দল থেকে মতামত নিয়ে আইন সংশােধন করে ২০৩০ সাল করার প্রস্তাব অনুমােদন দিয়ে
আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। আইনটি কয়েক দফা চালাচালি করে এখন ভেটিং পর্যায়ে রয়েছে।
গত ৭ জুন ইসির পক্ষ থেকে রাজনৈতিক দলগুলাের কাছে নিবন্ধনের শর্ত স্মরণ করিয়ে দিয়ে এর অগ্রগতি সম্পর্কে ৩০ দিনের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছিল। এর আগে ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসেও রাজনৈতিক দলকে একই ধরনের চিঠি দিয়েছিল ইসি।
ইসির এই চিঠির জবাবে ২৭ জুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর এক চিঠিতে বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান এমপির সই করা এক চিঠিতে বলা হয়- ‘২০২০ সালের মধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটিসহ অন্যান্য সকল কমিটিতে ৩৩ ভাগ পদ নারী নেতৃত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।