শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক ।। বরিশাল থানা কাউন্সিল কম্পাউন্ডে শুভেচ্ছা ব্যানার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে সিটি করপোরেশনের মেয়রসহ কর্মকর্তাদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এতে গুলিবিদ্ধসহ প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বুধবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাসসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আহত হয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আতিকুল্লাহ মুনিম ও সাজ্জাদ সেরনিয়াবাত।
তারা জানান, বরিশাল সিটি কর্পরেশনের পক্ষ থেকে বিকেল থেকেই নগরীর বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন ব্যানার উচ্ছেদ করা শুরু হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় থানা কাউন্সিল কম্পাউন্ডে অপ্রয়োজনীয় শুভেচ্ছা ব্যানারগুলো উচ্ছেদের জন্য আসলে ইউএনও’র বাসভবনের সামনে বিধায় তিনি কর্পোরেশনের লোকজনের কাছে পরিচয় জানতে চাইলে বিসিসির’র পক্ষ থেকে পরিচয় দেয়া হলে প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমারসহ কর্মচারীদের সাথে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ইউএনও অশ্রাব্য গালিগালাজও করে । পাশাপাশি ইউএনও কর্তব্যরত আনসার সদস্যদের গুলি করতে নির্দেশ দেন । এছাড়াও ইউএনও আনসারের হাত থেকে নিজে গুলি হাতে নিয়ে গুলি করতে থাকেন। ঘটনা শুনে মেয়র মহোদয় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে মেয়র মহোদয় ‘আমি মাননীয় মেয়র ”বলে তিনি পরিচয় দিলেও গুলি বর্সন করে ইউএনও। খবর পেয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে থানা কাউন্সিল ঘেরাও করে। তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসার দিকে অগ্রসর হতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। এতে হট্টগোল বেধে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোড়ে। সেইসঙ্গে দফায় দফায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটছে। এবিষয়ে বিসিসি’র প্যানেল মেয়র কাজী নাঈমুল ইসলাম লিটু জানান, সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ দলীয় প্রায় ৩০ জনের বেশি লোক আহত হয়েছে। আহতরা বর্তমানে শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। ইউএনও মুনিবুর রহমানের দাবী, উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণের ভেতরে বিভিন্ন স্থানে শোক দিবস উপলক্ষে কিছু ব্যানার-পোস্টার লাগানো ছিল। রাতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এসব ছিঁড়তে আসে। রাতে লোকজন ঘুমাচ্ছে জানিয়ে তিনি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বৃহস্পতিবার সকালে এগুলো ছিঁড়তে বলেন। এরপর তারা তাকে গালিগালাজ করতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা ইউএনওর বাসায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। বরিশাল কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম জানান, তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। সংঘর্ষে দুই পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন, আবু তালেব ও তরিকুল। সংঘর্ষের কারণে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক বন্ধ রয়েছে।