শিরোনাম

| |

অনিয়মের স্বর্গরাজ্য কেশবপুর ফজলুল হক মাদ্রাসা ‘টাকার চাপ দেয় তাই সন্তান পড়াই না’

ডেইলি বরিশাল সংবাদ সংবাদ সংগ্রহে সারাক্ষন

প্রকাশিত: November 10, 2024 7:55 PM
Print Friendly and PDF

প্রতিনিধি বাউফল \পটুয়াখালীর বাউফলে একটি ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এবং উপাধ্যক্ষ না থাকায় শিক্ষা কার্যাক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিয়োগ উঠেছে। শিক্ষকদের পাঠদানে অনিহা, দৈনন্দিন অনুপস্থিতি থাকা ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের জন্য দিন দিনে কমছে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী, যে কারনে নড়বড়ে হয়ে পড়ছে শিক্ষা ব্যবস্থা। সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানাগেছে, উপজেলার কেশবপুর ফজলুল হক সিনিয়র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. ইউনুছ মিয়া প্রায় ৩ বছর ধরে অসুস্থ উল্লেখ করে মাদ্রাসায় অনুপস্থিত রয়েছেন। তিনি ঢাকায় অবস্থান করলেও নিয়মিত হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দেখানো হয়। এছাড়া প্রায় ১৬ বছর থেকে তিনি আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী এবং সরকারি সুবিধাভোগীদের নিয়ে মাদ্রাসার যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। যে কারণে তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায়নি। ওই মাদ্রাসা পরিচালনায় অধ্যক্ষ গত প্রায় দেড় যুগ থেকে ব্যক্তিগত সুবিধা, অতি রাজনীতিকরণ, নিজের আত্মীয় স্বজনকে নিয়োগ, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার আশ্রয় নিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ক্রমশ: অন্ধকারে নিয়ে গেছেন। যা এলাকাবাসীসহ স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও সচেতনমহলে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ওই মাদ্রাসায় অধ্যক্ষের পরিবার ও তার স্বজনদের মধ্যে ৯ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। মাদ্রাসাটির কাগজে কলমে ৩০জন শিক্ষক ও ৩শত নিয়মিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা দেখালেও উপস্থিতির পার্থক্য আকাশপাতাল। এ ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহে গেলে সংবাদকর্মীদের বাঁধা দেন সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসায় কর্মরত তোফাজ্জেল হোসেন নামের এক শিক্ষক। তার বাড়ী বাউফল পৌর শহরে এবং তিনি বিএনপির একজন প্রভাবশালী নেতা। ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক আইয়ুব অকপটে স্বীকার করে বলেন, কিছু অনিয়ম থাকতে পারে তবে বিষয়টি সরল নজরে দয়া করে দেখুন। ওই সময় মাদ্রাসার  উপাধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত)  প্রভাষক সোলায়মান তিনি অধ্যক্ষের খাতায় পিছনের অনুপস্থিতির স্বাক্ষর করেন যা গোপনে ভিডিও ধারণ করা হয়েছে। তবে ছাত্র উপস্থিতির ব্যাপারে কথা বলায় তারা এড়িয়ে যান। আর উপাধ্যক্ষ পদ শূণ্য থাকায় প্রভাষক সোলায়মান সিনিয়র শিক্ষককে সুবিধা মতো দায়িত্ব দিয়ে চলছে মাদ্রাসার শিক্ষকদের বেতন উত্তোলনের কার্যক্রম। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানান, আমরা আপনাদের কিছু বলে দিলে তারা (শিক্ষকরা) আমাদের বিপদে ফেলবে। তবে স্কুলে সব শিক্ষক প্রতিদিন আসেন না। আসলেও তারা প্রায়দিনই ক্লাস করেন না। ওই সময় এক শিক্ষার্থী প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, মাদ্রসার সকল কার্যক্রম যদি আমাদের করতে হয় তবে কি তাদের দায়িত্ব নাই? স্থানীয় বেগম নামে এক অভিভাবক জানান, দুই একজন শিক্ষক ভাল আছেন, তবে ক্লাস হয়না, তাই আমার ছেলে অন্যত্র নিয়ে ভর্তি করেছি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অভিভাবক জানান, আমার নাতী অন্যত্র নিয়ে ভর্তি করেছি অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কারনে। তিনি আরও বলেন, আমি আমার নাতীকে নিয়ে সরকারী প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করেছি। অভিযোগের ব্যাপারে অধ্যক্ষ জানান, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য নয়। তবে আত্মীয়করণ ও রাজনৈতিক বিবেচনায় শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টিও তিনি অস্বীকার করেন।  প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. বশির গাজী জানান, এ বিষয়ে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হবে। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয় সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার সভাপতি, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) পটুয়াখালী, যাদব সরকার বলেন, আমি কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

১০-১১-২৪

শেয়ার করুন :

বরিশাল সংবাদ ২৪

বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন।

বরিশাল সংবাদ ২৪

Call

নামাজের সময়সূচি
September 7, 2026
Fajr 12:00 am
Sunrise 12:00 am
Zuhr 12:00 am
Asr 12:00 am
Maghrib 12:00 am
Isha 12:00 am
,
September 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  

সংবাদ সংগ্রহে সারাক্ষণ