শিরোনাম
মু,হেলাল আহম্মেদ(রিপন)পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি : আওয়ামীলীগ যুবলীগে ও বিএনপি সখ্যতায় হুমকি, চাঁদাবাজী, ভাঙ্গচুর, দখল হামলা—মামলায় বেপরোয়া হয়ে উঠার অভিযোগ উঠেছে পটুয়াখালী জেলা কৃষক দল নেতা মনিরুজ্জামান টিটুর বিরুদ্ধে।
যানা যায় পটুয়াখালী জেলা জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের সভাপতি ও পটুয়াখালী সদর উপজেলা ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যার রব হাওলাদারের মৃত্যুর পর জেলা কৃষক দলের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পরে। সেই সঙ্গে পটুয়াখালী জেলা বিএনপির মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটির কার্যক্রমেও স্থাবিরতা দেখা দেয়। জেলা বিএনপিতে গতিশীলতা আনতে মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্তি ঘোষনা করে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি এবং ০৩ নভেম্বর ২০২০ সালে বিএনপির কেন্দ্রীয় মহা সচিব আ: রশিদ চন্নু মিয়াকে আহবায়ক এবং স্নেহাংশু সরকার কুট্টিকে সদস্য সচিব করে পটুয়াখালী জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি ঘোষনা করে এবং জেলা বিএনপিতে গতিশীলতা আনতে সকল অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের কমিটি করার নির্দেশনা প্রদান করেন।
নেতৃত্ব শুন্য থাকার সুবাদে পটুয়াখালী সদর উপজেলার মরিচবুনিয়া ইউনিয়ন পর্যায়ের একজন সাধারন কমী মনিরুজ্জামান টিটু হয়ে যান পটুয়াখালী জেলা কৃষক দলের আহবায়ক এবং জেলা বিএনপির অন্যতম ডোনার। পটুয়াখালী জেলা বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে সবচেয়ে বেশি ডোনেশন দিয়ে থাকেন বলে জানায় জেলা বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র। যার কারনে জেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ টিটুর কার্যক্রমে বিব্রত হলেও কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা পার্টির উদ্ধতন কতৃপক্ষ।
এদিকে গত ০৫ ই আগস্ট তোপের মুখে সরকার পতনের দিনই টিটুর নির্দেশে তার নিজ এলাকায় দখলদার—পেটোয়া বাহিনী মরিচবুনিয়া ইউনিয়নরে ৪নং ওয়ার্ডের আলহাজ্জ আ: মজিদ মাদবর এর চট্টুয়ার স্লুইসগেট সংলগ্ন দোকান ঘর দখল করে নেয় এবং দোকানের ভাড়াটিয়ার মালামাল রাস্তায় ছুড়ে ফেলে দেয় তারা। এছাড়াও আঃলতিফ হাওলাদার এর বসত ঘড় ভাংচুরসহ ধানীজমিও দখল নেয় এই কৃষক দলের নেতা মনিরুজ্জামান টিটুর বাহিনী। এছাড়াও দোকানদারে কাছে চাঁদা দাবী করে হুমকি দেয়।
গত ৬ ই আগষ্ট মরিচবুনিয়া ইউনিয়নের বাজারঘোনা গ্রামের কৃষক আ: লতিফ হাওলাদারে বসত ঘরে হামলা ভাংচুর চালায় এবং তার ছেলেকে মারধর করে। জমি সংক্রান্ত মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দেয় এবং এক লক্ষ টাকা চাদাঁ দাবী করে। প্রাণের ভয়ে টিুটর পেটোয়া বাহিনীকে পঞ্চাশ হাজার টাকা প্রদান করলে আবার বাকী টাকা নিতে আসব বলে তার পেটোয়া বাহিনী চলে যায়। এমনকি ৪ সেপ্টেম্বর আবার টিটুর নির্দেশে পেটোয়া বাহিনী ২০-২৫ জনের সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হইয়া আমার বাড়িতে হামলা চালায় এবং আমার আবাদী জমি দখল করে নেয় ও আমার ভাতিজা শহিদুলের জমি দখল করে নেয়, গত ৯ সেপ্টেম্বর পটুয়াখালী জেলা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে উল্লেখিত তথ্য নিশ্চিত করেন আ: লতিফ হাওলাদার।
উল্লেখ্যঃ ৫ ও ৬ ই আগষ্ট এর ঘটনার অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে মনিরুজ্জামান টিটুর কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে পটুয়াখালী জেলা প্রেস ক্লাবের সদস্য সাংবাদিক হেলাল আহমেদ রিপনকে মুঠোফোনে সংবাদ প্রকাশ না করার হুমকি দেয়,পত্রিকা অফিসে অভিযোগ এবং মামলার ভয় দেখায়। উক্ত হুমকির ব্যাপারে সাংবাদিক হেলাল আহম্মেদ পটুয়াখালী থানায় একটি জিডি করেন যার (জিডি নং-৬১৫/১২/০৯/২৪)।
গত ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ইং তারিখে মনিরুজ্জামান টিটুর ইন্দনে মরিচবুনিয়া ইউনিয়নের ০৮ নং ওয়ার্ডের যুবলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান (৩৯)বাদী হয়ে পটুয়াখালী বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টে ১ম আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় মরিচবুনিয়া ইউনিয়নের বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান বশির সিকদার (৪০) ও তার ভাই সহ ১০ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করে যার মধ্যে পটুয়াখালী জেলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিক হেলাল আহম্মেদ রিপনের নাম রয়েছে। মামলার অভিযোগে ১২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবীর কথা বলা হলেও স্থানীয়রা প্রতিবেদকে জানায় যুবলীগ নেতা হাবিবুর রহমানের কাছে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির ভাইয়ের সাথে ব্যবসায়িক লেনদেন রয়েছে। এবং পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য অনুরোধ করলে টিটুর ইন্দনে মামলাটি করা হয়। মামলা সম্পর্কে সাংবাদিক রিপন জানায় আমার বাসা শহরে সবুজবাগ আমি টিটুর কাছে তার অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে হুমকি দেয় এবং মামলায় আসামী করে।
এছাড়াও মনিরুজ্জামান টিটু প্রকাশ্যে পটুয়াখালী পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক এড. হুমায়ুন কবির এর ছবি সংবলিত ব্যানার নিয়ে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করে যাতে বিব্রতকর অবস্থায় পরে পটুয়াখালী জেলা বিএনপি সহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
যার হাত ধরে টিটুর বিএনপির রাজনীতিতে হাতে খড়ি সেই মরিচবুনিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যানকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য গত ১২/০৯/২০২৪ দ্রুত বিচার আইনে বশির সিকদারকে আসামী করে টিটু নিজে বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে। ৫ ও ৬ ই আগষ্টের অভিযোগ এবং সাংবাদিককে হুমকি মামলায় জড়ানো প্রসঙ্গে মনিরুজ্জামান টিটু বলেন অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীণ। মরিচবুনিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বলে আমি দীর্ঘদিন ব্যবসায়ি কাজে আমি ঢাকায় অবস্থান করছি।
মামলার ঘটনার সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা নাই। তিনি আরও বলেন টিটু আওয়ামী যুবলীগ নেতাকর্মীদের ইন্দনে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এতে বিএনপির সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর আমার বিরুদ্ধে ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি মামলার প্রতিবাদে আমার সমর্থকরা পটুয়াখালী -কুয়াকাটা সড়কে সোমবাড়িয়া বাজার নামক স্থানে মানববন্ধন করতে গেলে টিটুর পেটোয়া বাহীনী হামলা করে মানব বন্ধন পন্ড করে দেয় ব্যানার ছিরেফেলে। এবং জাফর হাওলাদার (৫০) নামের এক সমর্থকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। হামলা মামলা দখল চাঁদাবাজী সাংবাদিকবে হুমকি সম্পর্কে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব বাবু স্নেহাংশু সরকার কুট্টি সাংবাদিকদের বলেন আমরা উক্ত ঘটনায় বিব্রত , আমরা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশ পালনে বদ্ধপরিকর। যদিও টিটুর বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারছিনা তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কৃষকদল কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে সুপারিশ করব।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনিপ এবং পটুয়াখালী জেলা বিএনপি সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে খুব দ্রুত মনিরুজ্জামান টিটুর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার পক্ষে অভিমত প্রকাশ করেছেন পটুয়াখালী জেলা বিএনপির ত্যাগী নেতা ও কর্মীরা।