শিরোনাম
তালাশ প্রতিবেদক ॥ থানা পুলিশের টালবাহনা ও অদৃশ্য শক্তির প্রভাব বিস্তার করে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মহিপুরের চিহ্নিত ভূমিদস্যুরা। আর যার পরিপেক্ষিতে লাগামহীন দখলবাজীর মহাৎসবে মেতে উঠেছে পটুয়াখালী জেলার কুয়াকাটা পৌরসভাধীন মহিপুর থানার ৭নং ওয়ার্ডের ভূমিখেকো মোঃ জাহাঙ্গীর ও মোঃ আলমগীর বাহিনীর লোকজন। ভুক্তভোগী প্রকৃত জমির মালিক পক্ষ ভূমিদস্যুদের এমন দখলবাজী থেকে পরিত্রান পেতে অভিযোগ দায়ের করতে থানা পুলিশের দারস্ত হলেও আইনি কোন সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, উপায়ন্তর অসহায় ভূক্তভোগী প্রাথমিক পর্যায়ে থানা পুলিশের এমন টালবাহানার পরিক্রমায় পিষ্ঠ হয়ে সর্বশেষ কলাপাড়া উপজেলা বিজ্ঞ সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে একটি মামলা দায়ের করেন (যার নং-৩৪৯/২০২০)। এদিকে অভিযোগ গ্রহণ না করে, দখলবাজদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে মহিপুর থানা পুলিশ। অপরদিকে আইনের সু-বিচার পেতে মামলা দায়েরের পর থেকে ভূমিদস্যু এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানান হুমকী, ভয়ভীতি প্রদশর্ন অব্যহত রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী বাচ্চু শেখ। অভিযোগ, সরেজমিন পরিদর্শন, স্থানীয়দের দেয়া বরাত, মামলা সূত্রে জানা যায়, সাবেক জেলা বাকেরগঞ্জ হাল, পটুয়াখালী ষ্টেশন সাবেক কলাপাড়া হালে মহিপুর সাব রেজিষ্ট্রি অফিস খেপুপাড়া অধিনে ৩৪ নং জেএল ভূক্ত লতাচাপলী মৌজা ও হাল এসএ ১২২৬ নং খতিয়ানে ১০ একর জমিতে সেকান্দার আলীর ১৬ আনা অংশে শুদ্ধমতে রেকর্ড থেকে বিগত ২০০৯ সালের ২৭ আগষ্ট তারিখে ৪৪৭৪ নং সাব কবলা দলিলমূলে ১ একর ৫৯ শতাংশ জমি ক্রয় করেন বাচ্চু শেখ। পরবর্তীতে বাচ্চু শেখ ২০১৩-১৪ সনের ৮৭০ কে/(পি-১) নং নামজারী সহ খারিজ মোকদ্দমার ২০১৪ সালের ১৮ মার্চ তারিখের আদেশবলে ২৮০৩ নং খতিয়ান খুলে ৫৩৩১/৫৩২৫/৫৩৩৩/৫১৮১ নং দাগে ১ একর ৫৯ শতাংশ জমিতে সরকারি খাজনাদি পরিশোধ করে বহু বছর ধরে ভোগ দখল করে আসছেন। এদিকে তফসিলভুক্ত সম্পত্তি বিভিন্ন কৌশলে দখলের উদ্দেশ্যে চোঁখ পরে ঐ এলাকার ভূমিখোকো জাহাঙ্গীর ও আলমগীরের। বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের নিয়ে জমি দখলের পাঁয়তার করে তারা। সর্বশেষ গত ২২ নভেম্বর ২০২০ তারিখে দলবল সহ জমিতে পাঁকা প্রাচীর সীমানার মাধ্যমে দখল মিশনে নামে ভূমিখেকো এই বাহিনী। এসময় জমির মালিক বাচ্চু শেখ প্রতিবাদ করলে তাকে নানা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা। দখলবাজদের এমন তোপের মুখে উপায় না পেয়ে বাচ্চু শেখ জমি দখলের অভিযোগ এনে আইনের বিচার পেতে তাৎক্ষনিকভাবে স্থানীয় থানায় উপস্থিত হলে কোন অভিযোগ গ্রহণ করেনি মহিপুর থানা পুলিশ। শুধু তাই নয়, থানা পুলিশের কাছ থেকে তিরস্কার হওয়ারও অভিযোগ করেন অসহায় বাচ্চু শেখ। তার ভাষ্যমতে, “থানা পুলিশ আমার অভিযোগ গ্রহণ না করে, থানা থেকে আমাকে বের করে দেয়। পরবর্তীতে উল্টো সরেজমিনে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান এর সয়ং উপস্থিতিতে দখল কাজ চলমান রাখে ভূমিদস্যু জাহাঙ্গীর ও আলমগীরের ভারাটে দখলবাজরা”। এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে ওসি মনিরুজ্জামান মাদক দিয়ে আটকের হুমকীও প্রদান করেন বলে অভিযোগ করেন ভূক্তভোগী বাচ্চু শেখ। অভিযোগ গ্রহণে থানা পুলিশের এমন টালবাহানায় বাচ্চু শেখ কলাপাড়া উপজেলা বিজ্ঞ সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানার নবীনপুর গ্রামের মৃত মোঃ চান মিয়ার ছেলে আঃ করিম কে ১নং আসামী, মৃত আঃ জব্বার এর ছেলে আঃ হালিম কে ২নং, মৃত আঃ খালেক এর ছেলে মোঃ জাহাঙ্গীরকে ৩নং ও মোঃ আলমগীরকে ৪নং সহ মোট ৯ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। থানা পুলিশের এমন প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা ও অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করতে মহিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান’র সাথে মুঠোফোনে (০১৩২০১৫৫…) একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে ভূমি দখলের অভিযুক্ত আলমগীর’র সাথে মুঠোফোনে (০১৭১৪-৯০….) যোগাযোগ করা হলে, সংবাদ মাধ্যমের পরিচয় পেয়ে এ বিষয়ে কোন বক্তব্য দিতে অপরাগতা প্রকাশ করে তড়িঘড়ি করে মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন তিনি। এদিকে সংবাদ সংগ্রহকালীন সময়ে এলাকায় অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর ও আলমগীরের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের বিস্তার অভিযোগ উঠে আসে। ক্ষমতা ও পেশীশক্তির প্রভাবকে পুঁজি করে তাদের এমন দখলবাণিজ্য চলমান থাকায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এলাকার সাধারণ জনগন। এলাকাবাসীদের বরাতের ভিত্তিতে তাদের এমন দখলবাজী কমকাণ্ডের বিস্তার অনুসন্ধানের তথ্য নিয়ে সংবাদ মাধ্যমের পরবর্তী পর্বের জন্য চোখ রাখুন।