শিরোনাম

| |

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় হাঁসের খামার করে স্বাবলম্বী হাসান।

ডেইলি বরিশাল সংবাদ সংবাদ সংগ্রহে সারাক্ষন

প্রকাশিত: January 4, 2021 3:44 PM
Print Friendly and PDF

জনি আলমগীর ,কুয়াকাটা, পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ
বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলেই কমবেশি হাঁসের পালন করা হয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হাঁসের খামার করে খামারিরা আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হওয়ার পাশাপাশি পরিবার পরিজন নিয়ে ভালভাবে দিনতিপাত করছেন। হাঁস পালন করে অনেকেই ভাগ্যের চাকা পরিবর্তন করছেন। এমনই একজন হলেন পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের দেীলতপুর গ্রামের মো. হাসান।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, করোনার শুরুর দিকে ঘর বন্দি হওয়ার পর অভাব অনটনের দেখা দিলে হ্যাচারি থেকে ২৫০টি হাঁস ক্রয় করে শুরু করেন হাঁস পালন। অর্থনৈতিক পিছু টানের মধ্যে দিয়েও পিছপা হননি হাসান । করোনাকালীন সময় হাতে কোন কাজ না থাকায় নগদ টাকার সংকট দেখা দিয়েছিল পরে ধার দেনা করে হাঁসের খাবার ক্রয় করতে হয়েছিল। বাকি ছিল স্থানীয় দোকানেও। এরপর আর পিছনে তাকাতে হয়নী, এভাবেই শুরু হয় হাসানের হাঁসের খামারে পথ চলা। এখন হাসানের খামারে প্রায় ৫শত হাঁস। প্রতিদিন গড়ে হাঁসগুলো ডিম দেয় ১৫০টি। প্রতিটি ডিম ১০টাকা দরে বিক্রি করে আয় করেন ১৫০০টাকা। এ ছাড়াও ৩মাস পর তিনি প্রতিটি হাঁস বিক্রি করতে পারেন ৩০০-৩৫০ টাকা করে। তিনি হ্যাচারি থেকে প্রতিটি হাঁস ক্রয় করে আনেন ২৫-২৮ টাকা দরে । পরিপক্ক হতে খাদ্য ও ঔষধ বাবদ সর্ব সাকুল্যে খরচ হয় ১৫০টাকা। এবার মরণঘাতী করোনার প্রভাবে হাঁসের ঔষধ ও খাবারের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় হাঁসপালন করে তিনি ক্ষতিগ্রস্থও হয়েছেন প্রথম দিকে।
তিনি জানান, করোনার সময় সংসারে অভাব দেখা দেয় ফলে কোন কাজও খুজে পাইনা । এরপর চিন্তা করে কিছু হাঁস পালন করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করি। নিজে না খেয়ে সন্তানের মত হাঁসগুলোকে লালন পালন করেছি। আল্লাহ আমাকে সাহায্য করেছেন। এখন প্রতিদিন টাকার দেখা পাচ্ছি। তিনি আরো জানান, হাঁসের খাবারের পিছনে খুব একটা বেশি খরচ করতে হয় না। মেলাখোলা বিলে হাঁসগুলো ছেড়ে দেই আবার সন্ধ্যার দিকে বিল থেকে নিয়ে আসি। তবে রেগুলার ঔষধ করতে হয়। প্রতিমাসে ডিম ও হাঁস বিক্রি করে খরচ বাদ দিয়ে তার আয় হয় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। এ দিয়েই ভালোভাবে সংসার চলছে বলে দাবি হাসানের। তবে খামারের প্রসার ঘটাতে সরকারের সহযোগিতা প্রত্যাশা তার।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. ফারুক খাঁন জানান, হাসানের হাঁসের খামারটি দেখতে অনেকেই আসেন কেউ কেউ আবার হাঁসের খামার করার উদ্দ্যেগ গ্রহন করেন। তাছাড়া আমাদের গ্রামের মানুষের ডিম বা হাঁস কিনতে বাজারে যেতে হয় না। পাশ্ববর্তী গ্রামের যুবক মো. ফতে আলী জানান, আমি হাসান ভাইর হাঁসের খামার দেখতে এসেছি। আমার ইচ্ছে আছে এ এরকম একটি খামার গড়ার।
নীলগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এ্যাড. নাসির উদ্দিন মাহমুদ জানান, হাসানের হাঁস খামারটি দ্বারা নিজে স্বাবলম্বী হয়েছেন পাশাপাশি বেকারত্ব দুর করেছেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবু জগৎ জীবন রায় জানান, খোলা বিলে হাঁস করে বেকারত্ব দূর করেছেন যুবক হাসান পাশাপাশি আর্থিক সংকট দূর করেছেন।
এ ব্যাপারে পটুয়াখালী জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মো. আনওয়ার হোসেন জানান, এটি একটি ভালো উদ্যোগ। আমাদের এ জেলায় অনেক ছড়া ও বিল রয়েছে। যেখানে স্বল্প খরচে হাঁস চাষ করে বেকারত্ব সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি প্রচুর আয় করা সম্ভব। তিনি আরো বলেন, প্রাণীসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে হাঁস পালনকারীদের পরামর্ম ও সহায়তা দিয়ে থাকি। ডিম ও হাসের ব্যাপক চাহিদা থাকায় লাভবান হচ্ছেন স্থানয়ি খামারিরা।
জনি আলমগীর
কুয়াকাটা প্রতিনিধি
তারিখঃ০৪.০১.২০২১

শেয়ার করুন :

বরিশাল সংবাদ ২৪

বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন।

বরিশাল সংবাদ ২৪

Call

নামাজের সময়সূচি
September 7, 2026
Fajr 12:00 am
Sunrise 12:00 am
Zuhr 12:00 am
Asr 12:00 am
Maghrib 12:00 am
Isha 12:00 am
,
September 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  

সংবাদ সংগ্রহে সারাক্ষণ