করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বগুড়ায় বিয়ে এবং তালাক বন্ধ হয়ে রয়েছে। গত দুই মাসের বেশি সময় ধরে এ জেলায় নতুন কোনো বিয়ে এবং তালাক নিবন্ধন হয়নি। কাজী অফিসগুলোতে বর-কনে, অভিভাবক বা ঘটকদের কোনো পদচারণা নেই। মহামারির প্রকোপে অনেকের বিয়ে আটকে আছে। আর এর ফলে আয় রোজগার বন্ধ হয়ে বিবাহ নিবন্ধকরা (কাজী) আর্থিকভাবে সমস্যার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
বগুড়া জেলা মুসলিম ম্যারেজ রেজিস্টার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, গত দুই মাসের বেশি সময় ধরে বগুড়া জেলায় ১৩৮টি ম্যারেজ রেজিস্টার অফিসে কোনো বিয়ে রেজিস্ট্রি অথবা তালাকের ঘটনা ঘটেনি।তিনি জানান, অনেক অভিভাবক তাদের ছেলে-মেয়ের বিয়ের তারিখ একাধিকবার পরিবর্তন করেও শেষ পর্যন্ত বিয়ে স্থগিত করেছেন।জেলা ম্যারেজ রেজিস্টার অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১৩৮টি ম্যারেজ রেজিস্টার অফিসে বছরে গড়ে ৩০০টি বিয়ে হয়ে থাকে। কখনও এর চাইতে বেশিও হয়। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রকোপে দুই মাসের বেশি সময় ধরে তাদের ম্যারেজ রেজিস্টার অফিস বন্ধ ছিল। ছুটি কিছুটা শিথিল করা হলেও কোনো অভিভাবক বিয়ের মতো জনসমাগম কিংবা স্বল্প পরিসরে বিয়ে রেজিস্টার করার ঝুঁকি নিতে কেউ সাহস করেননি।বগুড়ার হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক গৌরব চন্দ্র দাস জানান, করোনার পরিস্থিতির কারণে গত তিন মাস ধরে বগুড়ায় হিন্দু ধর্মাম্বলীদেরও বিয়ের কোনো নিবন্ধন হয়নি। এ সংকটকালে কোনো অভিভাবক বিয়ের মতো অনুষ্ঠানের ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেন না।বগুড়া রেন্ট-এ-কার মালিক সমিতির সহ-সভাপতি তৌফিকুল আলম বাদল বলেন, সাধারণত বরের গাড়ি ছাড়াও বরযাত্রীর সঙ্গে কমপক্ষে ৮-১০টা গাড়ি ভাড়ায় যায়। জেলায় রেন্ট-এ-কার মালিক সমিতির অধীনে প্রায় ২৫০টি কার ও মাইক্রোবাস রয়েছে। করোনার কারণে এখন তারা অলস সময় কাটাচ্ছেন। কোনো গাড়ি ভাড়া হচ্ছে না।তিনি জানান, স্বাভাবিক সময়ে সপ্তাহের বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার বিয়ের জন্য প্রচুর গাড়ির প্রয়োজন হয়। সে সময় প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস সংকট দেখা দেয়। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে বিয়ে, বন্ধ রেন্ট-এ-কারও বন্ধ।