বিশেষ প্রতিনিধি :: বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জে উপজেলার ৫ নং দুর্গাপাশা ইউনিয়নের তিন নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আঃ কাইয়ুম খান'র বিরুদ্ধে জেলেদের জেলেদের জাল ও ফাইবার বোর্ড দেয়ার কথা বলে প্রায় ৮০-৮৫ জনের কাছ থেকে লক্ষধিক টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপাশা ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে জেলেদের কাছে ১০০০/ থেকে ১৫০০/ টাকা করে প্রায় ৫০ জনের কাছ থেকে নিয়েছেন কাইয়ুম খান।
ভুক্তভোগী ৫নং দুর্গপাশা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের জেলে জাহাঙ্গীর, দুলাল, সোহাগ, আলেফ সহ আরও অনেকে সাংবাদকর্মিদের কাছে ভিডিও বক্তব্য দেন। এছাড়াও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক জেলে বলেন তাদের কাছ থেকে ১ হাজার করে টাকা নিয়েছেন কাইয়ুম খান। অনেক জেলে বলে আমরা নদী থেকে মাছ ধরে নিয়ে আসার পড়ে কাইয়ুম খান কে বড় মাছ দিতে হবে, আর যদি না দেই তাহলে আমাদের মারার হুমকি দেয় এবং বলে আমি বিএনপির নেতা আমার কথার বাহিরে যাওয়ার চেষ্টা করবি না। এমনকি এক জেলে বলেন তার বিরুদ্ধে কথা বললে সে মামলা দেয়ার হুমকি দেয় এবং আরও বলে মামলা দিয়ে পুলিশে এনে ধরিয়ে দিবো।
দুর্গাপাশা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আঃ কাইয়ুম খান একটি আতংক এমনটাই জানা যায় তার নেতৃত্বে এলাকায় বিভিন্ন রকম অপরাধ পরিচালনা হয়ে থাকে। তেতুলিয়া নদী থেকে রাতের আধারে অবৈধ ভাবে বালু উত্তলন, বালু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অংকের চাদা দাবি বালু সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা ও বলা যায় কাইয়ুম খান কে।
এছাড়াও সরকারি বিভিন্ন কাজের সাইটে গিয়ে সেখানে হুমকি ধামকি দেয় এবং নানান অযুহাতে টাকা দাবি করে থাকে, না হয় সাইট বন্ধ করে দিবে এমনই অভিযোগ পাওয়া যায়। এমন কি গত ২০ আগষ্ট দুর্গাপাশা ইউনিয়নের নদী ভাঙ্গন রোধ প্রকল্পের ১৬ নং কাজের সাইট থেকে তিনটি মেশিন চুরি হয়, পরে চোর সনাক্ত হলে চোর জাহিদুল নিজের মুখে স্বীকারোক্তি দেয় কাইয়ুম খান এর নির্দেশে চুরি করা হয় তিনটি মেশিন। ঐ ঘটনার পড়ে কাইয়ুম খান নিজেকে বাচতে স্থানীয় কয়েক জনকে ফাসানোর চেষ্টা ও করে। খোঁজ খবর নিয়ে জানাযায় মূলত দুর্গাপাশা ইউনিয়নের নদী ভাঙ্গন রোধ প্রকল্পের ১৬ নং পেকেজ থেকে চুরি হওয়া মেশিন চুরির কারণ হলো ঐ প্রকল্পের সাইটে বালু সিমেন্ট দিয়ে ব্যবসা করবে কাইয়ুম খান। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জামিল ইকবাল কাইয়ুম খান এর সাথে ব্যবসা করতে রাজি না হওয়ার কারনে সেই সাইট থেকে তিনটি মেশিন চুরি নির্দেশ দেয়া কাইয়ুম খান।
কাইয়ুম খান'র অপকর্মের বিষয়ে ৫নং দুর্গাপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল সিকদার'র কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন এবিষয়ে কোন অভিযোগ আমার কাছে আসে নাই, আমি এলাকায় থাকি না ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জানতে পারে,আপনি তার সাথে যোগাযোগ করেন।
কাইয়ুম খান এর বিষয়ে দুর্গাপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির রাড়ি মুঠোফোনে বলেন আমাদের কাছে এরকম কোন অভিযোগ আসে নাই যদি আসে আমরা সত্যতা পাইলে সাংগঠনিক ব্যবস্তা নিবো। আরও বলেন কাইয়ুম খান এর অপকর্মের দায় সংগঠন নিবে না।
কাইয়ুম খান কে মুঠোফোনে সংবাদকর্মী জেলেদের টাকার বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন এই টাকা অনেক আগে নিয়েছি এটা নিয়ে তার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হচ্ছে একদল মানুষ , সে কোন মেশিন চুরি বা জেলেদের হুমকি দেননি তার রাজনৈতিক কেরিয়ার নষ্ট করার জন্য এসব বলা হচ্ছে।