জনি আলমগীর
কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি :
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এক অটোভ্যান চালককে অপহরণ করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় তিন অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় অপহৃত যুবককে উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি তার ব্যবহৃত ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান ও দুটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।
মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মহিপুর উপজেলার ধুলাসার ইউনিয়নের তারিকাটা এলাকার বাসিন্দা মো. হাসানের ছেলে মো. রাফি খান (১৯) পেশায় একজন ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান চালক। গত ১৩ জুন গ্রেপ্তারকৃতরা রাফির অটোভ্যান ভাড়া নিয়ে কুয়াকাটার বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করে। পরদিন আবার ঘোরার কথা বলে তারা রাফির মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে।
পরদিন ১৪ জুন সকালে অভিযুক্তরা রাফিকে কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের হাজিপুর ব্রিজ সংলগ্ন আবুল কাশেম জামে মসজিদের সামনে আসতে বলে। সেখানে পৌঁছালে তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অপহরণের পর দুর্বৃত্তরা রাফির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। ছেলেকে জীবিত ফেরত পাওয়ার আশায় রাফির বাবা মো. হাসান প্রথমে ৫০ হাজার টাকা প্রদান করেন। তবে বাকি টাকা না দিলে রাফিকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
খবর পেয়ে কলাপাড়া থানা পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি স্থান থেকে অভিযুক্ত মো. জাহিদ প্যাদা ও মো. ইমরান গাজীকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চাকামইয়া ইউনিয়নের নিশানবাড়িয়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অপহৃত রাফি খানকে উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে তার অটোভ্যান ও দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয় এবং অপর অভিযুক্ত মো. কোয়েল গাজীকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
উদ্ধারের পর রাফি খান জানান, অপহরণের পর তাকে মারধর করে একটি স্থানে আটকে রাখা হয়েছিল। মুক্তিপণের টাকা আদায়ের জন্য তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়।
আহত রাফি খানকে চিকিৎসার জন্য কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় রাফির বাবা মো. হাসান বাদী হয়ে কলাপাড়া থানায় অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
####
জনি আলমগীর
কুয়াকাটা পটুয়াখালী প্রতিনিধি
১৫ জুন ২০২৬
মোবাইল ০১৭৩৪৭৭৩৫৮০