প্রতিনিধি বাউফল::- পটুয়াখালী বাউফলের তিনভাগে বিভক্ত বিএনপি নেতাদের মধ্যে দিন দিন হতাশা বেড়েই চলছে। ত্যাগীরা বাদ পড়ছে আর আ'লীগের আমলের সুবিধাবাদীরা বিএনপির দায়িত্বশীলদের ম্যানেজ করে সুবিধা নিচ্ছে। যারা বাপ পুতের কথায় চলতে পাড়ছেন না তাদেরই পড়তে হচ্ছে রোষানলে এমন অভিযোগ উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের একাধীক নেতাদের।
সুত্র জানায়, ৫ আগস্ট ফ্যাসিষ্ট আ'লীগ সরকার জনতার রোষানলে ক্ষমতা ছেড়ে গা-ঢাকা দেয়। এরপরই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিকে সুসংগঠিত করতে ও দলের ভাবমূর্তী রক্ষার্থে সারা বাংলাদেশে কাজ শুরু করে বিএনপির হাই কমান্ড।
গত আগস্ট এর পর থেকে এখন পর্যন্ত দলের শৃঙ্খলা ভংগের জন্য যে সব নেতা কর্মীদের অব্যাহতি এবং বহিষ্কার করা হয়েছে তাদের একজরকেও দলে ফিরিয়ে আনা হয়নি। বরং প্রতিনিয়তই কেন্দ্রীয় কমিটির কঠোর নির্দেশনায় দলের মধ্যের নেতাকর্মীদের অব্যাহতি ও বহিষ্কারের ঘটনা ঘটছে। এছাড়া এখন পর্যন্ত সারা বাংলাদেশের কোন জেলা উপজেলায় দলের হাই কমান্ডের নির্দেশে কোন অব্যাহতিও উঠানো হয় নাই।
বিএনপি'র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে সারা বাংলাদেশে যেসব নেতাকর্মীকে বিভিন্ন অভিযোগে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে দলকে পরিচ্ছন্ন রাখতে এবং দলের ভাবমূর্তি রক্ষার্থে সে সিদ্ধান্ত এখনও চলমান আছে।এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সারা বাংলাদেশে যে তিন জনের পদ স্থগিত আদেশ দেওয়া হয়েছিল তার মধ্যে কেবল দুজনের পদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একজন হলেন কেন্দ্রীয় নেত্রী সামা ওবায়েদ এবং কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব শহিদুল ইসলাম বাবুলের স্থাগিত আদেশ প্রত্যাহার করা হয়। এছাড়া বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিনের আদেশ আজও অব্দি প্রথার হয়নি। যেখানে সারা বাংলাদেশে এখন অব্দি পর্যন্ত কোন তৃনমুল নেতাদের অব্যাহতি প্রত্যাহার হয়নি সেখানে ব্যতিক্রম বাউফল উপজেলা।
উপজেলার কালিশুরী ইউনিয়নের বিএনপি সাধারণ সম্পাদক দলিল উদ্দিন ধলু মোল্লাকে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ১৯আগস্ট ২০২৪ সালে দল থেক অব্যাহতি দেওয়া হয়। এর ঠিক ৭মাসের মাথায় অর্থ্যাৎ১৫ মার্চ ২০২৫ তারিখে তার অব্যাহতি পত্র প্রত্যাহার করা হয়। বিনপির পদ বঞ্চিত নেতা ওলিয়ার রহমান বলেন, বাউফল উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের যে ত্যাগী নেতারা রয়েছে তাদেরকে দল থেকে অব্যাহতি এবং তাদের প্রত্যাহার আদেশ এটা কি কোন লোক দেখানো, নাকি অনৈতিক কোন সুবিধা নেওয়ার কৌশল?
বাউফল উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মুজাহিদ মুন্সি বলেন, বাউফল বিএনপি " যায় যায় কোম্পানি, বাবায় বেচে, পুতে খায়।" বাউফল উপজেলা বিএনপি সংগঠনের নেতা কর্মীরা পিতা এবং পুত্রের আদশে নিয়ন্ত্রিত। জেলা কমিটির সভাপতি এবং তার পুত্র বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক মনির হোসেন ত্যাগী নেতাকর্মীদের সরিয়ে দিয়ে নিজের পছন্দের লোকজন দিয়ে বলয় তৈরির অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন। এজন্যই তার কথা যারা শোনেন না তাদেরকে অব্যাহতির ভয় দেখান যে তার কথা শুনে তাদের অব্যাহতি আবার তুলে নিয়ে। তিনি চাইলে অব্যাহতি দিতে পারেন, আবার প্রত্যাহারও করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি কাউন্সিলর হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে দল থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে নাজিরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এনায়েত হোসেনকেও। কারণ তারা তার ( চুন্নু মিয়ার) রাজনীতি করেন না, বা তারা তার পকেট কমিটির লোক না।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি হাই কমান্ড বা কেন্দ্রীয় কমিটি যেখানে তারা দলের নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত ও ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছেন সেখানে দুই মাসের মধ্যেই একজনকে দল থেকে বহিষ্কার করে আবার দলে পুনরায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে কার ইশারায়। এ জবাব কে দিবে, দায়ভার কার, বারবার অভিযোগ করছেন এখানের নেতা কর্মীরা।বাউফল উপজেলা বিএনপি'র রাজনীতি তিনটি দলে তিনটি ধারায় বিভক্ত। একজন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ দপ্তর সম্পাদক মনির হোসেন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ফারুক আহমেদ তালুকদার এবং সাবেক এমপি শহিদুল আলম তালুকদার নিয়ন্ত্রিত একটি বৃহৎ অংশ। বাউফলের প্রাণ কেন্দ্রে ২ নেতার আধিপত্য থাকলেও সিকি ভাগও অবস্থান নাই মনির হোসেনের। এ কারনেই বিএনপি'র ত্যাগী নেতাদের হালছাড়া ভাব আর মাঠ দখলে নিয়ে সভা সমাবেশে ব্যস্ত বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী বাউফল উপজেলা। আর এই দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জামায়াত ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম মাসুদ। বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ দপ্তর সম্পাদক মনির হোসেনের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ক্ষমতা এবং তার পিতা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আ: রশিদ চুন্নু মিয়ার ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাবেক এমপি শহিদুল আলম তালুকদার আর ফারুক আহমেদ তালুকদারের নেতাকর্মীদের কোণঠাসা রেখে নিজের আধিপত্য বজায় রাখছেন। উদাহরণস্বরূপ সূর্যমনি ইউনিয়ন বিএনপি'র সভাপতি মনিরুজ্জামান হাওলাদার ৫ আগস্টের পরে সাংবাদিক সম্মেলন করেন তার সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব জোমাদ্দারের বিরুদ্ধে।কিন্তু মাহবুব জোমাদ্দার মনির হোসেনের লোক হওয়ায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেননি।
সাধারণ নেতা কর্মীদের প্রশ্ন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় যেভাবে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছেন সেখানে সারা বাংলাদেশের মধ্যে এই প্রথম প্রত্যাহার তারেক রহমানের পদক্ষেপকে কি প্রশ্নবিদ্ধ করেনি? এ বিষয়ে পদ বঞ্চিত নেতা পৌর বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবির বলেন, ইতিমধ্যে ইউনিয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদকের পদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে সেক্ষেত্রে দলের ভাবমূর্তি রক্ষার্থে ও দলকে চাঙ্গা করতে বাউফল উপজেলা ও পৌর কমিটি থেকে অব্যাহতি পাওয়া নেতাদের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে তাদের দলে পুনর্বহাল করে থমকে যাওয়া কার্যক্রম বেগবান করা হবে আশা করছি।
এবিষয়ে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আপেল মাহমুদ ফিরোজ বলেন, কালিশুরী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের অব্যাহতি যাচাই বাছাই করে তুলে নিয়ে পুর্নবহাল করা হয়েছে। বাকিদের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেইনি। বাউফল উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আ. জব্বারের মুঠোফোনে একাধিক বার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ না করায় তার কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।