বিশেষ প্রতিবেদক ভোলা'র দৌলতখান উপজেলায় দু পক্ষের সংঘর্ষে মো. আসিফ হোসেন (২০) নামের এক কলেজ কলেজ ছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরো ৬ জন।
গতকাল সোমবার (১১ মার্চ) রাতে উপজেলার চর খলিফা ইউনিয়নের কদমতলা এলাকা সংলগ্ন নুরু মিয়ার ঝালমুড়ির দোকানের সামনে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত আসিফ চরখলিফা ৬ নং ওয়ার্ডের মো. বাবুল মিয়ার ছেলে,সে স্থানীয় একটি কলেজের শিক্ষার্থী।
এ ঘটনায় আহতরা হলেন- একই ওয়ার্ডের মো. দুলাল, বাবু, রাসেল, মিরাজ, আমজাদ ও আব্দুল হান্নান। আহতদের দুইজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ৪ জনকে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনা ঘটার পরে রাতেই ভোলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনার খবর পাওয়া গেছে। ওই এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, অভিযুক্ত রা সবাই কিশোর বয়সের ছেলে, অল্প কযেকদিন আগে দৌলতখানের পৌরসভায় কিশোর গ্যাং কর্তৃক একটি হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়। এর রেশ কাটতে না কাটতে ফের দৌলতখানে হত্যার ঘটনা ঘটলো। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।প্রশাসন যদি একটি ঘটনা ঘটার পর যথোপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করতো তাহলে এমন ঘটনা ঘটতো না,তারা আরো জানান দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পুড়ো জেলায় কিশোর গ্যাং ছড়িয়ে পড়ার সম্ভবনা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরখলিফা ইউনিয়নের কদমতলা নূরু মিয়ার দোকানে পার্শ্ববর্তী এলাকার সালেম মিয়ার মেয়ে স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থী সুবর্ণা আক্তার (১৭) ঝালমুড়ি খেতে যায়। তখন নিহত আসিফের ভাই আমজাদ ওই সুবর্ণা আক্তার কে উত্যক্ত করার অভিযোগে দু'পক্ষের মধ্যে সন্ধ্যার দিকে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে তার ঘন্টা ক্ষানেক পরে সন্ধ্যা ৭ টার দিকে সুবর্ণা আক্তারের ভাই কবির, আহাদ, শামীম ও তাদের বন্ধু বান্ধব ৮/১০ জন মিলে নিহত আসিফ, রাসেল ও আমজাদের ওপর অতর্কিত হামলা করে কুপিয়ে জখম করে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে দৌলতখান উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক অবস্থা আশষ্কাজনক দেখে ভোলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন, সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আসিফকে মৃত ঘোষণা করেন। অভিযুক্ত কবির, আহাদ চরখলিফা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড সালেম মিয়ার ছেলে।
এ বিষয়ে দৌলতখান থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) সত্যরঞ্জন খাসকেইল কে মুঠোফোনে কল করে পাওয়া না গেলে এরশাদুল হক ভুইয়া ওসি (তদন্ত)র সাথে কথা হলে তিনি জানান, মেয়েলি বিষয় নিয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আমরা কাজ করছি। পরবর্তীতে আপনাদেরকে বিস্তারিত জানাবো।