বরিশালে মসজিদ কমিটি নিয়ে ফেসবুকে তোলপাড়, হত্যা মামলার আসামী সভাপতি!
ডেস্ক প্রতিবেদক/// বরিশাল ষ্টিমার ঘাট জামে মসজিদের পূর্বের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা, নতুন কমিটিতে বরিশালের আলোচিত শিরিন হত্যা মামলার ৬ নং আসামী আলাউদ্দিন আলো সভাপতি হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
গত (১৬) ফেব্রুয়ারী শুক্রবার জুম্মাবাদ মুসল্লীদের উপস্থিতিতে নগরীর ১০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো: জয়নাল আবেদীন আগের কমিটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করেন।
তথ্য সুত্রে জানাযায়,গত(২৯ জানুয়ারি) ১০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ জয়নাল আবেদীন এর অফিসিয়াল
স্বাক্ষরীত প্যাডে, স্টিমারঘাট জামে মসজিদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে দরখাস্ত পাঠান। সেখানে উল্লেখ থাকে যে, পুরাতন কমিটি বাতিল নতুন কমিটি গঠন করার গ্রহণ ১০ নং ওয়ার্ড স্টিমার ঘাট জামে মসজিদ এর বর্তমান কমিটি ভেঙে মসজিদের আয় ব্যয় হিসাব সহ ১০ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কার্যালয় প্রেরণ করার জন্য অনুরোধ করেন।
এছাড়াও (১৫ ফেব্রুয়ারী) স্বাক্ষরীত প্যাডে উল্লেখ করেন, জুম্মা'র নামাজ শেষে স্টিমারঘাট জামে মসজিদের আয়-ব্যয় সম্পর্ক আলোচনা ও মসজিদের কমিটি সকল সদস্য বৃন্দকে উপস্থিত থাকিয়া মসজিদের আয়-ব্যয় প্রেরণের অনুরোধ করা গেল।
হঠাৎ করে মসজিদ কমিটির বিলুপ্ত ঘোষণা করায় স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলেন, গত ৬/৪/২০২৩ তারিখে বারিশাল সিটি করপোরেশন সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ প্রধান উপদেষ্টা হয়ে ৫ বছর মেয়াদী ১৮ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেন।
স্থানীয় মুসল্লীদের দাবি,স্টিমারঘাট জামে মসজিদ কমিটিতে সিটি মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ (খোকন সেরনিয়াবাত)কে প্রধান উপদেষ্টা করে সকলের সমন্বয়ে সৎ এবং সামাজিক ব্যক্তিত্ব বান লোক ধারা নতুন কমিটি গঠন করলে ভালো হতো।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মসজিদ কমিটির সদস্য বলেন, মসজিদ কমিটিতে ১৩ বছর সভাপতি ছিলেন বরিশাল সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সাইদুর রহমান রিন্টু ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ১০ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এটিএম শহিদুল্লাহ কবির,তখন মুসুল্লিদের ভিতর কোন রকম সংশয় ছিলো না। এখন কেন এমন হয় আমি নিরহ মানুষ আর কিছু বলবো না।
পুরাতন কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণার পরই শিরিন হত্যা মামলার আসামি, অসৎ ব্যবসায়ী,নারী লোভী, মসজিদের টয়লেটে দাড়িয়ে প্রসাবকারী, নামাজের সময় যান আসতে আছি বলে না যাওয়া ব্যক্তি, সমাজ ও আইনের দৃষ্টিতে ঘৃণিত ব্যক্তিকে নতুন কমিটির সভাপতি হিসাবে আসায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বরিশাল নগরীর বিভিন্ন মহলে এনিয়ে আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
স্টিমারঘাট জামে মসজিদের রাতের আঁধারে বর্তমানে ২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয় সভাপতি আলাউদ্দীন আলো ও সাধারণ সম্পাদক ১০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ জয়নাল আবেদীন।
অনুসন্ধানে জানা যায়,ষ্টিমার ঘাট জামে মসজিদ এর আওতায় ছোট-বড় ২০০টিরও বেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। মসজিদ ফান্ডে রয়েছে ইসলামী ব্যাংকে কোটি টাকা। তাই অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে মসজিদের টাকা আত্মসাৎ করতে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মসজিদ মার্কেটের ইলেকট্রনিক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুবক বলেন, গত রবিবার (৩ মার্চ)রাতে এশার নামাজ জামাতে আদায় করার পরে, আমি রাত পৌনে নয়টার সময় মসজিদের মেম্বারের সামনে বসে কি যেন বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে, আমি সেখানে মসজিদের একজন মুসুল্লি হিসাবে বসতে চাইলে নতুন কমিটির লোকজন ও সভাপতি আমাকে মসজিদ থেকে বের করে দেয়। পরবর্তীতে খোজ নিয়ে জানতে পারি যে নতুন কমিটির পরিচিতি সভা থাকায় বাহিরের মুসল্লীদের মসজিদে অবস্থান করতে দেওয়া হয় নি।
স্টিমার ঘাট ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক মো: নুরুল আমিন কায়েস বলেন, আমি রাজনীতি করি। কিন্ত আমি চাই মসজিদ রাজনীতি মুক্ত থাকুক। সৎ ও যোগ্য ব্যক্তি কমিটিতে আসলে মসজিদের উন্নয়ন হবে। এছাড়াও তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং মুসলিমদের না জানিয়ে স্টিমারঘাট জামে মসজিদের কমিটি গঠন করা হয়েছে। যারা দায়িত্ব নিয়েছেন নামাজের সময় বলেন আপনারা জান আমি আসতে আছি। এধরণের লোকজনকে কমিটির সভাপতি করায় ফেসবুকে খোপ প্রকাশ করেন।
স্টিমার ঘাটের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মুনসুর উদ্দিন বলেন এই মসজিদ প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে যারা শ্রম মেধা মানুষের কাছ থেকে টাকা তুলে মসজিদ নির্মাণ করেন তাদের এবং তাদের পরিবারের কাউকে সদস্য ও রাখা হয়নি।
কমিটি গঠন করার আগে সাংবাদিকদের সাথে বলেন সাবেক কমিটির সহ-সভাপতি মো: সাদিক হোসেন বলেন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কায়েম করা সৎ মানুষ মসজিদ কমিটিতে আসলে বির্তক হবে না।সিটি মেয়র এমনটাই করবেন বলে মনে করি।
মোটর সাইকেল শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি মো: মোসলেউদ্দিন মানিক বলেন, মসজিদ আল্লাহর ঘর। ব্যবসায়ীদের মধ্যে যে সৎ এবং এই মসজিদেই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে। এবং মসজিদের জন্য ভাল-মন্দ কাজ বুঝবে, তাদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠন হলে ভাল হবে।
হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী মো: দিদারুল ইসলাম বলেন, ত্রাস কমিটি গঠন হবার পায়তারা চলছে। কেননা অনেকেই জোর জুলুম করে কমিটিতে আসতে চায়। তবে সিটি মেয়র একটি সুন্দর কমিটি উপহার দিবে এটাই কামনা করি।
এছাড়াও আলাউদ্দীন আলো' বর্তমান মেয়র আবুল খায়ের আবদুল্লাহ (খোকন সেরনিয়াবাত) স্ব'পরিবার ওমরাহ হজ্ব পালন করতে সৌদি ফ্লাইটের টিকিট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করে মেয়রের বদনাম করার চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়েছে। এছাড়াও তিনও বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর নাম ভাংগিয়ে গত পাচ বছর নগরীতে ব্যবসা পরিচলনা করেন যখন সাদিক আব্দুল্লাহ মেয়র নমিনেশন পায়নি তখন পাল্টি মেরে নতুন মেয়র এর কাছে গিয়ে নতুন মেয়রকে ভুল বুঝিয়ে ঐতিহ্যবাহি স্টিমার ঘাট মসজিদের সভাপতি পদ ভাগিয়ে নিয়ে যায় বলে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা চলছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্টিমার ঘাটের একাধিক ব্যবসায়ী বলেন নতুন কমিটি মানার মতো না সভাপতি হিসাবে বরিশাল মহানগর আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব মাহামুদুল হক খান মামুন কে দাবি করে কিন্তু দাবি জানানোর কোন যায়গা পাচ্ছে না, তারা বলেন আমরা কার কাছে দাবি জানাবো, এক প্রশ্নের জবাবে বলেন আমরা সুযোগ পাইলে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আমাদের নগর পিতা আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাতের কাছে আমাদের দাবি জানাবো।
এবিষয়ে মসজিদ কমিটির বর্তমান বিতর্কিত সভাপতি মো: আলাউদ্দিন আলোর মুঠোফোনে একাধিক বার কল দিলে রিসিভ করেনি।