জনি আলমগীর ,কুয়াকাটা,( পটুয়াখালী ) প্রতিনিধিঃসাপ্তাহিক দুই দিনের ছুটিকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে ভীড় জমিয়েছে হাজারো পর্যটক। আগত পর্যটকরা সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের সঙ্গে মিতালীতে মেতেছেন। কেউ কেউ সমুদ্র সৈকতের বেঞ্চিতে বসে উপভোগ করছেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। এছাড়া তিন নদীর মোহনা, ঝাউবন, শুটকী পল্লী, গঙ্গামতী ও লাল কাকড়ার চড়েও রয়েছে পর্যটকদের বাড়তি উপস্থিতি। মৌসুমের শেষের দিকে পর্যটকদের এমন বাড়তি উপস্থিতিতে হাঁসি ফুটেছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মুখে। বিক্রি বেড়েছে খাবার হোটেল ও আবাসিক হোটেলে। পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছে এ বছরের সবচেয়ে বেশি পর্যটক হয়েছে আজকে।আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় তৎপর রয়েছে ট্যুরিষ্ট পুলিশ।
সমুদ্র সৈকতে দাড়িয়ে সূর্যোদয় সূর্যাস্ত অবলোকনের পর পর্যটকরা ছুটে যান রাখাইনদের আদি কুয়া অথবা রাখাইন পল্লিতে। কুয়াকাটার জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন রয়েছে নজরকাড়া প্যাগোডা। এই প্যাগোডা তথা শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধবিহার সংলগ্ন বেড়িবাঁধের পাশে রয়েছে দু‘শ বছরের প্রাচীনতম নৌকা। রাখাইন মহিলা মার্কেট, মিশ্রিপাড়ায় অবস্থিত এশিয়ার সর্ববৃহৎ সীমা বৈদ্ধ বিহার। ইকোপার্ক, লেম্বুরচর, শুটকিপল্লি সহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় স্থান। পর্যটকদের বাড়তি বিনোদনে জন্য সমুদ্রপথে ট্যুরিস্ট বোট এর মাধ্যমে বিভিন্ন দ্বীপ ও বনাঞ্চল ভ্রমণ করেন পর্যটক। কেউ বিচে ছাতার নিচে বসে সাগরের জল আর সূর্য রশ্নির রঙ্গিন খেলায় মেতে উঠা অপরূপ দৃশ্য অবলোকন করে।
সকাল থেকেই পর্যটকবাহী গাড়িতে কানায় কানায় পূর্ণ কুয়াকাটার পর্যটক পার্কিং গুলো। রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ নানা কারণে দীর্ঘদিন পর্যটক শূন্য ছিলো পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা। তবে শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি ) সকাল বেলার শীতের রেস কাটতে না কাটতেই সৈকতের পানিতে গোসল ও উল্লাসে মেতেছে হাজারো পর্যটক। রেকর্ড সংখ্যক পর্যটকের আগমনে অনেকটা উচ্ছ্বসিত ব্যবসায়ীরা।এদিকে আগতদের সার্বিক নিরাপত্তায় মাঠে ট্যুরিষ্ট পুলিশের তৎপরতা লক্ষ করা গেছে।
ঢাকা থেকে আসা মুনির হোসেন বলেন, একই স্থানে দাড়িয়ে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত উপভোগ করার দৃশ্য একমাত্র কুয়াকাটায় যা সত্যিই আনন্দ দায়ক।একসঙ্গে এত মানুষ এর আগে দেখিনি।যদিও এর আগে আমরা দুইবার এসেছি। কুয়াকাটায় একসঙ্গে এতবেশী পর্যটক দেখে বেশ ভালোই লাগছে। তবে কুয়াকাটার রেস্টুরেন্ট গুলোর খাবারের মান আরো ভালো করা দরকার।
কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট বোট মালিক সমবায় সমিতির, সভাপতি জানি আলমগীর বলেন,দীর্ঘদিন পর এতো বেশি পর্যটক দেখে ব্যবসায়ীরাও অনেকটা উচ্ছ্বসিত। এভাবে প্রতিনিয়ত সৈকতে পর্যটক থাকলে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা পেছনের লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবো। ইতিমধ্যে কুয়াকাটার হোটেল- মোটেল রিসোর্ট গুলো শতভাগ বুকিং হয়েগেছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাহাত গাওহারি জানান, ‘পর্যটকদের আগমন ও স্থানীয়দের পদচারনা নিরাপদ করতে পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকধারী পুলিশ আইন শৃংখলা রক্ষায় নিয়োজিত রয়েছে। তাছাড়া হোটেল-মোটেলের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য আলাদা সিভিল টিম রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সৈকতজুড়ে বাড়তি নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে’।####
জনি আলমগীর কুয়াকাটা