প্রতিনিধি বাউফল :: পটুয়াখালীর বাউফলে, বাউফল সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আলী আজম খান নামে এক শিক্ষক দুই পদে চাকরি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জানা গেছে, বাউফল উপজেলা সরকারী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১৯৯৬ সালে কৃষি শিক্ষা পদে যোগদান করে চাকরি করে আসছেন।
২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত সরকার ক্ষমতায় আসলে তৎকালীন সংসদ সদস্য শহিদুল আলম তালুকদার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে সরিয়ে তাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ দেন।
পদের অযোগ্য হওয়ায় কৃষি পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ নিলেও বয়স না হওয়ায় বিল করাতে পারেননি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা এমপিও নীতিমালার ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, বেতন-ভাতাদির সরকারি অংশ প্রাপ্তির জন্য শিক্ষক-কর্মচারীরা একই সঙ্গে একাধিক স্থানে চাকরিতে বা আর্থিক লাভজনক কোনো পদে নিয়োজিত থাকতে পারেন না।
যোগদানের পরে স্কুল শিক্ষকদের সাথে অশালীন আচারণ ও প্রকাশ্যে একই বিদ্যালয়ের শিক্ষকের গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগে এবং প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগে স্কুল কমিটি কতৃপক্ষ তাকে দু'বার বহিষ্কার করেন।
২০২০ সালে কিডনী, হার্ট ও ডায়াবেটিস সমস্যা দেখিয়ে স্কুল কমিটির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। স্কুল কমিটির সুপারিশে পুনরায় সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন। এই পদে বিল না হওয়ায় তিনি সহকারী শিক্ষক (কৃষি) পদে বিল তোলেন যাহা সম্পূর্ন বেআইনী।
কৃষি পদে শিক্ষক নিয়োগের জন্য দুই বার বিজ্ঞাপন দিয়ে বোর্ড গঠন হলেও অদৃশ্য কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি।
বিদ্যালয়ের আওয়ামী লীগের সমর্থক শিক্ষকদের সাথে অশালীন আচরণ করেন এবং তাদেরকে নিয়ে কুরুচিপূর্ন মন্তব্য করেন। ব্যঙ্গকরে নৌকা নৌকা বলে তিরস্কার করেন এবং বিএনপি ক্ষমতায় আসলে দেখে নেওয়ার প্রকাশ্যে হুমকি প্রদান করেন। শিক্ষকদের এসিআর এর ভয় দেখান এবং প্রত্যেককের চাকরি খাওয়ার হুমকি প্রদান করেন।
অভিযুক্ত আলী আজম খান দুই পদে কিভাবে চাকরি করেন। এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ আমি এক পদে চাকরি করি, এক পদেই বেতন নেই।
বিদ্যালয়ের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: বশির গাজী জানান, সরকারী স্কুলের একজন শিক্ষক তার নির্দৃষ্ট পদে বেতন তুলবেন। এক পদে চাকুরী করে অন্য পদের বেতন উঠালে সেটা নিশ্চয়ই অনিয়ম। বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা হবে।