হাসনাইন আহমেদ:ভোলা জেলায় শুরু হয়েছে শীতের আমেজ। গত কয়েকদিন ধরে শিশির ভেজা সবুজ প্রান্তর শীতের আগমনী বার্তা জানান দিচ্ছে। শেষ রাত, ভোর বেলা ও বিকালের পর থেকেই শীত অনুভত হচ্ছে দক্ষিণের এই জেলা ভোলায়। সন্ধ্যার পর অনেকেই শীতের পোষাক গায়ে জড়িয়ে বের হচ্ছেন। রাত বাড়ার সাথে সাথে কমতে থাকে তাপমাত্রা। তবে শহরের তুলনায় চরাঞ্চল সহ নদী তীরবর্তী এলাকায় শীতের প্রকোপ বেশি রয়েছে। শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় শীতের ঐতিহ্য ভাপা পিঠাসহ বিভিন্ন পিঠা বিক্রি করতে দেখা গেছে মৌসুমি বিক্রেতাদের। প্রস্তুত করা হচ্ছে ফুটপাতে শীতের পোষাক বিক্রি করার স্থান এবং শীতের জনপ্রিয় পিঠা তৈরির আমেজ।
এদিকে শীতের আগাম বার্তা জানান দিয়ে বিভিন্ন স্থানে ভাপা পিঠা বিক্রি করছে ভ্রম্যমাণ বিক্রেতারা। সন্ধ্যার পর হিমেল হাওয়ায় অস্থায়ী এসব দোকানে বিভিন্ন বয়সের মানুষ পিঠার স্বাদ নিতে ভিড় করছে। প্রতিবছরের মতন ফুটপাতে শীতের পোষাক বিক্রি করতে তাবু টানানোসহ অনান্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বিক্রেতারা। বিভিন্ন বিপনীবিতানগুলোতেও শীতের পোষাক উঠতে শুরু করছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় শীতের খেজুরের রস সংগ্রহের জন্য গাছ পরিস্কার করা শুরু করেছেন খেজুর গাছিরা। কোথাও কোথাও গাছে হাড়ি বাঁধাও দেখতে পাওয়া যাচ্ছে।
এক পিঠা বিক্রেতা মফিজ মিয়া বলে, শীত আসলে আমরা পিঠা বিক্রি শুরু করি এবং কিছু বেঁচা বিক্রি হয়, তা দিয়ে আমাদের সংসার চলে। শীতের সময় মানুষ একত্র হয়ে খুব মজা করে এ পিঠা খায়, আর শীতের শুরুতে আমার পিঠা বিক্রি ভালো হয়। তাই আমরা শীত আসলেই পিঠা বিক্রি শুরু করি।
ভোলা আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক মো: মনিরুজ্জামান বলেন, জেলায় সাধারণত নভেম্বরের শুরু থেকেই শীতের আবহাওয়া বিরাজ করে। এবছরও তাই হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে শীত পড়ছে উপকূলের এই জেলায়। ভোরের দিকে হাল্কা কুয়াশায় ছেয়ে থাকে চারপাশ। কিছুদিনের মধ্যে পুরোদমে শীত পড়া শুরু হবে বলে জানান তিনি।