অনলাইন নিউজ ডেস্ক :: শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়েছে শেবাচিম হাসপাতালে জনবল নিয়োগ ইস্যুতে গঠিত তদন্ত কমিটির বরিশাল সফর। আগামী সপ্তাহে বরিশাল আসছে তদন্ত কমিটি। গতকাল বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মোঃ মুহিবুর রহমান। তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও এত দিন করোনা পরিস্থিতির কারনে সরেজমিন তদন্ত করা সম্ভব হয়নি। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী সপ্তাহেই বরিশালে তদন্ত টিম প্রেরন করবো। গত ১৪ জুন শেবাচিম হাসপাতালে জনবল নিয়োগে দূর্নীতির অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতার কারনে দীর্ঘ আড়াই মাসেও বরিশাল সফরে আসতে পারেনি তদন্ত কমিটি। জানা গেছে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের একজন যুগ্ম সচিবকে প্রধান করে ওই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সুষ্ঠ তদন্তের স্বার্থে কমিটি প্রধানের নাম প্রকাশ না করা হলেও প্রয়োজনে কমিটিতে সদস্য সংখ্যা বাড়াতে পারবেন কমিটির প্রধান।
এর আগে জনবল নিয়াগে অনিয়ম দূর্নীতি হয়েছে এমন সন্দেহ প্রকাশ করে মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ে সুপারিশ করেন হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি। তারপরও দীর্ঘ ৩ মাস ধরে ঝুলে ছিলো কমিটি গঠন প্রক্রিয়া। বিষয়টি গনমাধ্যমে প্রকাশিত হলে শেষ পর্যন্ত মধ্য জুনে তদন্ত কমিটি গঠন করে মন্ত্রনালয়।
তথ্য মতে, বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১২টি ক্যাটাগরিতে ৩য় শ্রেণীর ৩২ জন কর্মচারী নিয়োগের জন্য গত বছর ২৩ ডিসেম্বর একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি প্রায় ৭০০ আবেদনকারীর অংশ গ্রহণে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষায় ৪৪৪ জনকে উত্তীর্ণ দেখিয়ে ৬ ফেব্রুয়ারি ফলাফল প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারীর সন্তান ও স্বজন জালিয়াতি করে এই নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে বলে অভিযোগ ওঠে। একই সাথে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওইদিন পরীক্ষার হলে তাদের পছন্দের প্রার্থীদের নকল সরবরাহ করে বলে অভিযোগ করা হয়। এই অভিযোগে গত ৯ ফেব্রুয়ারি হাসপাতালের তৎকালীন পরিচালক ডা. বাকির হোসেনসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে বরিশাল সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন দুই পরীক্ষার্থী। এরপরও নিয়োগ কার্যক্রম চলমান রাখায় তারা ওই নিয়োগ কার্যক্রম বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে সোমবার ১৫ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি একে-এম শহীদুল হকের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের একক বেঞ্চ কেন এই নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল হবে না জানতে চেয়ে রুল জারীর নির্দেশ দেন। একই সাথে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া ৬ সপ্তাহের জন্য স্থগিতের নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞার পরেও হাসপাতাল পরিচালক মৌখিক পরীক্ষা শেষ করে ২৬ জনকে চূড়ান্ত ভাবে নিয়োগ প্রদান করেন। নিয়োগ কার্যক্রম শেষ করে মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে অবসরে যান হাসপাতাল পরিচালক ডা. বাকির হোসেন। অভিযোগ রয়েছে নিয়োগের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া নিজের স্বেচ্ছাচারিতায় করেছেন তৎকালীন পরিচালক। অর্থের বিনিময়ে নিজের পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ প্রদান করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।