অনলাইন ডেস্ক : করোনা মহামারীর লকডাউনের দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে বুধবার রাতের প্রথম প্রহর থেকে দক্ষিণাঞ্চলের সাথে রাজধানীর নৌ-যোগাযোগ পুণপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বে-সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করলেও রাষ্ট্রীয় নৌ-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের তৎপরতা এখনো সীমিত।
দুটি নতুন ও চারটি পুরনো প্যাডেল জাহাজ সচল থাকার পরেও বিআইডব্লিউটিসি ঢাকা থেকে চাঁদপুর ও বরিশাল হয়ে বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ পর্যন্ত সপ্তাহে মাত্র চারদিন ‘রকেট স্টিমার সার্ভিস’ চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এ সার্ভিসটিও চালু করা হচ্ছে ব্যয়বহুল স্ক্রু-হুইল জাহাজ ‘এমভি মধুমতি’ ও ‘এমভি বাঙালী’র সাহায্যে।
অতীতে এসব নৌযানে প্রতি ট্রিপে সংস্থাটিকে লোকসান গুনতে হয়েছে তিন থেকে সাড়ে তিনলাখ টাকা করে। সূত্রমতে, করোনা মহামারীর কারনে গত বছরের মার্চ মাসের মধ্যভাগ থেকে রাজধানীর সাথে দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীবাহী নৌ-যোগাযোগ বার বারই বন্ধ করে দিতে হয়েছে।
সর্বশেষ গত ২৭ মার্চ থেকে এসব সার্ভিস পুনরায় বন্ধ করার পর ঈদ-উল আজহার সময় তিনদিন সর্ভিসটি চালু হলেও তা আবার বন্ধ করে দেয়া হয়। তবে সরকারী নির্দেশনার আলোকে বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে বিআইডব্লিউটিসি’ও তার কথিত রকেট স্টিমার সার্ভিসটি চালু করতে যাচ্ছে। তবে এ সার্ভিস চলবে সপ্তাহে মাত্র চারদিন। সার্ভিসটি নিয়মিত পরিচালনে চারটি নৌযানের প্রয়োজন হলেও সংস্থাটির হাতে বর্তমানে ছয়টি নৌযান রয়েছে।
মূলত দীর্ঘদিন মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষন বিহীন প্যাডেল জাহাজ ‘পিএস লেপচা’ ও পিএস টার্ণ’ জাহাজ দুটি নিয়ে সংস্থার বাণিজ্য ও কারিগরি পরিদপ্তর ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেনা। তবে এসব নৌযানে ১৯৯৬ ও ২০০২ সালে নতুন ইঞ্জিন সংযোজনের পর অদ্যাবধি কোন ‘মেজর ওভারহলিং’ হয়নি। এমনকি গত ১৫ বছরে ব্যয় সাশ্রয়ী নৌযান দুটির উপরিকাঠামো এবং হালেরও কোন যথাযথ রক্ষণাবেক্ষন হয়নি। ফলে ঝড়ঝঞ্ঝার মৌসুমে বাধ্য হয়েই তিনগুন পরিচালন ব্যয়ের এমভি মধুমতি ও এমভি বাঙালী জাহাজ দুটি সপ্তাহে চারদিন যাত্রী পরিবহনে দিচ্ছে সংস্থাটি।
এ রুটের অপর নৌযান ‘পিএস মাহসুদ’ মেরামতের নামে যাত্রী পরিবহনের বাইরে বিগত প্রায় সোয়া দুই বছর। গত এপ্রিল মাসের শেষভাগে নৌযানটি মেরামতের জন্য সংস্থার ডকইয়ার্ডে নেয়া হলেও কবে যাত্রী পরিবহনে ফিরবে তা বলতে পারছেন না কেউ। সংস্থাটির ঐতিহ্যবাহী ‘পিএস অষ্ট্রিচ’ জাহাজটি যাত্রী পরিবহন থেকে প্রত্যাহার করে বছর পাঁচেক আগে বিনা দরপত্রে এক ব্যক্তিকে দীর্ঘ মেয়াদী ইজারা প্রদান করা হয়।
অপরদিকে রেলওয়ে থেকে ভর্তুকি মূল্যে সংগ্রহ করে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয় করে পূণর্বাসনের পরেও ‘এমভি সোনারগাঁ’ নামের অপর যাত্রীবাহী নৌযানটিও এক ব্যক্তি ইজারা নিয়ে রাষ্ট্রীয় অপর একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দিয়েছেন। সংস্থাটির জন্য আরও দুটি স্ক্রু-হুইল নৌযান তৈরীর কাজ বছর পাঁচেক আগে শুরু করা হলেও কবে তা শেষ হবে তা বলতে পারছেন না সংস্থাটির দায়িত্বশীল মহল।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কারিগরি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সংস্থাটির হাতে থাকা চারটি প্যাডেল জাহাজের মূল ইঞ্জিনসমুহ ‘মেজর ওভারহলিং’সহ এর উপরিকাঠামো ও হালসমুহ পরিপূর্ণ মেরামত করা হলে এসব নৌযানের সাহায্যে লোকসান এড়িয়ে কমপক্ষে আরও ২০ বছর রাজধানীর সাথে দক্ষিণাঞ্চলের নিরাপদ যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হবে।