এস এল টি তুহিন :: ঈদ উল আজহাকে সামনে রেখে কঠোর লকডাউন শিথিল করার প্রেক্ষিতে দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক, নৌ ও আকাশ যোগাযোগ ব্যবস্থা আজ সকাল থেকে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে। তবে ঐদিন সকাল থেকে দক্ষিণাঞ্চলের অভ্যন্তরীন প্রায় ৩০টি রুটে নৌ যোগাযোগ চালু হলেও রাজধানীর সাথে নৌ-পথে যাত্রী পরিবহন শুরু হবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে। দুটি বেসরকারি এয়ারলাইন্স বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বরিশাল সেক্টরে প্রতিদিন ৭টি করে ফ্লাইট পরিচালনের ঘোষনা দিয়েছে মঙ্গলবার বিকেলেই। আর রাষ্ট্রীয় আকাশ পরিবহন সংস্থাটি যথারীতি ১টি ফ্লাইট নিয়েই থাকছে। তবে সংস্থাটি ঈদের আগে রবি ও মঙ্গলবার ও ঈদের পরে বৃহস্পতিবার বরিশাল সেক্টরে দুটি করে ফ্লাইট পরিচালনের কথা জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে শুধু বরিশাল-ঢাকা-বরিশাল নৌ-পথেই অন্তত ২৫টি বেসরকারী যাত্রীবাহী নৌযানে যাত্রী পরিবহন শুরু হবে বলে জানা গেছে। প্রয়োজনে ঈদের পরদিন পর্যন্ত প্রতিদিন ডবল ট্রিপেও ঢাকার সাথে দক্ষিণাঞ্চলের সবগুলো নদী বন্দর সহ গুরুত্বপূর্র্ণ স্টেশনে যাত্রী পরিবহন অব্যাহত থাকতে পারে। তবে রাষ্ট্রীয় নৌ-বানিজ্য প্রতিষ্ঠানটি গত বছরের মত এবারো ঈদের আগে পড়ে কোন বিশেষ সার্ভিসে যাত্রী পরিবহন করছে না। সংস্থাটি বৃহস্পতিবার থেকে ঈদের পরদিন পর্যন্ত নিয়মিত রকেট স্টিমার সার্ভিসে যাত্রী পরিবহন করলেও আগামী শুক্রবার ঢাকা থেকে এবং রোববার বরিশাল থেকে কোন সার্র্ভিস পরিচালনা করছে না। প্রতিবছর ঈদের আগের ৫দিন ও পরের ১০দিন রাজধানীর সাথে দক্ষিনাঞ্চলের অন্তত ১০ লাখ যাত্রী চলাচল করলেও এবার পরিস্থিতি কি হবে তা এখনো বলতে পারছেন না ওয়াকিবহাল মহল। এ সময়ে সব নৌযানই ধারন ক্ষমতার তিনগুন যাত্রী নিয়ে প্রতিদিন ডবল ট্রিপ পরিচালন করলেও এবার নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয় থেকে ধারন ক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে বলা হয়েছে। কিন্তু ঈদে ঘরমুখী জনস্রোত সামাল দিতে সরকারী এ নির্দেশনা কতটুকু পালন করা সম্ভব হবে তা নিয়ে ইতোমধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে। অপরদিকে বরিশালÑঢাকা এবং ভোলা-ঢাকা নৌপথেও দুটি দিবাকালীন ক্যটামেরন সার্ভিসও ডবল ট্রিপে যাত্রী পরিবহন করার কথা রয়েছে। বরিশাল সহ দক্ষিনাঞ্চলের সাথে ঢাকা ছাড়াও উত্তরবঙ্গের সড়ক পথে যাত্রী পরিবহনও শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে। তবে ভয়াবহ করোনা সংক্রমনের কারণে খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের সাথে সড়ক যোগাযোগ স্থগিত রাখার বিষয়টি বিশেষ বিবেচনার তাগিদ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগন। বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর ইতোপূর্বেই খুলনা-যশোর সহ দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তের সাথে সড়ক যোগাযোগ বন্ধে বিভাগীয় কমিশনারকে চিঠি দিয়েছিল।