নিজেস্ব প্রতিবেদন : জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বরিশাল শহরের বছরে (জীবন, জীবিকা ও সম্পদের) ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮০ কোটি টাকা। যা মোট মূল্য সংযোজন উৎপাদনের ৬ শতাংশ। এরমধ্যে সবচেয়ে বড় হচ্ছে আপদ মৌসুমী বন্যা ও ঘুর্ণিঝড়। এখনই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে আগামী ২০৫০ সাল নাগাদ বছরে গড়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান দাঁড়াবে ১৩০ মিলিয়ন ডলার। বরিশালের জলবায়ু বিপদাপন্নতা, অভিযোজন পরিকল্পনা ও উত্তরণের পথ: প্রেক্ষিত তারুণ্যের উদ্যোগ বিষয়ক এক মিডিয়া ডায়লগে উপস্থাপন করা ‘বরিশাল নগরীর বিপদাপন্নতা বিশ্লেষণ ও সম্ভাব্যতা যাচাই’ শীর্ষক সমীক্ষার প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সূত্রমতে, জলবায়ু পরিবর্তনকে অস্তিত্বের সংকট হিসেবে বিবেচনা করে উপকূলীয় জেলা ও শহরগুলোর অভিযোজন ক্ষমতা এবং সহিষ্ণুতা বাড়ানোর জন্য যথাযথ স্থানীয় পরিকল্পনা ও পর্যাপ্ত বরাদ্দের সংস্থান করা দরকার। যথাযথ অভিযোজনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে মোট ক্ষতির ৬০ শতাংশ হ্রাস করা সম্ভব হবে। এরমধ্যে গণমানুষের সচেতনতা ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগের দাবি তুলেছেন বরিশালের তরুণ জলবায়ু কর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। আসন্ন জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনকে ঘিরে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের সহযোগিতায় যুব নেটওর্য়াক ইয়ুথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিস রবিবার বিকেলে এ সংলাপের আয়োজন করে। ব্রিটিশ কাউন্সিলের ইয়ুথ চ্যালেঞ্জ ফান্ড বিজয়ী সোহানুর রহমানের সঞ্চালনায় সংলাপে মূল তথ্যপত্র উপস্থাপন করেন ইয়ুথ ক্লাইমেট অ্যাম্বাসেডর সায়লা শবনম রিচি, হাফিজুল ইসলাম রুম্মন, মাহমুদুল হক মাহিম ও মুনেম শাহরিয়ার। বরিশালে জলবায়ু সংকটজনিত সমস্যা সমূহ চিহ্নিত করণ এবং সমস্যা উত্তরণে তরুণদের ভাবনা শীর্ষক একটি মাঠ নিরীক্ষা প্রতিবেদনের উপরে সংলাপে অর্ধশত গণমাধ্যমকর্মী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও তরুণ জলবায়ু কর্মীরা আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। মূল তথ্যপত্রে বলা হয়, বিশ্ব উষ্ণায়ণ ও ভৌগলিকগত কারনে বরিশাল জেলা ও নগর জলবায়ু পরিবর্তন জনিত বিরূপ প্রভাবের শিকার হচ্ছে। এ প্রভাব সরাসরি এখানে বসবাসকারী মানুষ ও আশেপাশের পরিবেশকে চরমভাবে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। এছাড়াও তাদের দৈনন্দিন স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকেও ব্যহত করছে। তারুণ্যের চোখে জলবায়ু পরিবর্তন জনিতকারনে সৃষ্ট সমস্যা সমূহ হচ্ছে-কীর্তনখোলা নদীতে লবনাক্ততা বৃদ্ধি, নদী ভাঙণের কারনে দারিদ্রতা ও বাস্তুচ্যুতি, সুপেয় পানির সংকট, অত্যাধিক গরম, অসময়ে অতিবৃষ্টি ও অনাবৃষ্টি, জলবায়ু উদ্বাস্তু জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধি, উপকূলীয় অঞ্চলে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি, দারিদ্রতা, বেকারত্ব, বাল্যবিবাহ, অপুষ্টি ও পানিবাহিত রোগের বৃদ্ধি প্রভৃতি। শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির দিক থেকেও বরিশাল পিছিয়ে রয়েছে। যোগাযোগ অবকাঠামোর দিক থেকেও দুর্বল। এসব কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের আঘাত সহ্য করার ক্ষমতা কম। তরুণরা স্থানীয় অভিযোজনের উপর বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের দীর্ঘমেয়াদী রুপকল্প তুলে ধরে সমাধানের পথ হিসেবে নগরীর ড্রেনেজ সিস্টেমের উন্নয়ন, বন্যা সহনশীল বাড়ি নির্মাণ, খাল খনন, বন্যা সহনশীল শস্যের প্রচার, বাঁধ নির্মাণ, আগাম সর্তকবার্তা প্রদান, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইত্যাদির উপর গুরুত্ব দিতে আহবান করেন। এ ব্যাপারে সোমবার সকালে বরিশালের জেলা প্রশাসক মোঃ জসীম উদ্দীন হায়দার বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টির জন্য যে মৌসুমী বন্যা, ঘুর্নিঝড় ও নদী ভাঙন হচ্ছে এতে বরিশালের মানুষ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। প্রকৃতি হুমকির সম্মুখীন দাবি করে তিনি আরও বলেন, আগামীদিনগুলোর জন্য আমাদের সচেতনতা জরুরী। আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে জলবায়ু পরিবর্তনের যে প্রভাব পরছে তা মোকাবিলায় আমাদের উদ্যোগি হতে হবে। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, জাতিসংঘের ২৬তম জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সম্মেলন ক্লাইমেট চেঞ্জ কনফারেন্স চলতি বছরের ১ নভেম্বর থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো শহরে অনুষ্ঠিত হবে। যার সভাপতিত্বে রয়েছে যুক্তরাজ্য। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় জাতিসংঘের ২৬তম জলবায়ু সম্মেলনকে সামনে রেখে বৃটিশ কাউন্সিল বিশ্বব্যাপী তরুণ সংগঠকদের সম্পৃক্ততার জন্য ‘কপ-২৬ চ্যালেঞ্জ ফান্ড’ চালু করে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বরিশালে জলবায়ু বিপদাপন্নতা চিহ্নিত করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার পাশাপাশি স্থানীয় অভিযোজন পরিকল্পনা প্রণয়নে অবদান রাখবে।